১৭ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২রা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

৩৬ বছরেও জাতীয়করণ হয়নি দাগনভূঞার একমাত্র বালিকা বিদ্যালয়

এ কে আজাদ, ফেনী:

মহান কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন,’বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর’। নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের শিক্ষিত জাতি দেবো’। এইভাবে আরও মহান ব্যক্তিরা নারী শিক্ষার গুরুত্ব দিয়ে অনেক বাণী দিয়েছেন। আর সেই নারী শিক্ষার প্রতিষ্ঠান গুলো আজ অবহেলার স্বীকার। তেমনি এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার একমাত্র বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৩৬ বছরেও জাতীয়করণ করা হয়নি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একজন নারী প্রধানমন্ত্রী, সংসদের স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেত্রী, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিও নারী। দেশের নারী শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও ফেনীর দাগনভূঞা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। স্বাধীনতার পর দেশের শত শত নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হলেও উপজেলার প্রথম বালিকা বিদ্যালয়টি কারও নজরে আসেনি। জানা যায়, ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দাগনভূঞা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৮৩ সালে এলাকার নারী শিক্ষার কথা বিবেচনা করে স্থানীয় জনগণের অর্থায়নে বালিকা বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, এটিই উপজেলার এখনও পর্যন্ত একমাত্র বালিকা বিদ্যালয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ৩৬ বছরেও ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যাপীঠে সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এ সময়ে দেশে একের পর এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হলেও সে তালিকায় স্থান পায়নি ফেনী জেলার এ বিদ্যালয়টি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ৩৩ জন শিক্ষক কর্মচারী রয়েছেন। বিদ্যালয়টিতে এক হাজার ৭’শত ছাত্রী অধ্যায়নরত আছে। বিদ্যালয়টির গত বছর জেএসসি পরীক্ষায় শতকরা পাশের হার ৯০% ও এসএসসি পরীক্ষার পাসের হার শতকরা ৮৫%। সহশিক্ষা পাঠাক্রমে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রত্যেক বছর কৃত্বতের সাথে স্বাক্ষর রাখছে বিদ্যালয়টি। চলতি বছর মাধ্যমিক এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ বিদ্যালয়ের অনেক ছাত্রী জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্নভাবে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছেন বলে প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন জানান। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন জানান, উপজেলার এ সুনামধন্য বিদ্যাপীঠে শিক্ষক সংকট রয়েছে। তবে আশার কথা ‘এনটিআরসিএ’ নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। আশা করি এ সংকট কেটে যাবে। ভবন সংকটের কারণে, বিদ্যালয়ে প্রচুর ছাত্রীর পাঠদানে অসুবিধা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের সভাপতি আবুল বাশার ও বিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে গতবছরের একটি তিন তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে একটি বহুতল ভবনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ২০০৭ সালের পর সরকারীভাবে কোন ভবন পায়নি বিদ্যালয়টি। বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী শিক্ষার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা আশা করবো জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের হাতের ছোঁয়ায় উপজেলার নারী শিক্ষার একমাত্র প্রতিষ্ঠানে লাগবে। তিনি আমাদের এ প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করে শিক্ষার মানকে আরো ত্বরান্তি করবেন। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাসিনা আক্তার বলেন, এলাকাবাসীর মহৎ উদ্যোগে ও অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত উপজেলার একমাত্র বালিকা বিদ্যালয় আজও জাতীয়করণ করা হয়নি। মহান স্বাধীনতার পর দেশের শত শত বালিকা বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে। অথচ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কিংবা জাতীয়করণে কারও কোনো দৃষ্টি নেই। প্রতিষ্ঠান ও ছাত্রীরা যেমন অবহেলিত, পাশাপাশি আমরা শিক্ষকরাও অবহেলিত। তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার মহান সেবায় ব্রত হয়ে যোগদান করি। সবসময় আশা করি জাতি গড়ার এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণ হবে। কিন্তু কোনভাবে হচ্ছে না। তাই আমরা শিক্ষকরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে উপজেলার একমাত্র বালিকা বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের ঘোষণা চাই। এদিকে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী সায়মা আফরোজ ও তানজিনা পিয়াস তারিন বলে, আমরা যতটুকু খবর ও পত্রপত্রিকা পড়ি, তাতে শুনি নাই এবং দেখি নাই দেশের এতো বড় একটি বালিকা বিদ্যালয় অবহেলিত ও জাতীয়করণ হয়নি। শুধু আমাদের বিদ্যালয়টি অবহেলিত। তারা বলে, দাগনভূঞা উপজেলায় নয় ফেনীর জেলার সর্বাধিক বড় বালিকা প্রতিষ্ঠান হলো আমাদের বিদ্যালয়টি। এ জন্য আমরা দাগনভূঞা উপজেলার প্রথম ও একমাত্র বালিকা বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতে পেরে নিজেদেরকে গর্বিত মনে করি। কিন্তু যখন অবহেলিত বিদ্যালয়ের করুণ চিত্র দেখি তখন খুব কষ্ট হয়। যে প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩৬ বছর ধরে নারী শিক্ষার উন্নয়নে অবদান রেখে আসছে, কেউ তার খবর রাখেন না। আমরা ছাত্রীরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্ন পূরণে তিনি যেন আমাদের প্রিয় বিদ্যালয়টিকে জাতীয়করণ করেন। আমরা জানি তিনি নারী শিক্ষা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই উন্নয়ন সহযোগী আমরা হতে চাই। তিনি দাগনভূঞা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টিকে জাতীয়করণ করে আমাদের প্রাণের দাবি পূরণ করবেন, আমরা সেই আশা করি। একই দাবি করে বিদ্যালয়টির ১৭০০ ছাত্রীরা।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল বাশার বলেন, বিদ্যালয়টি উপজেলার একমাত্র বালিকা বিদ্যালয় হওয়ার পরও এখনও জাতীয়করণ হয়নি। এটা মানতে কষ্ট হয়। উপজেলার সর্বাধিক বড় প্রতিষ্ঠান এটি। তিনি বলেন, আমি বিদ্যালয়ের বেহাল দশা দেখে দায়িত্ব নিয়ে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছি। বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলে নারী শিক্ষার প্রসারে প্রতিষ্ঠানটি আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এজন্য আমরা এ বিষয় নিয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসক, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্যকেও জানিয়েছি। তিনি আরো বলেন, বিদ্যালয় জাতীয়করণ নিয়ে আমি আমার প্রাণপ্রিয় জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে কথা বলবো। আশা করি তিনি দ্রুত প্রতিষ্ঠানটিকে জাতীয়করণ করে উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি পূরণ করবেন। তিনি আরো বলেন, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সাথে প্রতিষ্ঠানটিকে জাতীয়করণ নিয়ে আলোচনা করবো। আশা করি তিনি আমাদের নিরাশ করবেন না। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. হারুন বলেন ‘ উপজেলার একমাত্র বালিকা বিদ্যালয়টি ৩৬ বছর নারী শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের ও ছাত্রীদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিদ্যালয়ের অনেক কৃতী ছাত্রী পাস করে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ শেষে দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অবস্থান করছেন। দেশের জন্য কাজ করছেন। দাগনভূঞা উপজেলাবাসীর প্রাণের দাবি ঐতিবাহী ও নারী শিক্ষার এ বিদ্যাপীঠকে যেন জাতীয়করণ করা হয়। তিনি এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যথাযথ দৃষ্টি কামনা করেন।

(Visited 1 times, 1 visits today)

আরও পড়ুন

ফজলে রাব্বীর আসনে নৌকার হাল ধরতে চান যারা
মহান জাতীয় শহীদ দিবস শাহাদাতে কারবালা দিবসে ফেনীতে র‍্যালী
মুসলিম মিল্লাতের মহান জাতীয় শহীদ দিবস উপলক্ষে ওয়ার্ল্ড সুন্নী মুভমেন্টের সমাবেশ
মহররম ঈমানী শোক ও ঈমানী শপথের মাস, আনন্দ উদযাপনের নয় – আল্লামা ইমাম হায়াত
এমপির বিরুদ্ধে উপজেলা চেয়ারম্যানকে কিল-ঘুষির অভিযোগ
বঙ্গবন্ধুর সমাধীস্থলে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের শ্রদ্ধাঞ্জলী
অসহায় মানুষের মাঝে মাংস বিতরণ করল ‘জীবন আলো’
নোয়াখালীতে প্রবাসীকে মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ