১লা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ |

ছাগলনাইয়া বর্ডার হাটে আসা দর্শনার্থীদের পণ্য ছিনতাই করে নিচ্ছে বিজিবি

সৈয়দ কামাল, ছাগলনাইয়া:

ফেনীর ছাগলনাইয়া বর্ডার হাটে আসা ক্রেতা দর্শনার্থীদের হাট থেকে কেনা পণ্য নিয়ম বহির্ভূত ভাবে প্রতিনিয়ত কমান্ডো স্টাইলে ছিনতাই করে নিয়ে যাচ্ছে,নেইম প্লেট বিহীন পোষাক পরা বিজিবি সদস্যরা। ১৩ জানুয়ারী ২০১৫ সালে ছাগলনাইয়া উপজেলার ৮ নং রাঁধানগর ইউনিয়নের পূর্ব মধুগ্রাম ও ভারতের শ্রীনগর সীমান্তে এই হাটটি উদ্বোধন হয়।

উদ্বোধনের পর থেকেই বাংলাদেশ অংশে বর্ডার হাটটি সম্পূর্ণ তদারকি করে যাচ্ছে ছাগলনাইয়া উপজেলা প্রশাসন ও বিজিবি। প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবারে বসে এই হাট। বর্ডার হাট পরিচালনায় উভয় দেশের নীতিনির্ধারকদের তৈরী করা নিয় নীতি অনুযায়ী হাটটি বাংলাদেশ অংশে সর্বোচ্চ বছর খানিক পরিচালিত হলে ও বর্তমানে এই হাটটি চলছে, সম্পূর্ণ ভাবে বিজিবি’র তৈরী করা অঘোষিত নিয়মে।উভয় দেশের নীতিনির্ধারকদের তৈরী করা নিয়ম নীতিতে নির্ধারণ করা হয়েছিল, বর্ডার হাটে আসা একজন দর্শনার্থী হাট থেকে সর্বোচ্চ দুইশত মার্কিন ডলার সম মূল্যের পণ্য কিনে নিয়ে যেতে পারবেন।বর্তমানে ছাগলনাইয়ার এই বর্ডার হাটটি বিজিবি’র সহযোগীতায় কালো বাজারিদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হওয়ায়, এই হাটে আসা কোন ক্রেতা দর্শনার্থী সর্বোচ্চ বাংলাদেশী টাকায় দুই হাজার টাকা সম মূল্যের পণ্য কিনে নিয়ে যেতে পারেনা।

এর কারণ হলো দর্শনার্থীদেরকে যদি নিয়ম অনুযায়ী পণ্য কিনে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে বিজিবি’র সাথে কন্ট্রাক্ট করে যে সকল কালোবাজারিরা রাতের আঁধারে ওপার থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার পণ্য পাচার করে নিয়ে আসছে সেগুলি কিভাবে বাজারজাত করবে।

সম্প্রতি ছাগলনাইয়া বর্ডার হাটে দর্শনার্থীদের কাছ থেকে বিজিবি’র পণ্য কেড়ে নেওয়া নিয়ে, বিজিবি ও দর্শনার্থীদের মধ্যে সৃষ্ট সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়জন আহত হয়। এই ঘটনায় বিজিবি বাদী হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৪০/৫০ জনকে আসামী দিয়ে ছাগলনাইয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।

যার কারণে বর্তমানে বিজিবি বর্ডার হাটে আসা দর্শনার্থীদের কাছ থেকে গত দুই তিন হাট বার মূল গেইটে পণ্য কেড়ে নিচ্ছেন না। দর্শনার্থীরা যখন বর্ডার হাটথেকে পণ্য কিনে বের হয়ে কিছু দূর যান, তখন তাদের কাছ থেকে পণ্য কেড়ে নেওয়ার বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করছে বিজিবি। পদ্ধতিটি হলো মোটরসাইকেল নিয়ে নেইম প্লেটহীন পোষাকে থাকা বিজিবি’র কিছু সদস্য বর্ডার হাট থেকে বের হয়ে আসা ক্রেতা দর্শনার্থীদের হাত থেকে কমান্ডো স্টাইলে ছিনতাই করে নিয়ে যাচ্ছে পণ্য গুলি।

গত ১৪ মে মঙ্গলবার বিকাল বেলার ঘটনা ছাগলনাইয়া বর্ডার হাট থেকে সামান্য কিছু পণ্য ক্রয় করে বের হয়ে আসেন, স্থানীয় দুই ক্রেতা দর্শনার্থী। তারা পণ্যের প্যাকেট গুলি হাতে নিয়ে যখন বর্ডার হাট থেকে আনুমানিক এক কিলোমিটার দূরে মোকামিয়া এলাকায় ছাগলনাইয়া-শুভপুর সড়কে উঠা মাত্রই, হঠাৎ ফেনী-ল-১১-২৩৯৩ নাম্বারের ডিসকভার একটি মোটরসাইকেল যোগে নেইম প্লেটহীন পোষাক পরা তিনজন বিজিবি জোয়ান এসে অনেকটা কমান্ডো স্টাইলে ছিনতাই করে ওই দুইজনের হাত থেকে বর্ডার হাট থেকে কিনে আনা পণ্য গুলি ছিনিয়ে নিল। বিজিবি যে দুইজন দর্শনার্থীর হাত থেকে পণ্য গুলি কেড়ে নিল তারা হলেন, ছাগলনাইয়া উপজেলাধীন ৮ নং রাঁধানগর ইউনিয়নের, উত্তর আঁধারমানিক গ্রামের, শংকর কুমার পালের পুত্র, ওমর কুমার পাল ও একই ইউনিয়নের নিজপানুয়া গ্রামের, রবিউল হকের পুত্র, সরোয়ার উদ্দিন সুমন। বিজিবি জোয়ানরা যখন এই দুইজনের কাছ থেকে পণ্য গুলি ছিনিয়ে নিচ্ছিলেন, তখন তারা স্থানীয় জনগণের তোপের মুখে পড়ে দ্রুততার সাথে পণ্য গুলি নিয়ে স্থান ত্যাগ করে চলে যায়। জনগণের প্রশ্ন হল এরা তো বর্ডার হাট থেকে পণ্য গুলি কিনে বিজিবি’র সামনে দিয়ে, বর্ডার হাটের মূল গেইট দিয়ে বের হয়ে এসেছে। ওদের পণ্য গুলি যদি অবৈধ হত বা নিয়ম বহির্ভূবভাবে নিয়ে আসতো তাহলে তো ওদের পণ্য গুলি আপনাদের বিজিবি ওখানেই কেড়ে নিত। আপনারা কি কারণে এদের পণ্য গুলি নিয়ে যাচ্ছেন, জনগণের এমন প্রশ্নের তোপে পড়ে ওই তিন বিজিবি সদস্য দ্রুত স্থান ত্যাগে বদ্য হয়।

অবস্থা দৃষ্টে অনুমান করা যায় সামনের দিন গুলিতে ও যদি বিজিবি সদস্যরা বর্ডার হাটের ক্রেতা দর্শনার্থীদের সাথে এইভাবে অঘোষিত ছিনতাইয়ের মত ঘটনা ঘটায়,তাহলে গত কয়েকদিন পূর্বে বিজিবি ও জনগণের মধ্যে সংঘর্ষের যে,ঘটনা ঘটেছিল তার পূনরায় ঘটতে সময় লাগবে না।

(Visited ৬৭ times, ১ visits today)

আরও পড়ুন

হযরত খাজাবাবা (রঃ) ও জামে আওলিয়া কেরামের পথ পূণরুদ্ধার সম্মেলন অনুষ্ঠিত
বীর মুক্তিযুদ্ধা আব্দুল আলিম এর সহধর্মীনি নুরজাহান বেগম আর নেই
ফজলে রাব্বীর আসনে নৌকার হাল ধরতে চান যারা
মহান জাতীয় শহীদ দিবস শাহাদাতে কারবালা দিবসে ফেনীতে র‍্যালী
মুসলিম মিল্লাতের মহান জাতীয় শহীদ দিবস উপলক্ষে ওয়ার্ল্ড সুন্নী মুভমেন্টের সমাবেশ
মহররম ঈমানী শোক ও ঈমানী শপথের মাস, আনন্দ উদযাপনের নয় – আল্লামা ইমাম হায়াত
এমপির বিরুদ্ধে উপজেলা চেয়ারম্যানকে কিল-ঘুষির অভিযোগ
বঙ্গবন্ধুর সমাধীস্থলে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের শ্রদ্ধাঞ্জলী