৯ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে  আদালতে চার্জশিট দাখিল

ফেনী প্রতিনিধি:

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে ফেনী জেলা দায়রা জজ আদালতে আজ বুধবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে ৮২২ পৃষ্ঠার চার্জশিট( তদন্ত প্রতিবেদন) জমা দিয়েছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তদন্ত প্রতিবেদন বলা হয়, ৬৯ জন পাবলিকসহ ৯২ জনের স্বাক্ষ্য  প্রদানের মাধ্যমে ৮২২ পৃষ্ঠার চার্জশিট ফেনীর আদালতে দাখিল করেন পিবিআই।

তদন্ত প্রতিবেদন, দীর্ঘ এক মাস ১৯ দিনের তদন্তে ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অগ্নিদগ্ধ করে হত্যা, হত্যার পরিকল্পনায় অংশ নেওয়া ও হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। পিবিআই জানান, মাদ্রাসায় অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াতেই নুসরাতকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার নির্দেশ দেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা।

এ ঘটনায় সরাসরি অংশ নেওয়া ৫জনের মধ্যে তিনজনই ছিলেন মাদ্রাসাটির পরীক্ষার্থী। হত্যা মামলায় ১২ আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকারীদের বাঁচানোর আশ্বাস দেওয়া এবং এক আসামির সঙ্গে ফোনালাপের ঘটনায় সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিনকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। ২৬ সেকেন্ডের সে কথোপকথন পিবিআইয়ের হাতে আছে। নুসরাতকে শ্লীলতাহানির ঘটনার পর অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলন থামাতে তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করেন বলে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে।

মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে নুসরাত হত্যার সচিত্র তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন তিনি। ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে আটজন নুসরাত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। ওই ১৬ জন হলেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ (৫৭), গভর্নিং বর্ডির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন (৫৫), নুর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ আলম কাউন্সিলর (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ (১৯), হাফেজ আবদুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা (১৯), আবদুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), মোহাম্মদ শামীম (২০) ও মহিউদ্দিন শাকিল (২০)। তাদের প্রত্যেকেরই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করছে পিবিআই।

হত্যাকারীরা প্রথমে হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে মাদ্রাসার আলেমদের অপমান ও প্রেমে ব্যর্থতার কথা বলেন। কিন্তু  পিবিআই সেটি পাননি। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ওই মাদ্রাসার সব ছাত্রীর স্বার্থে মেয়েটি প্রতিবাদ জানিয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, ছাত্রীদের ওপর বিভিন্ন ধরনের নিপীড়ন নিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন নুসরাত। এ কারণে পরিকল্পনা করে তাকে হত্যা করা হয়। ১৬ জনই বিভিন্নভাবে লাভবান হয়েছেন।পিবিআই জানান, চারটি দল হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। একটি দলে ছিলেন অধ্যক্ষ সিরাজ, যিনি হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। আরেক দল হত্যাকাণ্ডে পূর্ণ সহায়তা করেছে। একটি দল মাদ্রাসার ফটক পাহারা দিয়েছে এবং সেখান দিয়ে যেন লোকজন না ঢোকে তা দেখেছে। আর দুজন সাইক্লোন শেল্টারের গেট পাহারা দিয়েছেন। এ ছাড়া চারদিক থেকে সহায়তা করেছেন আরও দুজন। তাদের একজন রুহুল আমিন, অন্যজন মাকসুদ আলম। গত ২৭ মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেন নুসরাত। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তার মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় গ্রেফতার হন সিরাজ। গত ৬ এপ্রিল সকালে নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে বলে খবর দেয়। পরে নুসরাত ওই ভবনের চারতলায় যান। সেখানে বোরকা পরা চার-পাঁচজন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। নুসরাত অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর দগ্ধ নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে রাখা হয়। ৮ এপ্রিল নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় একটি মামলা করেন। ১০ এপ্রিল রাতে মৃত্যু হয় নুসরাতের। সেদিনই পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলাটির তদন্তে নামে পিবিআই। হত্যা পরিকল্পনা:  পিবিআই বলেন, ‘এই মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে যতই ভেতরে ঢুকেছি ততই আমাদের কষ্ট বেড়েছে। কেবল সাবালিকা হয়েছে, এমন একটা মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ওই দিন মাদ্রাসাটিতে পরীক্ষা ছিল। এজন্য ভেতরে বেশি লোকজন ছিল না। গেটে দারোয়ান ও পুলিশ ছিল। যে সাইক্লোন শেল্টারে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি মেইন গেটের উল্টো দিকে। গেট থেকে ওখানে দেখা যায় না। আগুন লাগার পর রাফি নিচে নামার পর সেখানে আয়া, বাংলার টিচার, পুলিশ কনস্টেবল এগিয়ে আসছে।’ পূর্বপরিকল্পনার বিষয়ে তিনি জানান, সিরাজের বিরুদ্ধে নুসরাতের করা অভিযোগ ও মামলায় সিরাজ গ্রেফতার হলে তার অনুগত লোকজন ক্ষিপ্ত হয়। গত ১ এপ্রিল আসামি শামীম, নুর উদ্দিন, ইমরান, হাফেজ আবদুল কাদের ও রানা সিরাজের সঙ্গে কারাগারে দেখা করেন। সেখানে তার মুক্তির বিষয়ে জোর চেষ্টা চালাতে এবং মামলা তুলে নিতে নুসরাতের পরিবারকে চাপ দিতে নির্দেশনা দেন সিরাজ। শামীম নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়ে আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন। এ কারণে শামীম কাউন্সিলর মাকসুদ ও রুহুল আমিনের সঙ্গে আলোচনা করে নুসরাতকে ভয়ভীতি দেখানো এবং প্রয়োজনে যেকোনো কিছু করার পরিকল্পনা করেন। কাউন্সিলর মাকসুদ এ কাজে শামীমকে ১০ হাজার টাকা দেন। ওই টাকা দিয়ে শামীম তার দূর সম্পর্কের ভাগনি মনিকে দিয়ে দুটি বোরকা ও চার জোড়া হাতমোজা কেনান। পরবর্তী সময়ে ৩ এপ্রিল শামীম, নুর উদ্দিন, হাফেজ আব্দুল কাদেরসহ কয়েকজন কারাগারে সিরাজের সঙ্গে দেখা করেন।
পিবিআই জানায়, দ্বিতীয় দফায় অনুগতরা কারাগারে গেলে সিরাজ তাদের নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার নির্দেশ দেন। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার কথাও বলেন। ৪ এপ্রিল বিকেল ৩টার দিকে মাদ্রাসার পাশের টিনশেড কক্ষে শামীম, নুর উদ্দিন, জোবায়ের, জাবেদ, পপি, মনিসহ আরও কয়েকজন বৈঠক করে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ৪ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় আবার মাদ্রাসার ছাত্র হোস্টেলে নুসরাত হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫ এপ্রিল বিকেল ৫টায় ভূঞাবাজার থেকে শামীম এক লিটার কেরোসিন কিনে রেখে দেন।

গায়ে আগুন: পিবিআই জানান, শামীম পলিথিনে করে নিয়ে আসা কেরোসিন ও অধ্যক্ষের কক্ষের সামনে থেকে একটি কাচের গ্লাস নিয়ে ছাদের টয়লেটের পাশে রেখে দেন। মনির কেনা দুটি এবং বাড়ি থেকে নিয়ে আসা একটিসহ তিনটি বোরকা ও চার জোড়া হাতমোজা নিয়ে সাইক্লোন শেল্টারের তৃতীয় তলায় রাখেন তিনি। শামীম, জাবেদ ও জোবায়ের সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বোরকা ও হাতমোজা পরে তৃতীয় তলায় অবস্থান নেন। নুসরাত পরীক্ষা দিতে গেলে পপি গেট থেকে নুসরাতকে বলেন, ‘তোমার বান্ধবীকে ওপরে মারধর করা হচ্ছে।’ নুসরাত পরীক্ষার হলে ফাইল রেখেই দৌড়ে ছাদে যেতে থাকেন।নুসরাত দ্বিতীয় তলায় পৌঁছালে পপি তাকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে বলেন এবং ভয় দেখান। কিন্তু নুসরাত মামলা তুলবেন না বলতে বলতে পপির সঙ্গে ছাদে উঠলে মনি, শামীম, জোবায়ের ও জাবেদ তার পেছনে ছাদে যান। ছাদে তারা নুসরাতকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়ে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলেন। নুসরাত অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হন তারা। শামীম বাম হাত দিয়ে নুসরাতের মুখ চেপে ধরেন এবং ডান হাত দিয়ে নুসরাতের হাত পেছন দিকে নিয়ে আসেন। পপি নুসরাতের গায়ের ওড়না খুলে জোবায়েরকে দিলে জোবায়ের ওড়না দুভাগ করে ফেলেন। ওড়নার এক অংশ দিয়ে পপি ও মনি নুসরাতের হাত পেছনে বেঁধে ফেলেন, অন্য অংশ দিয়ে জোবায়ের তার পা পেঁচিয়ে ফেলেন। জাবেদ পায়ে গিঁট দেন। সবাই মিলে নুসরাতকে ছাদের মেঝেতে ফেলে দিলে শাহাদাত তার মুখ ও গলা চেপে রাখেন।পিবিআইপ্রধান জানান, নুসরাতের বুকের ওপর চাপ দিয়ে ধরেন মনি; পপি ও জোবায়ের পা চেপে ধরেন। জাবেদ পাশের টয়লেটে লুকানো কেরোসিনের পলিথিন থেকে কাচের গ্লাসে কেরোসিন নিয়ে নুসরাতের পুরো গায়ে ঢেলে দেন। শাহাদাতের ইশারায় জোবায়ের দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। আগুন ধরিয়ে প্রথমে জোবায়ের ছাদ থেকে নামেন, এরপর পপি ছাদ থেকে নেমে যেতে থাকেন। ওই সময় আগের শেখানো মতে পপিকে ‘কাম কাম চম্পা/শম্পা’ বলে ডেকে নিচে নেমে যান মনি। পরে দুজন নিচে নেমে পরীক্ষার হলে ঢুকে যান। জাবেদ ও শামীম সাইক্লোন শেল্টারের তৃতীয় তলায় গিয়ে বোরকা খুলে ফেলেন। শাহাদাতকে তার বোরকা দিয়ে দ্রুত নেমে পরীক্ষার হলে ঢোকেন জাবেদ।শামীম নেমে মাদ্রাসার টয়লেটের পাশ দিয়ে চলে যান এবং মাদ্রাসার পুকুরে বোরকা ফেলে দেন। জোবায়ের সাইক্লোন শেল্টার থেকে নেমে মাদ্রাসার মূল গেট দিয়ে বের হয়ে বোরকা ও হাতমোজা সোনাগাজী কলেজের ডাঙ্গি খালে ফেলে দেন। নুর উদ্দিন সাইক্লোন শেল্টারের নিচে থেকে পুরো ঘটনার তদারকি করেন। এ ছাড়া মহিউদ্দিন শাকিল ও শামীম সাইক্লোন শেল্টারের দুই সিঁড়ির সামনে পাহারারত থাকেন। মাদ্রাসার ফটকের পাশে পাহারায় থাকেন রানা, মামুন, শরিফ ও হাফেজ কাদের। নুসরাত অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় নিচে নেমে আসতে থাকলে কর্তব্যরত পুলিশ কনস্টেবল ও প্রহরী আগুন নেভান। ওই সময় নুর উদ্দিনও নুসরাতের গায়ে পানি দেন। হাফেজ কাদের ফোন করে নুসরাতের ভাই নোমানকে সংবাদ জানান। পরে নুসরাতকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জবানবন্দি দেন তিনি।

তদন্তের সারসংক্ষেপ:  ‘আমরা তদন্তকালে ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। পিবিআইয়ের আইনি ক্ষমতাবলে বহু অফিসারকে নিয়োগ করেছি, যার মূল তদারকি কর্মকর্তা ছিলেন বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল। ১০ তারিখে মামলাটির তদন্তভার আমরা পাই। ১১ তারিখে প্রথমেই আমরা গ্রেপ্তার করি স্থানীয় কাউন্সিলর মাকসুদ আলমকে। এরপর একে একে অন্যদের গ্রেপ্তার করি। আমরা যে সুনির্দিষ্ট ১৬ জনকে এই ঘটনায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছি, তাদের সবারই মৃত্যুদণ্ড চেয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘মামলার বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। পাঁচটি বোরকার মধ্যে তিনটি কালো রঙের বোরকা উদ্ধার করতে পেরেছি। একটি শাহাদাত হোসেনের ফেলে দেওয়া মাদ্রাসার পুকুর থেকে। আরেকটি জোবায়ের একটি খালে ফেলে দেয়, সেখান থেকে উদ্ধার করেছি। অপরটি পপির বাসা থেকে। এ ছাড়া ম্যাচের কাঠিও উদ্ধার করেছি। কেমিক্যাল রিপোর্ট হাতে পেয়েছি। রিপোর্ট বলছে হত্যাকাণ্ডে কেরোসিন ব্যবহৃত হয়েছে। সেই কেরোসিন কোথা থেকে কিনেছে তাও বের করেছি। নুসরাতের হাতে লেখা খাতা, যাতে অধ্যক্ষ কর্তৃক  তাকে উত্ত্যক্ত করার বিষয় উল্লেখ রয়েছে, সেটি উদ্ধার হয়েছে। আসামি শাহাদাত হোসেন শামীমের স্বীকারোক্তি মোতাবেক তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনসেট, যাতে অপর আসামি রুহুল আমিনের সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে তার কথোপকথনের রেকর্ড রয়েছে।’পিবিআই বলেন, ‘রুহুল আমিন শুরু থেকেই প্রিন্সিপাল সিরাজ-উদ-দৌলার পক্ষের ছাত্রদের সমর্থন দিয়েছেন যে, তিনি তাদের সাথে আছেন, অর্থ সহায়তা করবেন, থানা এবং প্রশাসন ম্যানেজ করবেন, যাতে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানো যায়। তিনি পুরো ঘটনা প্রথম থেকে জানেন। প্রথম থেকেই অভিনয় করেছেন। উনি কাউন্সিলার মাকসুদকে নিয়ে ২৮ তারিখ মাদ্রাসায় গিয়ে সকলকে বলে আসছেন দরকার হলে “থ্রেট দাও, ভয় দেখাও।” নুসরাতকে আগুন দেওয়ার অল্প সময় পরে শামীমের সঙ্গে ফোনে দুই দফায় কথা হয় রুহুল আমিনের। প্রথম দফায় ৫ সেকেন্ডে শামীম বলে, নুসরাত আত্মহত্যা করেছে। পরে ২৬ সেকেন্ডে বিস্তারিত বলা হয়। উনি তখন বলেন, “তোরা ঘটনাস্থলে আসবি না, আসলে তোদের দোষ হবে। আমি দেখছি সবকিছু”।’

সোনাগাজীর ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদকে নুসরাত হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে গত ১২ এপ্রিল সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই-প্রধান বলেন, ‘১৬ জন আসামির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ১২ জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেছি। ঘটনায় তার ও তাদের সহযোগীদের কী কী ভূমিকা ছিল, তা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এর মধ্যে সিরাজ-উদ-দৌলার ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি পুরো ঘটনায় সবার সম্পৃক্ততা প্রমাণ করেছে। জবানবন্দিতে তিনি নুসরাতের গায়ে হাত দেওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন। আবার তার মুক্তির জন্য সহযোগীদের নির্দেশ দিয়েছে “নুসরাতকে প্রথমে প্রেশার দিবা। না হলে খুন করবা।” খুনের পদ্ধতিও বলে দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘নাসরিন সুলতানা নামে এক প্রতিবাদী মেয়ে আমাদের সহযোগিতা করেছে। সে নিজেও নির্যাতনের শিকার ছিল। আমরা সাতজন মেয়ের আদালতে জবানবন্দি নিয়েছি। ২৭ তারিখ যেদিন নুসরাতের শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে, তার পরে প্রথম দিন পক্ষে এবং বিপক্ষে মানববন্ধন হয়। কিন্তু ২৮ তারিখের পরে সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে আর মানববন্ধন হয়নি। এর কারণ মানববন্ধনকারীদের ২৮ তারিখ থেকে থ্রেট দেওয়া হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে, মানববন্ধনে গেলে আইসিটি পরীক্ষার ভাইভাতে ফেল করিয়ে দেওয়া হবে। ফলে তারা আর সিরাজ উদদৌলার বিপক্ষে যায়নি।’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আসামিরা সিরাজের সঙ্গে দেখা করে নির্দেশনা নিয়ে আসার পর টিনশেডের হোস্টেলে প্রথমে ‘মুক্তি কমিটি’ করে। ওই কমিটির আহ্বায়ক নুর উদ্দিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন শামীম। এই নুর উদ্দিন ও শামীম নির্ধারণ করতেন কে মাদ্রাসার পরীক্ষার প্রশ্ন পাবে, কে পাবে না; কে নকল করতে পারবে, কে পারবে ।

(Visited 1 times, 1 visits today)

আরও পড়ুন

মুসলিম মিল্লাতের মহান জাতীয় শহীদ দিবস উপলক্ষে ওয়ার্ল্ড সুন্নী মুভমেন্টের সমাবেশ
মহররম ঈমানী শোক ও ঈমানী শপথের মাস, আনন্দ উদযাপনের নয় – আল্লামা ইমাম হায়াত
এমপির বিরুদ্ধে উপজেলা চেয়ারম্যানকে কিল-ঘুষির অভিযোগ
বঙ্গবন্ধুর সমাধীস্থলে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের শ্রদ্ধাঞ্জলী
অসহায় মানুষের মাঝে মাংস বিতরণ করল ‘জীবন আলো’
নোয়াখালীতে প্রবাসীকে মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ
করোনায় সারাদেশে আরও ৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৯৯৮
বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা