১২ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

ফেনীতে সিএনজি অটোরিকশায় টোকেন বাণিজ্য মাসে ৫০-৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দুষ্টচক্র

 

ফেনীতে সিএনজি অটোরিক্সায় টোকেন বিক্রি করে প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা আদায় করছে সিএনজি চালক মালিক সমিতি নামে ভূঁইফোড় সংগঠনের নেতারা। এর ফলে প্রতি বছর রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। শ্রমিক নেতারা টোকেনের টাকার একটি বড় অংশ পুলিশের পকেটে যাওয়ার দাবী করলেও তবে পুলিশ এসব অস্বীকার করছে।
সিএনজি অটোরিকশা মালিকরা জানান, মহাসড়কে ফেনীর ২৫ কিলোমিটার ও কুমিল্লার লাটিমি, বাতিসা, চৌদ্দগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজন ফেনীতে যাতায়াত করে। বর্তমানে মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞার কারনে বিপাকে পড়ে মহাসড়কের পাশের এলাকার বাসিন্দারা। সিএনজি অটোরিকশাগুলো মহাসড়কে চলাচলের সুযোগ করে দিতে টোকেন চালু করে পুলিশ ও শ্রমিক নেতারা। এতে এক শ্রেণীর শ্রমিক নেতা ও পুলিশের পকেট ভারী হচ্ছে। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন চালক ও মালিকেরা।
বিআরটিএ’র তথ্য মতে, রেজিষ্ট্রিকৃত সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে ৯ হাজার ২শ ও নম্বরবিহীন রয়েছে প্রায় ১০-১২ হাজার। বিআরটিএ যথাসময়ে রেজিষ্ট্রেশন দিতে না পারায় ‘পুলিশ টোকেন’ নামে চাঁদা আদায়ের ফন্দি বের করে শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতিটি টোকেনের জন্য মাসে ৫০০ টাকা করে ১ থেকে দেড় কোটি টাকা সিএনজি চালকদের কাছ থেকে নিচ্ছে শ্রমিক নেতারা। একটি নতুন সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নে ভর্তি ফি বাবদ চালকদের কাছ থেকে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা করে নিচ্ছে। জেলার ছয় উপজেলায় নম্বরবিহীন সিএনজি গাড়ীগুলো টোকেন ব্যবহার করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। নম্বরবিহীন এসব সিএনজি অটোরিকশাগুলো অপরাধমূলক কাজ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। নম্বর না থাকায় অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছে তারা। যার ফলে চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে না এসব চতুর অপরাধীদেরকে।

এদিকে রেজিষ্ট্রেশনকৃত সিএনজি অটোরিকশা গুলোও মহাসড়ক পারাপারে পুলিশি হয়রানির শিকার থেকে বাঁচতে টোকেন ব্যবহার করছে। আবার কিছু কিছু সিএনজি চালক সিএনজি’র রেজিষ্ট্রেশন মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও নবায়ন করছে না। টোকেন দিয়ে চলছে। টোকেন ছাড়া রাস্তায় উঠলে সিএনজি অটোরিকশা চালকদেরকে ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের হয়রানির শিকার হতে হয়। প্রতি মাসে ওই টোকেনের টাকার একটি বড় অংশ পায় ট্রাফিক পুলিশ থেকে শুরু করে থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ। থানার ক্যাশিয়ারেরা শ্রমিক নেতাদের কাছ থেকে টোকেনের টাকা সংগ্রহ করে। টোকেন থাকার পরও হাইওয়ে পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও শহর পুলিশ ফাঁড়ির নানান হয়রানির শিকার হতে হয় চালকেরা। গাড়ী আটক করে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকার মামলা দিয়ে দেয়। ফেনী শহর পুলিশ ফাঁড়ি আটক করলে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএনজি চালকরা জানান, ফেনী সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি হানিফের কাছ থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে টোকেন সংগ্রহ করে ৫শ টাকা বিক্রি হচ্ছে। জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সিএনজি টোকেনগুলো হানিফ বিতরণ করে। মহিপাল থেকে দাগনভূঞা অঞ্চলে টোকেন বিক্রি করে জাহাঙ্গীর। ফেনী শহরের শিশু নিকেতন স্ট্যান্ড থেকে গুণবতী, লাটিমি, পদুয়া, মোহাম্মদ আলী, শর্শদি, আমতলী, আমিন বাজার এসব এলাকা টোকেনে ৩ থেকে ৪ হাজার সিএনজি অটোরিকশা চলে। শহরের মডেল হাই স্কুলের সামনে থেকে কালিদহ, লস্করহাট ও সোনাগাজী অঞ্চলে প্রায় ৩ হাজারের মতো টোকেনে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করে। নবী ওরফে ঢাকাইয়া নবী এ অঞ্চলের চালকদের কাছে টোকেন বিক্রি করেন। মহিপাল স্ট্যান্ড থেকে দাগনভূঞা, বসুরহাট, বেকের বাজার, সিলোনিয়া, রাজাপুর, কোরাইশমুন্সী, দরবেশেরহাট এলাকাগুলোতে ৫ থেকে ৬ হাজার সিএনজি অটোরিকশা চলে টোকেনে। সার্কিট হাউস থেকে বালিগাঁও, সুন্দরপুর ও মথুয়াইতে ৮শ থেকে ১ হাজার সিএনজি অটো রিকশা টোকেনে চলাচল করে। শহীদ মার্কেটের সামনে থেকে ছাগলনাইয়া রুটে ১৫শ থেকে ২ হাজার সিএজি অটোরিকশা টোকেনে চলাচল করে। পোস্ট অফিস এর সামনে থেকে ফুলগাজী রুটেও ১৫শ থেকে ২ হাজার সিএজি অটোরিকশা চলাচল করে টোকেনে। এছাড়াও ফেনী-পরশুরাম সড়কে ৩ থেকে ৪ হাজার অটোরিকশা টোকেনে চলাচল করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএনজি চালকরা জানান, সিএনজি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশন করতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লাগে ও হয়রানির শিকার হতে হয়। এছাড়াও বছর শেষে নবায়ন ফি বাবদ ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়। আর টোকেনে প্রতি বছর যাচ্ছে ৬ হাজার টাকা। এ তারা রেজিস্ট্রেশনে আগ্রহ নেই। অনেকের রেজিস্ট্রেশন মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও রেজিস্ট্রেশন নবায়ন না করে টোকেন দিয়ে চালান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রমিক নেতারা জানান, ট্রাফিকের প্রধান মুন্সী কালাম ও বিভিন্ন থানার ক্যাশিয়ারেরা তাদের কাছ থেকে টোকেনের টাকা নিয়ে যায়। সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি হানিফের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।
ফেনী জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন হাজারী জানান, শ্রমিক সংগঠনের নামে এক শ্রেণীর লোকেরা চাঁদা আদায় করছে বলে তিনি শুনেছেন। এসব সংগঠনের কোন অস্তিত্ব নেই। ১৯৯১ সালের রেজিষ্ট্রেশন নম্বরে একটি মাত্র শ্রমিক সংগঠনের রেজিষ্ট্রেশন রয়েছে। ফেনী ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো: আলাউদ্দিন ফেনীর সময় কে জানান, এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মহিপাল হাইওয়ে পুলিশের ওসি আবদুল আউয়াল জানান, হাইওয়ে পুলিশ এসব টোকেন বাণিজ্যের সাথে জড়িত নয় বলে দাবী করেন তিনি।
বিআরটিএ’র পরিদর্শক মাহবুবে রাব্বানী জানান, সিএনজি অটোরিক্সা রেজিস্ট্রেশন নবায়ন পূর্বের তুলনায় অনেক কমেছে। এতে সরকার বড় অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে। টোকেনযুক্ত নম্বরবিহীন সিএনজি অটোরিকশার বিরুদ্ধে সভায় আলোচনা হয়েছে। শীঘ্রই অভিযান চালানো হবে। ফেনীর নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান জানান, কোনরকম চাঁদাবাজী বরদাশত করা হবে না। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(Visited 1 times, 1 visits today)

আরও পড়ুন

ফজলে রাব্বীর আসনে নৌকার হাল ধরতে চান যারা
মহান জাতীয় শহীদ দিবস শাহাদাতে কারবালা দিবসে ফেনীতে র‍্যালী
মুসলিম মিল্লাতের মহান জাতীয় শহীদ দিবস উপলক্ষে ওয়ার্ল্ড সুন্নী মুভমেন্টের সমাবেশ
মহররম ঈমানী শোক ও ঈমানী শপথের মাস, আনন্দ উদযাপনের নয় – আল্লামা ইমাম হায়াত
এমপির বিরুদ্ধে উপজেলা চেয়ারম্যানকে কিল-ঘুষির অভিযোগ
বঙ্গবন্ধুর সমাধীস্থলে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের শ্রদ্ধাঞ্জলী
অসহায় মানুষের মাঝে মাংস বিতরণ করল ‘জীবন আলো’
নোয়াখালীতে প্রবাসীকে মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ