৯ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

ইসলাম সত্য-জ্ঞান-প্রজ্ঞা-ন্যায়-সুবিচার-অধিকার-স্বাধীনতা এবং হৃদয়ের মুক্ত উপলব্ধির উপর প্রতিষ্ঠিত-আল্লামা ইমাম হায়াত

“লা-ইক-রা-হা ফিদদ্বীন”
(সুরাঃ বাকারা: ২৫৬)
================

এ মহান আয়াত মোবারক মানুষের জন্য দয়াময় আল্লাহতাআলা ও তাঁর মহান হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রদত্ত দ্বীনের কর্ম পদ্ধতির নীতিগত এক মহা দলিল ও রূপরেখা।

শান্তি-সৌন্দর্য ও পবিত্রতার এ দ্বীন যে সত্য-জ্ঞান-প্রজ্ঞা-ন্যায়-সুবিচার-অধিকার-স্বাধীনতা এবং হৃদয়ের মুক্ত উপলব্ধির উপর প্রতিষ্ঠিত, কোন ক্ষমতা বলপ্রয়োগ বা জবরদস্তির উপর নয়, এ আয়াত শরীফ তাঁর সুস্পষ্ট প্রমান।

এ মহা গুরুত্বপূর্ণ আয়াতে দ্বীনের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক তথা মুসলিমদের নিজেদের মধ্যে এবং বাহিরে অর্থাৎ অমুসলিম সমাজে দুনিয়ার সর্বত্র দ্বীনের শিক্ষা-আদশ-আমল-নীতিবিধান সব কিছুর প্রয়োগে মানুষের জ্ঞানগত উপলব্ধি, স্বাধীন ইচ্ছা, হৃদয়ের আগ্রহ ও আন্তরিক পালনকেই দ্বীনের প্রকৃত রূপরেখা হিসেবে সাব্যস্ত করে সকল প্রকার বলপ্রয়োগ গত জবরদস্তিমূলক কৃত্রিম পালন প্রয়োগকে নিষেধ করা হয়েছে।

এ মহান তাৎপর্য্যময় আয়াত শরীফে ইসলামের সরাসরি নামে রাষ্ট্রের নাম করে রাষ্ট্রের নামের সাথে ইসলাম যুক্ত করে রাষ্ট্রক্ষমতায় সবার উপর ইসলাম বা শরিয়ার নামে কোন কিছু বল প্রয়োগে জবরদস্তি চাপিয়ে দেয়া স্পষ্ট নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে।

ইসলাম জীবন জগতের সৃষ্টিগত প্রাকৃতিক স্বাভাবিক নীতিনিয়ম যার উৎস সত্য ও যার ভিত্তি জ্ঞান যা ব্যতীত আত্মা-জীবন-সমাজ-রাষ্ট্র ও বিশ্বব্যবস্থার কল্যাণময় সার্থক সঠিক আলোকময় পথ নেই, যা ব্যতীত জীবনের প্রত্যেক দিকে মিথ্যা-অন্যায়-বিপর্যয়-বিনাশ ব্যতীত কিছু নেই, কিন্তু তা কোন সরকারী আইন বা কোন আতংক ভীতির মাধ্যমে ইচ্ছাবিরূদ্ধ ভাবে উপলব্ধিহীন ভাবে পালন বা বাস্তবায়িত হবে না, হবে সবার নিজের অস্তিত্ব ও বিকাশের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধির মাধ্যমে নিজের আত্মার তাগিদে থাকবে, যা আইনের ঊর্ধ্বে ক্ষমতার ঊর্ধ্বে চিরস্থায়ী হিসেবে সত্য ও মুক্তির প্রাকৃতিক অনন্ত প্রবাহ হিসেবে।

স্বয়ং দয়মায় আল্লাহতাআলা যিনি জীবন জগত সবকিছুর স্রষ্টা-মালিক-দাতা ও প্রতিপালক যিনি যে কোন হুকুম দিতে পারেন, যাঁর সবকিছু ন্যায়-পবিত্র ও কল্যাণময় তিনি যেখানে সব মানুষ সব বান্দাকে স্বাধীনতা দিয়েছেন, বিবেকের উপলব্ধির সুযোগ দিয়েছেন, আত্মা-জ্ঞান-প্রজ্ঞার বিকাশের সুযোগ দিয়েছেন, হুকুমের যন্ত্রে পরিণত করেন নাই, তখন অন্য কারো জবরদস্তি করার বা সে দান ছিনিয়ে নেয়ার অধিকার নেই, অন্য কারো মালিক প্রভু সাজার বা স্বোচ্চার করার অধিকার নেই।

এ মহান আয়াত শরীফের মর্ম ও নির্দেশনা এই যে, ইসলাম বা শরিয়ার নামে কেউ স্বেচ্ছাচার করতে পারবেনা, ইচ্ছার বিরুদ্ধে কারো উপর কেউ কিছু ইসলামের নামে চালিয়ে দিতে পারবেনা।

ঈমানের পবিত্র কলেমা প্রদত্ত জীবনের স্বাধীনতা রক্ষা করেই ইসলাম তথা সত্য- জ্ঞান ও ন্যায়ের ভিত্তিতে জীবন জগতের সবকিছু চলবে এবং মিথ্যা- মূর্খতা-অবিচার-শোষণ-স্বৈরতা-দস্যুতার কর্তৃত্ব থেকে মানবতাকে মুক্ত রাখতে হবে কিন্তু মানুষকে সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায়, ভাল-মন্দ, লাভ- ক্ষতি, কল্যাণ-অকল্যাণ, জ্ঞান-মূর্খতা, রক্ষা-বিনাশ, আলো-আঁধার বুঝার সুযোগ করে দিতে হবে যেন প্রকৃতভাবে স্থায়ীভাবে হৃদয়ের ভিত্তিতে জীবনের সাথে ইসলাম একাত্ম হয়ে মিশে প্রতিষ্ঠিত হয়।

যেন কেউ ইসলামের নামে ধোঁকা দিয়ে অন্যায় প্রভুত্ব স্বেচ্ছাচার কায়েম করে মানুষকে দাস বানিয়ে ইসলামের অপপ্রয়োগ এবং ইসলামকে বিকৃত ও কুক্ষিগত করতে না পারে। এ মহান আয়াত শরীফের ব্যবহারিক নীতি নির্দেশনা এই যে, সমাজ-রাষ্ট্র-বিশ্বব্যবস্থা ও কাঠামোর লক্ষ্যে ইসলামের রাজনৈতিক নির্দেশনা সর্বজনীন-মানবিক-আতংকমুক্ত-জবরদস্তি-বিহীন- নিরাপদ-স্বাধীন-জ্ঞানগত ও মুক্ত থাকবে।

এ মহান নীতি নির্ধারণী ও নিষেধাজ্ঞামূলক আয়াত শরীফে জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় ইসলামের আইন বিধান গঠন, পালন প্রয়োগের ও এক অলংঘনীয় সূত্র। ইসলামের ছদ্মনামধারী বাতিল জালেম অপশক্তির স্বৈরচার স্বেচ্ছাচার, দস্যুতা ও বিকৃতি থেকে ইসলাম ও মানবতাকে রক্ষায় এক রক্ষাকবচ, দুনিয়ার সব মানুষের স্বত্তা স্বাধীনতা রক্ষার শক্তি ও হাতিয়ার, দ্বীনিমূল্যবোধভিত্তিক গণতন্ত্রেরও এ আয়াত অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ।

কোন বিশেষ দল-গোষ্ঠী-সরকার-রাষ্ট্র ইসলামের সোল এজেন্সি মনে করে ইসলামের নাম কুক্ষিগত করে ইসলামের নামে নিজেদের বিকৃতি-অপব্যাখ্যা, শরিয়ার নামে ফেরকাগত মতপথ আইন চাপিয়ে দেয়া এই আয়াত শরীফ রদ করে দিয়েছে। ধর্মের নামধারী যে কোন অপশক্তি থেকে প্রকৃত ধর্ম ও মানবতাকে রক্ষায় জ্ঞান, বিবেকের বিকাশে, জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষায়, স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতার প্রতিরোধে, গোষ্ঠীর দাসত্বমুক্ত সর্বজনীন মানবিক রাষ্ট্র ও বিশ্ব তথা খেলাফতে ইনসানিয়াত গঠনে এ আয়াত মৌলিক ভিত্তি এবং সত্য ও স্বাধীনতার চির অনির্বান আলোক প্রদীপ।

ইনসানিয়াত বা মানবতার রাষ্ট্র ও বিশ্বের মূল কথা দয়াময় আল্লাহতাআলা ও তাঁর মহান রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে প্রত্যেক মানুষ তার জীবনের মালিক এবং সবাই সম্মিলিতভাবে রাষ্ট্র তথা দুনিয়ার মালিক। তাওহীদ রেসালাতের নিকট থেকে এ মালিকানা আমানত হিসেবে প্রদত্ত মালিকানা। এ মালিকানার কারণে কারো জীবন ও সম্পদ যেমন অন্য কেউ হরণ বা ক্ষতিগ্রস্ত করার অধিকার রাখেনা, তেমনি তার ইচ্ছা সম্মতি বিরুদ্ধ কোন কিছু কেউ বলপূর্বক চাপিয়ে দিতে পারে না।

একইভাবে মানুষের জন্য দুনিয়ার সবকিছু এবং রাষ্ট্র বা দুনিয়ার মালিক সব মানুষ বিধায় কোন রাষ্ট্র বা দুনিয়া কোন ভাবে কোন নামে একক গোষ্ঠী শ্রেণী কুক্ষিগত করে এ সর্বজনীন মালিকানা অধিকার ছিনিয়ে নিতে বা রুদ্ধ করতে পারেনা।

কোন জীবন তথা মানুষ ও দুনিয়া কোন মানুষ নিজে সৃষ্টি করেনি, করেছেন একমাত্র দয়াময় আল্লাহতাআলা এবং জীবন ও দুনিয়ার আল্লাহতায়ালাই মূল মালিক। দয়াময় আল্লাহতাআলার পক্ষ থেকে মানুষকে সত্য তথা আল্লাহতাআলার পরিচয় ও স¤পর্ক, জ্ঞান-বিবেক, মানবতার গুণাবলী ও মুক্তির পথ দিয়েছেন আল্লাহতাআলার মহান রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

ইনসানিয়াত বা মানবতা এবং জ্ঞান বিবেক গুণাবলী মানুষ সৃষ্টিগত প্রকৃতিগতভাবে পায়না, পায় রেসালাত থেকে। এ জন্য রেসালাতই জীবন ও দুনিয়ার শুভ কর্তৃত্ব ও মূল দিশা। রেসালাতের মালিকানা ও কর্তৃত্ব অর্থ সত্য-জ্ঞান-বিবেক-সৎগুণাবলী- স্বাধীনতা-অধিকার-নিরাপত্তা-মর্যাদা-দয়া-ভালবাসা-মানবতা ও বিকাশের কর্তৃত্ব। রেসালাতের কর্তৃত্বের বাহিরে কেবল আঁধার-মূর্খতা-অবিচার- দস্যুতা-পরাধীনতা-বর্বরতা-হিংস্রতা-অধিকারহরণ-খুন-গুম-সন্ত্রাস- আতংক-দাসত্ব ও বিনাশী অপশক্তির কর্তৃত্ব।

#আল্লামা_ইমাম_হায়াত
( ইসলামের মূল ধারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের প্রকৃত ধারার এ যুগের #পূণরূজ্জীবনকারী এবং বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের #প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের #প্রবর্তক)

(Visited 1 times, 1 visits today)

আরও পড়ুন

মুসলিম মিল্লাতের মহান জাতীয় শহীদ দিবস উপলক্ষে ওয়ার্ল্ড সুন্নী মুভমেন্টের সমাবেশ
মহররম ঈমানী শোক ও ঈমানী শপথের মাস, আনন্দ উদযাপনের নয় – আল্লামা ইমাম হায়াত
করোনায় সারাদেশে আরও ৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৯৯৮
বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
পেপসির সঙ্গে বিষ খাইয়ে খুন, যুবকের যাবজ্জীবন
চাল আমদানির সুযোগ পাচ্ছে ১২৫ প্রতিষ্ঠান
এশিয়ান টিভির ফেনী জেলা প্রতিনিধি হলেন সাংবাদিক সোহাগ
প্রধানমন্ত্রী সন্তানদের সাথে পদ্মা সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ