৯ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

ইসলামের মুলধারা আহলে সুন্নাত একক ব্যক্তিভিত্তিক নয় চিরন্তন ও পুর্নাংগ

সম্পাদকীয় কলাম:

আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, অনেক মূর্খ মনে করে আহলে সুন্নাত কোনাে এক ব্যক্তির মসলক বা কোনাে এক ব্যক্তি ভিত্তিক , নাউজুবিল্লাহ । অনেকে আলা হজরতকে আহলে সুন্নতের প্রতিষ্ঠাতা মনে করে সুন্নীদেরকে রেজভীয়া ফেরকা বলে মারাত্মক কুফরি ভুল করেন । আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের মূল আলা হজরত নন , ওনার জন্মের আরাে সাড়ে তেরােশত বছর থেকে আহলে সুন্নাত , উনি কয়েকটি দিকে আহলে সুন্নাতের অনুসারী আর কিছু দিকে ওনার পূর্ণাঙ্গ দিশা নেই , এমনকি কিছু দিকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের চিরন্তন ধারার ব্যতিক্রম । আকিদা আদর্শ আধ্যাত্মিক রাজনৈতিক সবদিকে উনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অনুসরনীয় ইমামও নন । উনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত তথা ইসলামকে অরাজনৈতিক মনে করতেন এবং মা বােনদের লেখাপড়া ও মসজিদে নামাজ ও মাজার জিয়ারত হারাম মনে করতেন । ( ফতােয়ায়ে রেজভীয়া ) আহলে সুন্নাত তাওহীদ রেসালাতের ভিত্তিতে প্রাণপ্রিয় আহলে রাসুল ও মহামান্য খােলাফায়ে রাশেদীন রাদিআল্লাহু আনহুম এবং মহান মকবুল সাহাবায়ে কেরাম রাদিআল্লাহু আনহুমের জামায়াতের এত্তোয় তাঁদের অনুসারী ইমামগণের দিশায় আকিদা আধ্যাত্মিক রাজনৈতিক সবদিকে কলেমা কারবালার আলােকধারায় হকের চিরন্তন ধারায় দ্বীনের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা ।

অরাজনৈতিক বলে কিম্বা মুলকিয়তের সমর্থক হয়ে আহলে সুন্নাত হয় না গােমরাহী হয়, খেলাফত হক এবং মুকিয়ত বাতিল এটাও আহলে সুন্নাতের আকিদা ও কলেমার নীতি। মুলুকিয়তের প্রতিষ্ঠাতা পক্ষে কথা বলে আলা হজরত পরােক্ষভাবে মহামান্য খােলাফায়ে রাশেদীন রাদিআল্লাহু আনহুম খেলাফতের বিপক্ষে চলে গেছেন যা আহলে সুন্নাতের মূলে কুঠারাঘাত। আলা হজরতের অনুসারীগণ অভিশপ্ত কাফের এজিদকে কাফের মনে করেন বলে না এটা হকের বিরুদ্ধে ও শাহাদাত কারবালার বিরুদ্ধে অবস্থান যা ঈমানী অস্তিত্বের প্রশ্ন।

কাফের এজিদের বাপ কাতিলে সাহাবি মােয়াবিয়াকে হক বলা আহলে সুন্নাত নয় বরং খারেজি আকিদা, কারন সে হকের দলিল মহামান্য খলিফাতুর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাওলায়ে আলা সাইয়েদেনা মাওলা আলী রাদিআল্লাহু আনহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ইসলামের খেলাফত উৎখাত করে কলেমার বিপরীত কাঠামাে মুলকিয়ত কায়েম করে অভিশপ্ত কাফের এজিদকে অবৈধভাবে ক্ষমতা তুলে দিয়ে কারবালার হত্যার পথ করেছে এবং খােতবায় তাঁকে গালি দেয়া প্রচলন করেছিলাে ।

হকের ধারক খলিফাতুর রাসুল মাওলায়ে আলা সাইয়েদেনা মাওলা আলী রাদিআল্লাছুর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ করে ইসলামের খেলাফত উৎখাত করে কলেমার বিপরীত মুলুকিয়ত কায়েম করে অবৈধভাবে কাফের এজিদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে কারবালার হত্যাকাণ্ডের পথ করে দেয়া যদি ইজতেহাদি ভূল হয় তাহলে হজরত আদম আলাইহিস সালামকে সিজদা করার ইবলিসের সিদ্ধান্তও ইজতেহাদি খাতা গণ্য হবে – নাউজুবিল্লাহ , হকের বিরুদ্ধে মারােয়ান , ইবনে হাজাজ থেকে সব মােনাফক জ্ঞাফেরদের সব যদ খন সবই ইজতেহাদি ভুল হিসেবে সাওয়বের অধিকারী হবে-নাউযুবিল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ|

এজিদের বাপের বাতিল শাসন অবৈধ শাসন মানার জন্য মাওলায়ে আলা সাইয়েদেনা আলী রাদিআল্লাহু আনহুর নির্দেশ বলে প্রচার ওনার পবিত্র নামে মালাউন কাফের খারেজি জারজদের কুফরি অলীক অবাস্তব মিথ্যাচার । অভিশপ্ত খারেজি এবং শিয়াবাদিদের অভ্যাসই মিথ্যা রচনা করে সত্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ লিপ্ত হওয়া । কাফের এজিদের বাপের শাসনকাল ইসলামের বিপরীত ও ইতিহাসের কলংক এবং কেয়ামত পর্যন্ত সকল কুফর জুম খুন গুম ধর্ষণ জুম সন্ত্রাস স্বৈরদস্যুতার উৎস ।

এজিদের বাপের শাসনকালে মাওলায়ে আলা সাইয়েদেনা আলী। রাদিআল্লাহু আনহু দুনিয়ায় জাহেরি ভাবে ছিলেন না । মাওলায়ে আলা রাদিআল্লাহু আনহুর পর রাষ্ট্রীয় খেলাফতের দায়িত্বে ছিলেন ইমামে আকবার সাইয়েদেনা হজরত ইমাম হাসান রাদিআল্লাহু আনহ , তাঁর নিকট থেকেই জবরদস্তি অন্যায়ভাবে এজিদের বাপ ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়ে রাষ্ট্র। জবরদখল করে মুলকিয়ত কায়েম করে। মাওলায়ে আলা সাইয়েদেনা আলী রাদিআল্লাহু আনহু এজিদের বাপকে ক্ষমতা দিয়ে যাননি এবং এজিদের বাপকে মানার বা তার অন্যায় মুলুকিয়তের দুঃশাসন মানার নির্দেশ দেয়ারও প্রশ্নই আসে না। মাওলায়ে আলা সাইয়েদেনা আলী রাদিআল্লাহু আনহু এজিদের বাপের শাসন মানার নির্দেশ দেয়ার প্রশ্নই আসে না কারন এজিদের বাপের শাসন তখন ছিলােই না পরে হয়। ঐ অভিশপ্ত মুলকিয়তের শাসন কবুল কলেমা কোরআন হাদিস শরীফ কারবালার শাহাদাত সব অস্বীকার করা হয়ে যায়। চুরি ডাকাতি খুন জবরদস্তি ব্যভিচারের চেয়েও নিকৃষ্ট অবৈধ অন্যায় জুলুম পাপাচার। তাওহীদদ্রোহীতা রেসালাতদ্রোহীতা ফেরাউনি নমরুদি মােয়াবিয়াবাদি এজিদবাদি মুলকিয়ত।

এজিদের বাপ মহান মকবুল সাহাবায়ে কেরাম রাদিআল্লাহু আনহুমের জামায়াতের নির্দেশিত এজমার বিপরীত এবং তাঁদের পবিত্র জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব করে না এবং তার কাজ ইসলামের দলিল নয় বরং বাতিল ও বিপরীত। এজিদের বাপের পক্ষ নেয়া মানেই মাওলায়ে আলা সাইয়েদেনা আলী রাদিআল্লাহু আনহুকে গালি দেয়া জায়েজ এবং এবাদত মনে করা , কারণ এজিদের বাপ খােতবায় মাওলায়ে আলা সাইয়েদেনা আলী রাদিআল্লাহু আনহু কে গালি দেয়া চালু করেছিলাে যা ৮৭ বছর উমাইয়া মুলুকিয়তি শয়তানরা কায়েম রেখেছিলাে। খলিফাতুল ইসলাম হজরত সাইয়েদেনা ওমর ইবনে আবদুল আজিজ আলাইহি রাহমা ৯৯হিঃ খেলাফত পূর্ণরূদ্ধার করে মুলুকিয়ত উৎখাত করে সে অভিশপ্ত কুফরি গালি নিষিদ্ধ করে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ চালু করেন। আলা হজরতরা এজিদের বাপের দালালি করে সুন্নীয়তের নামে আধা সুন্নীয়তের সাথে আধা খারেজি মতবাদ দুধ আর মুতের মিক্সার খাইয়ে দিয়েছেন।

কোনাে ব্যক্তির মসলক আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত নয়, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত কোনাে একক ব্যক্তি ভিত্তিক নয় এটা জামায়াত যার মূলে আল্লাহতাআলার উদ্দেশ্যে প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রেম ও শাণ এবং প্রাণপ্রিয় আহলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মহামান্য খােলাফায়ে রাশেদীন রাদিআল্লাহু আনহুম এবং মহান মকবুল সাহাবায়ে কেরাম রাদিআল্লাহু আনহুমের জামায়াত যাদের শত্রু সাহাবি নামধারী হলেও অনুসরণীয় নয় বরং পরিত্যাজ্য।

আলা হজরত ইসলামের মূল ধারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের পূর্ণাঙ্গ দিশারী হলে। মহান খাজাবাবার প্রতিষ্ঠিত মানবতার ইন্ডিয়া ভয়ংকর পাশবিক হিংস্র কুফরি রামরাষ্ট্র হাতােনা , কাফের এজিদের বাপের অনুসারী হলে মুলুকিয়ত সমর্থন করে এজিদকে কবুল। করতে হবে এবং আহলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খােলাফায়ে রাশেদীন এবং মহান মকবুল সাহাবায়ে কেরাম রাদিআল্লাহু আনহুমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও তাঁদের খুন অবমাননা সমর্থন করতে হবে, নাউজুবিল্লাহ।

— আল্লামা ইমাম হায়াত ( ইসলামের মূল ধারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের প্রকৃত ধারার এ যুগের পূণরূজ্জীবনকারী এবং বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রবর্তক)

(Visited 1 times, 1 visits today)

আরও পড়ুন

মুসলিম মিল্লাতের মহান জাতীয় শহীদ দিবস উপলক্ষে ওয়ার্ল্ড সুন্নী মুভমেন্টের সমাবেশ
মহররম ঈমানী শোক ও ঈমানী শপথের মাস, আনন্দ উদযাপনের নয় – আল্লামা ইমাম হায়াত
করোনায় সারাদেশে আরও ৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৯৯৮
বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
পেপসির সঙ্গে বিষ খাইয়ে খুন, যুবকের যাবজ্জীবন
চাল আমদানির সুযোগ পাচ্ছে ১২৫ প্রতিষ্ঠান
এশিয়ান টিভির ফেনী জেলা প্রতিনিধি হলেন সাংবাদিক সোহাগ
প্রধানমন্ত্রী সন্তানদের সাথে পদ্মা সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ