পেপারলেস সরকার ও ক্যাশলেস সোসাইটি গড়তে চান মোস্তাফা জব্বার

বাহরাম খান:

প্রখ্যাত তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তাফা জব্বার গত সরকারের যে কয়জন মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম। টানা দ্বিতীয়বার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে। একান্ত সাক্ষাৎকারে আজকালের খবরকে তিনি বলেন, আমার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে পেপারলেস সরকার ও ক্যাশলেস সোসাইটিসহ পূর্ণ ডিজিটাল দেশ গড়া।

সোমবার বঙ্গবভনে শপথ নেওয়ার পরপরই কাজ শুরু করে দিয়েছেন মোস্তাফা জব্বার। সোমবার বিকালে দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নিয়ে অফিসে বসার পর আজকালের খবরের মুখোমুখি হয়ে শেখ হাসিনার চতুর্থ মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া এ মন্ত্রী কাজের অগ্রাধিকার বিষয়ে বলেন, আমি একটা পেপারলেস গভর্নমেন্ট, ডিজিটাল এডুকেশন সিস্টেম ও ক্যাশলেস সোসাইটি চাই। এছাড়া আমাদের জীবনের চারপাশে যা আছে যেমনÑ স্বাস্থ্য, কৃষি, বাণিজ্য সব ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার হবে। তিনি বলেন, আমার কাজ করার ক্ষেত্রটা আমি খুব ভালোভাবে চিনি। একটা কৃষিভিত্তিক দেশকে ডিজিটাল যুগে নিয়ে যেতে হবে। সেই কাজটা ঘোষণা দিয়েই আমরা শুরু করেছি। ২০০৮ সালে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল দেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যের পূর্ণ বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

আগের সরকারের ধারাবাহিকতার বিষয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে দফতর দিয়েছেন, কাজ করতে বলেছেন। এর আগে ১১ মাস ৬ দিন কাজ করেছি এবং এখন আরেকটি সরকারের পিরিয়ডে কাজ শুরু করেছি। তিনি বলেন, এর আগে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১০ বছর কাজ করার পরিপ্রেক্ষিতে এই কৃষিভিত্তিক দেশটাকে ডিজিটাল যুগে নেওয়ার জন্য যে ভিত্তিটা স্থাপন করার দরকার ছিল সেই কাজটা আমরা করেছি। উদারহরণ দিয়ে তিনি বলেন, যেমন ধরুন আমরা একটা ২০তলা বাড়ি স্থাপন করব। এই বিল্ডিংয়ের বড় কাজটা থাকে ফাউন্ডেশন তৈরি করা। মাটির নিচ থেকে সেই ফাউন্ডেশন তৈরির কাজটা আমরা করতে পেরেছি। এখন উপরের বিল্ডিংটা তৈরি করা দরকার। আমার জন্য সুবিধা হচ্ছে বিল্ডিংটা কীভাবে হবে, এর কোথায় কী বসবে এসব বিষয় আমার নখদর্পণে আছে। কলাম কোথায় হবে, বীম কোথায় বসবে এ সব কিছু আমার জানা ছকের মধ্যে আছে। আমার এখন কাজ হচ্ছে এগুলো বাস্তবায়ন করা।

এত স্বপ্নের কাজ বাস্তবায়নে কী চ্যলেঞ্জ থাকতে পারে? জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, একটা ঐতিহ্যবাহী সমাজে বাস করা মানুষ আমরা। পৃথিবীর সভ্যতার বিকাশ দেখলে বুঝা যায়, কৃষিভিত্তিক সমাজ থেকে থেকে মানুষ শিল্পযুগে ঢুকেছে, মেশিন ব্যবহার ও শহরে বসবাস করা শিখেছে এবং এরপর শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলন করেছে।

এই যে ধাপগুলো আগের বিভিন্ন সমাজ পার হয়েছে সেটা আমরা সঠিক সময়ে ধরতে পারিনি বা সুযোগ থাকলেও সেটা গ্রহণ করিনি উল্লেখ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, পার্থক্য হচ্ছে ১৪৫৪ সালে প্রিন্টিং মেশিন হয়েছে জার্মানিতে। আমরা সেটা পেয়েছি ১৭৭৮ সালে। অর্থাৎ ৩২৪ বছর পরে পেছনে পড়ে আছি আমরা। চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, এই  পেছনে পড়াটা তো কভার করতেই হবে। সেই সঙ্গে আমার টার্গেট হচ্ছে এই দূরত্বটাকে মিটিয়ে দিয়ে আমি নেতৃত্বের জায়গা যাব। অর্থাৎ আমি পেছনে তো থাকবই না, উল্টো আমি টেকনোলজি তৈরি করব যেটা অন্যরা ব্যবহার করবে। আমার চ্যালেঞ্জ এটাই। এই চ্যালেঞ্জ উৎরানোর পথ বাতলে দিয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন, আমাদের যে ইয়াং জেনারেশন আছে তারা আমাদের জনসংখ্যার ৬৫ ভাগ। তারা মেধাবী ও উদ্যমী। তাদের যদি আমারা কেবল গাইড করতে পারি তাহলে তারা অসাধ্য সাধন করতে পারবে।

ডিজিটাল অর্জনের সঙ্গে ডিজিটাল গুজবের আশঙ্কার কথা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল গুজব কিছু সমস্যা করেছে। কিন্তু গত নির্বাচনের দিকে তাকালে দেখবেন ডিজিটাল গুজব আশঙ্কা করলেও কেউ গুজব ছড়াতে পারেনি। কারণ আমরা ছড়াতে দেইনি। মন্ত্রী বলেন, অতীতে সাঈদীকে চাদে দেখা গেছে, রামু-নাসিরনগরে ঘটনা ঘটেছে, জিগাতলায়ও এমন হয়েছে। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের দিকে তাকান। আমরা তেমন কিছু হতে দেইনি। এই প্রতিরোধ করতে পারলাম এই সক্ষমতাটা আমরা অর্জন করতে পেরেছি। এখন আর কেউ এভাবে গুজবের ডাল-পালা ছাড়াতে পারবে না। এ সময় উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত নির্বাচনে আগে সেনাবাহিনী সংক্রান্ত একটি ফেসবুক পেইজের লিংক পেলাম। এখানে সবকিছুই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নাম, ছবি ও লোগো দিয়ে চলছিল। খোঁজ নিয়ে দেখলাম এটা জামায়াত-শিবিরের কাজ। এই একটা পেইজের খবর নিতে গিয়ে আমি ৭৬০টা পেইজ বন্ধ করেছি। তিনি জানান, এই গুজবগুলোর ভিত্তি ছিল ফেসবুক। কিন্তু এসব পেইজ বন্ধ করতে গিয়ে আমাদের ফেসবুকের সাহায্য নিতে হয়নি। নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব ভুয়া পেজ পরিচালনাকারীদের শনাক্ত করেছি। এই সক্ষমতা অর্জন করতে পারার কারণে আমরা অনেক আত্মবিশ^াসী। মন্ত্রী বলেন, এই যে অর্জন এটা শুধু আমার মন্ত্রণালয়ের নয়। এখানে সরকারের নিরপাত্তা সংক্রান্ত যত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আছে সবার অংশগ্রহণ আছে। এ কারণেই আমরা সহজে এই কাজটি করতে পেরেছি। আশা করি ভবিষ্যতেও গুজব ছড়ানো সহজ হবে না।

মন্ত্রিসভা গঠনের চ্যালেঞ্জ বিষয়ে জানতে চাইলে মোস্তাফা জব্বার বলেন,মন্ত্রিসভা গঠনের একমাত্র এখতিয়ার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তাই এই বিষয়ে আমার বলার কোনো সুযোগ নেই। কারণ আমি নিজেও তো জানতাম না যে, আমি মন্ত্রিপরিষদে ডাক পাব কিনা। দেশের বিভিন্ন জায়াগায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটের স্পিডের বিষয়ে তিনি বলেন, ২০০৮ সালে চার লাখ ৪৬ হাজার মানুষ ছিলেন মোবাইল গ্রাহক। আর আট লাখ লোক ছিলেন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। এখন যথাক্রমে ১৫ কোটি ৯০ লাখ মানুষ মোবাইল ব্যবহার করে আর ৯ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এখানে যে হারে ব্যবহারকারী বেড়েছেন সেই অনুযায়ী যদি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন না হয় সেখানে সার্ভিসের সমস্যা তো হবেই। তিনি বলেন, এ কারণেই ব্যবহারকারীর সংখ্যার সঙ্গে প্রযুক্তি সুবিধার সামঞ্জস্য করাতে হবে। এর জন্য যে উদ্যোগ নেওয়া দরকার সেটা আমরা নিচ্ছি। আগে ছিলাম ২জি তে, এখন আছি ৪জি তে, দুই বছর পর আমরা ৫জি তে যাব। এই রূপান্তর ঘটছে এর জন্য সময় দিতে হবে।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ২০০৮ সালে এক ইঞ্চি তার ছিল না। এখন প্রায় সব ইউনিয়নে তার টানা হয়ে গেছে। এই যে কাজগুলো হচ্ছে এর সুবিধা পাওয়ার জন্য কিছুটা সময় দিতে হবে। আশা করি সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদে বাংলাদেশের বিদ্যমান যে রূপ দেখছেন তার আমুল পরিবর্তন করতে পারব আমরা। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকম খাতে যে বিষয়গুলো আছে এগুলোতে যুগান্তকারী পরিবর্তন দেখতে পাবেন। মোস্তাফা জব্বার বলেন, আগে কিছু দিন কাজ করেছি। কোনো কাজেরই বড় ফিনিশিং আপনারা দেখেননি। এই পাঁচ বছরে সেটা দেখানোর সুযোগ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির জনকের কন্যা আমাকে দিয়েছেন। আশা করি তা দেখাতে পারব। সবার সহযোগিতা চাই।
আজকালের খবর

(Visited 1 times, 1 visits today)

আরও পড়ুন

জবি রোভার-ইন-কাউন্সিল ২০২০-২১ এর পূর্নাঙ্গ কমিটির অনুমোদন
ফেনীর ৫ পৌরসভার মেয়র পদে আ’লীগ প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা চূড়ান্ত
মুরাদনগরে অগ্নিকাণ্ডে এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত
নোয়াখালীতে স্কুল ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার
দাগনভূঞায় পৌরসভা নির্বাচনে ৩ আওয়ামীলীগ প্রার্থীর নাম ঘোষণা
পটিয়ায় শানে গাওসে পাক ও জামে আওলিয়া কেরাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত
লালমনিরহাটে ট্রেনে কাটা পড়ে ২ জনের মৃত্যু
লক্ষ্মীপুরে হানাদারমুক্ত দিবস পালিত