১৬ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১লা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

নব্য আওয়ামী লীগার থেকে সাবধান

সাজ্জাদ হোসেন চিশতী—-

আগে শুনতাম আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক, দেশরত্ন শেখ হাসিনার কর্মী। এখন শুনি, আমি ভাইয়ের আদর্শের সৈনিক, ভাইয়ের কর্মী। ভাই আপনার এই হাসি বড় বেশি ভালোবাসি, আপনার স্নেহ চাই, আপনার ছায়া চাই, আপনার পদতলে থাকতে চাই, আপনার সাথে চলতে চাই, আপনার এই ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারবো না। সকাল, দুপুর, বিকাল, রাতে আপনার পাশে ছবি তুলতে চাই। এইসব কথাগুলো এই জন্য বলছি কারণ আমার দেখা এইরকম ভাইপন্থী অনেক নেতা দেখছি যারা একসময় ছোটখাট কাজ করতো, তারা আজ তিন-চার লাখ টাকা দামের মোটর সাইকেল চালায়। লাখ টাকা দামের গাড়ি হাঁকায়। আমরা যখন ছাত্রলীগ করতাম, তখনকার সময় নেতাদের সাথে ঘুরত ফিরত কোনো পদ ছিল না, সেইরকম অসংখ্য নেতা এখন শত শত কোটি টাকার মালিক। তাদের কোনো ব্যাবসা, চাকরি কিছুই নেই। কি তাদের আয়ের উৎস?

এতো টাকা কোথা থেকে আসে? আমরা চাকরি করে দিন আনি দিন খাই, দলকে ভালোবাসি। তারা ভাইকে ভালোবেসে আজ নেতা, কাউন্সিলর, লাখপতি, কোটিপতি, আমরা ভাইয়ের রাজনীতি করিনাই। করবোও না। হায়… কোথায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, কোথায় দেশরত্ন! তাদেরকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, দেশরত্ন নিয়ে ১০০টা প্রশ্ন করলে ৩৩টার উত্তরও দিতে পারবে না। বাবা, চাচা, মামা, কেউ ছাত্রলীগের, যুবলীগের, আওয়ামী লীগের কিছুই ছিল না। নিজে কোনোদিন কোনো মিছিলে যায় নাই, আওয়ামী লীগের কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল না, তারাই আজ বড় বড় নেতা।

এখন আওয়ামীপন্থী সংগঠনের অভাব নেই। আওয়ামী লীগারের অভাব নাই। আমলা, প্রশাসনে, দলে, রাস্তাঘাটে আওয়ামী লীগারের অভাব নেই। বাংলাদেশে এখন ৯৯.৯৯ লোক আওয়ামী লীগ করে। আল্লাহ না করুক কাল যদি কোনো বিপদ আসে, ১০০ জন আওয়ামী লীগের কর্মীও খুঁজে পাওয়া যাবে না। অতীত তাই বলে। ৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলো, তখন আন্দোলনে নেতাদের সঙ্গে কর্মী নাই, নেতারা একা একা রাস্তায় পুলিশের মার খেল। ১৯৯৬ তে আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়, তখন তো কঠিন অবস্থা। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগারের অভাব নাই। পরক্ষণেই এক-এগারো এলো। কারা, কারা, কোন, কোন নেতা সংস্কারপন্থী হলো তা আমাদের সকলেরই জানা।

কর্মীরা কি করলো সে কথা না হয় বাদই দিলাম। তার মানে এই নয় যে ত্যাগী নেতাকর্মী নেই। অবশ্যই অনেক আছে, আর আছে বলেই সেই ১৯৭৫ সাল থেকে এত অত্যচার-নির্যাতন-নিপীড়নের পরও দল আজ সর্বোচ্চ অবস্থানে। অনেক নেতাকর্মী অনেক কষ্ট ত্যাগ করে, আন্দোলন করে দলকে আজ এই জায়গায় এনেছেন। অথচ তারা আজ অবহেলিত। আজ রাস্তায় হাঁটতে গেলে কারো সাথে ধাক্কা লাগলেই সে আওয়ামী লীগের নেতা। কথাগুলো এই জন্য বললাম যাতে দলে কাউকে পদপদবি দেবার আগে, নেতা বানানোর আগে তার সবকিছু বিবেচনা করা হয়। হাইব্রিড নেতাদের লাগাম টেনে ধরা হয়।

আমি একজন আওয়ামী পরিবারের, বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। নিজেও ক্লাস সেভেন থেকে ছাত্রলীগ করে আসছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি, দেশরত্নকে ভালবাসি, আওয়ামী লীগকে ভালোবাসি। তাই, এতো আওয়ামী লীগার দেখলে খুশি না হয়ে ভয় পাই।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি, বিশ্বনেত্রী, মাদার অব হিউম্যানিটি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা, আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল, ডিজিটাল বাংলার রূপকার, বাংলার দুঃখী মানুষগুলোর হাসি, দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপনি ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন। সব সময় এই দোয়াই করি। আপনি বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে, আপনি হাসলে বাংলাদেশ হাসবে। আপনাকেই সবদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এসব নব্য নেতা, নব্য আওয়ামী লীগার, নব্য আওয়ামী লীগারদের প্রতি সজাগ থাকতে হবে।

সাজ্জাদ হোসেন চিশতী : গণমাধ্যমকর্মী। সাবেক ছাত্রনেতা। সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।

(Visited 1 times, 1 visits today)

আরও পড়ুন

বঙ্গবন্ধু হত্যার মাধ্যমে এ জাতি কলঙ্কিত হয়েছে বিশ্ব দরবারে
বেসরকারি চাকরিজীবীদের বোবা কান্না
মহান জাতীয় শহীদ দিবস শাহাদাতে কারবালা দিবসে ফেনীতে র‍্যালী
মুসলিম মিল্লাতের মহান জাতীয় শহীদ দিবস উপলক্ষে ওয়ার্ল্ড সুন্নী মুভমেন্টের সমাবেশ
মহররম ঈমানী শোক ও ঈমানী শপথের মাস, আনন্দ উদযাপনের নয় – আল্লামা ইমাম হায়াত
করোনায় সারাদেশে আরও ৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৯৯৮
বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
পেপসির সঙ্গে বিষ খাইয়ে খুন, যুবকের যাবজ্জীবন