১৩ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

সোনাগাজীতে গৃহবধু গণধর্ষণের জড়িত থাকায় পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত

ফেনী প্রতিনিধি:

ওসি মঈন উদ্দিন আহমেদ জানান, বাদিনী এজাহারে তার নাম উল্লেখ করে নাই। কিন্তু আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দিতে এএসআই সুজন কুমার দাসের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন। তাই বিষয়টি প্রাথমিক তদন্ত ও সতত্য যাচাইয়ের জন্য তাকে বৃহস্পতিবার রাতে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তিনি ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানার এ এসআই ( উপ-উপরিদর্শক) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুল আহমেদ ভূঁইয়া জানান, বিষয়টি চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি অফিসের অপরাধ বিভাগের পুলিশ সুপার হাসান মাহমুদ বিষয়টি তদন্ত করছেন।

বৃহস্পতিবার ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া হোসেনের আদালতে ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ধর্ষণ করেছে বলে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি জানান গত ১০ সেপ্টেম্বর তাকে সহ তার পালক পিতা-মাতা কে চাচা ও চাচাতো ভাই মিলে মারধর করে আহত করে।

ওই ঘটনায় ওইদিন সে বাদি হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় চাচা, চাচি ও চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে সোনাগাজী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা এ এসআই সুজন চন্দ্র দাস যাতায়াত খরচ চাইলে দিতে পারেননি অসহায় ওই নারী। অভিযোগ দিয়ে নিরাশ হয়ে বের হওয়ার সময় থানার মাঠে দেখা মিলে রহিমা সুন্দরী নামের প্রতারক ওই নারীর। সে নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে ওই নারীকে তার বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে রেখে পুলিশ পাঠিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি বলে তাকে বোন ডেকে তার বাসায় রেখে দেন।

থানা পুলিশও কোন ব্যবস্থা নেননি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে এএসআই সুজন কে দিয়ে তাকে ধর্ষণ করায়। একই রাতে ১২টার দিকে শম্ভু শিকদার, আফলাছ সহ ৫ জন যুবককে পুলিশের লোক বলে তার উপর লেলিয়ে দেয়। তারা সুজন তাকে ধর্ষণ করেছে ,তারা বিষয়টি জেনে গেছে বলে ওই অসহায় নারী কে তারা পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষকদের সাথে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ওই নারী অজ্ঞান হয়ে পড়লে তার সাথে থাকা ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের রিং, ৮ আনা ওজনের এক জোড়া কানের দুল ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। সকালে জ্ঞান ফিরলে রহিমা সুন্দরী নামের ওই প্রতারক নারীর কাছে গৃহবধূ তার উপর এই নির্যাতনের কারণে জানতে চাইলে সে সঞ্জু শিকদার ও আফলাছ নামের দুই যুবক কে এনে দ্বিতীয়বার ধর্ষণ করায়।

তারা ফের বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার হুমকি দেয়। ঘটনাটি জানাতে ওই নারী থানায় গেলে কর্তব্যরত এএসআই সুজন চন্দ্র দাস সুন্দরী নামের ওই প্রতারক নারী কে মুঠো ফোনে জানিয়ে দেন তোমার বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। খবর পেয়ে সুন্দরী তাৎক্ষণিক থানায় এসে ওই নারীর সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। তখন সেই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ধমক দিয়ে ঘটনাটি সামাজিক ভাবে সমাধান করতে বলে তাড়িয়ে দেন।

ওই গৃহবধূ বাদি হয়ে সঞ্জু শিকদার, রহিমা সুন্দরী ও আফলাছ হোসেনের সহ ৩ জনের নাম উল্লেখ করে ও আরো ৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মঙ্গলবার রাতে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তবে সে পুলিশের ভয়ে প্রথমে ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম মামলায় উল্লেখ করেনি বলে তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন। পুলিশ মঙ্গলবার রাতে সঞ্জু শিকদার (৩৫) ও নারী প্রতারক রহিমা সুন্দরী কে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করেছে।

পুলিশ, এলাকাবাসী ও নির্যাতিত গৃহবধু জানান, আমিরাবাদ ইউনিয়নের উত্তর সোনাপুর গ্রামের সাহাব উদ্দিন ওই নারী কে দত্তক নিয়ে লালন পালন করেন। উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের মান্দারী গ্রামের জনৈক রিপন নামে এক যুবলীগ কর্মীর কাছে ১৪ বছর পূর্বে বিয়ে দেন। গত ৩ বছর পূর্বে আধিপত্যের জের ধরে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা রিপন কে গুলি করে হত্যা করে। সে ১৩ বছর ও ৭ বছর বয়সী দুই সন্তান নিয়ে পালক পিতার বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

নি:সন্তান পালক পিতা তার নামে নামে বসত বাড়িতে জমি দান করার প্রস্তাব করেন। এ খবর জানাজানি হলে সাহাব উদ্দিনের ভাই ও ভাতিজারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। ওই নারী ওই সমাজের লোকদের জানালে কেউ দায়িত্ব না নেয়ায় এক পর্যায়ে সমাজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি-সম্পাদকের মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে সোনাগাজী মডেল থানার ওসির কাছে নিয়ে যান। বিষয়টি অবগত হয়ে ওসি বাদিনীর ভাষ্য মতে তাৎক্ষণিক মামলাটি রুজু করেন। রাতেই অভিযান চালিয়ে সঞ্জু শিকদার ও রহিম সুন্দরী কে আটক করে । সঞ্জু শিকদার দাগনভূঞা উপজেলার খোকন শিকদারের ছেলে। সে সোনাগাজী পৌরসভার চরগণেশ গ্রামের জনৈক শেখ রেহানার বাড়িতে বসবাস করতো। একসময় সে সোনাগাজী বাজারে মুচির কাজ করতো।

পরবর্তীতে খোনারী ব্যবসার সাথে জড়িয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি ও ছিনতাই সহ একাধিক মামলা রয়েছে। রহিমা সুন্দরী চরদরবেশ ইউনিয়নের চরসাহাভিকারী গ্রামের নূরুজ্জামানের কন্যা ও এক কন্যা সন্তানের জননী। সেও একজন স্বামী পরিত্যক্তা নারী। সে গত তিন বছর ধরে সোনাগাজী মডেল থানায় কর্মরত একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় বুয়ার কাজ করতো। সে সোনাগাজী কলেজ রোডস্থ মাঝি বাড়ির খোকা মালিকীয় ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। সেখানে বখাটে সন্ত্রাসীদের নিয়ে বিভিন্ন প্রবাসী ও ব্যবসায়ী যুবকদের ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করতো। একাধিক পুলিশ সদস্যের সাথে তার সখ্যতা থাকায় কেউ ভয়ে মুখ খুলতোনা। সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মঈন উদ্দিন আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে।

উল্লেখ্য; সোনাগাজী পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের চরগণেশ গ্রামের কলেজ রোডের মাঝি বাড়ির খোকন মিয়ার মালিকীয় রহিমা সুন্দরীর ভাড়া বাসায় ১৫ সেপ্টেম্বর রোববার দিবাগত গভীর রাতে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এসময় দুর্বৃত্তরা তার সাথে থাকা এক ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও একটি মোবাইল ফোন লুটে নেয়।

(Visited 1 times, 1 visits today)

আরও পড়ুন

মহান জাতীয় শহীদ দিবস শাহাদাতে কারবালা দিবসে ফেনীতে র‍্যালী
মুসলিম মিল্লাতের মহান জাতীয় শহীদ দিবস উপলক্ষে ওয়ার্ল্ড সুন্নী মুভমেন্টের সমাবেশ
মহররম ঈমানী শোক ও ঈমানী শপথের মাস, আনন্দ উদযাপনের নয় – আল্লামা ইমাম হায়াত
করোনায় সারাদেশে আরও ৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৯৯৮
বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
পেপসির সঙ্গে বিষ খাইয়ে খুন, যুবকের যাবজ্জীবন
চাল আমদানির সুযোগ পাচ্ছে ১২৫ প্রতিষ্ঠান
এশিয়ান টিভির ফেনী জেলা প্রতিনিধি হলেন সাংবাদিক সোহাগ