১লা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ |

উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের  দাবিতে এবার আন্দোলনে শিক্ষকরাও

রাবি প্রতিনিধি:
নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়াসহ প্রশাসনকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। গত বুধবার থেকে উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে আসছেন। তবে উপাচার্য এবং উপ-উপাচার্যসহ প্রশাসনের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষকরা আন্দোলনে নামলেন বৃহস্পতিবার। পূজার ছুটি শেষে শিক্ষকরা লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন।

সকাল ১১টায় ‘স্বাধীনতাবিরোধী ও দুর্নীতিবাজ’ আখ্যা দিয়ে প্রশাসনের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন করে দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, উপাচার্য তার বক্তব্যে ‘জয় হিন্দ’ বলেছেন। তিনি স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রীয় সত্তার সাথে এক ধরনের সাংঘর্ষিক বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু উপাচার্য হিসেবে এ রকম বক্তব্য প্রত্যাশা করা যায় না। এর প্রতিবাদ হওয়া উচিত। অধ্যাপক বিশ্বাস আরো বলেন, আমরা মনে করি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যে নিয়োগ বাণিজ্য হচ্ছে তারই অংশ হিসেবে সম্প্রতি চাকরির নিয়োগ নিয়ে একটি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়েছে। এই প্রশাসন এ রকম দুর্নীতিতে একেবারেই নিমজ্জিত। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এখন সারাদেশে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চলছে। আমরা শিক্ষকরা মনে করি, এই আন্দোলনে আমাদেরও অংশগ্রহণ করা উচিত। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শীর্ষ পদে বসে যারা এ রকম দুর্নীতি করছে আমরা তাদের সরিয়ে দেয়ার কথা বলছি। তারা সরে যাক এবং স্বচ্ছ প্রশাসন তৈরি হোক।

বাংলা বিভাগের শিক্ষক সফিকুন্নবী সামাদী বলেন, ‘উপাচার্য তার জামাতাকে কীভাবে নিয়োগ দিয়েছেন সেটা সবার জানা। এরপর সম্প্রতি উপ-উপাচার্য ও এক চাকরিপ্রত্যাশীর স্ত্রীর কথোপকথন ফাঁস হয়েছে। তাতে তার কাছে টাকা দাবি করা হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাওয়া ঐ চাকরিপ্রত্যাশীকে বাদ দিয়ে নেয়া হয়েছে চৌধুরী মো. জাকারিয়ার জামাতাকে, প্রাইভেট বিশ্বদ্যিালয়ের শিক্ষার্থীকে। আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান অক্ষুন্ন রাখতে চাই। আমরা চাই না আত্মীয় প্রতিপালনের একটি খামারে পরিণত হোক এই বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ে সঠিক জ্ঞান চর্চা হোক। যার অন্তরায় এই দুর্নীতবাজ প্রশাসন। এই প্রশাসনের শীর্ষ পর্যন্ত দুর্নীতিগ্রস্ত। আমরা এই প্রশাসনের অপসারণ চাই।’ এদিকে সকাল ১০টায় দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গনের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বরে খালি পায়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ফরিদ খান। অধ্যাপক ফরিদ ‘দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন চাই, শিক্ষকের মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চাই’ লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে দুপুর ১টা পর্যন্ত অবস্থান করেন।

এদিন বেলা ১১টায় উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও পরে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে মানবন্ধন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, ফাঁস হওয়া ফোনালাপে প্রমাণ হয় বর্তমান প্রশাসন কতোটা দুর্নীতিবাজ। প্রশাসন টাকার বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যতটা ক্ষতি করছে, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করছে দেশের। আমরা এই দুর্নীতির শেষ দেখতে চাই। উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। পরে বেলা সাড়ে ১১টায় তারা শিক্ষকদের মানববন্ধনে অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করে।

একইদিনে ‘অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়’ এর ব্যানারে সমন্বিতভাবে মানববন্ধন করে রাকসু আন্দোলন মঞ্চ, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ রাবি শাখা ও ছাত্র ফেডারেশন।
মানববন্ধনে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ রাবি শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম মুবিন বলেন, ‘উপ-উপাচার্যের ফোনালাপ ফাঁস হওয়ায় যে নিয়োগ বাণিজ্য প্রকাশ্যে এসেছে আমরা তার চরম ধিক্কার ও নিন্দা জানাই। তার দাবি এটা এডিট করে প্রচার করা হয়েছে। আমরা চাই তিনি অতি দ্রুত এটা প্রমাণ করে দেখান। নাহলে সসম্মানে তাকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’ রাকসু আন্দোলন মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ অন্তর বলেন, ‘উপাচার্যের জয় হিন্দ স্লোগান ও উপ-উপাচার্যের অর্থ নিয়ে অডিও ফাঁসের ঘটনায় ধারাবাহিকভাবে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা চাই উপাচার্য তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে দুঃখ প্রকাশ করবেন এবং উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ।’

সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান বলেন, ‘একটা অডিও ফাঁস হয়েছে, তাতে উপ-উপাচার্যের বক্তব্য থাকার কথা বলা হচ্ছে। তবে এটা তদন্ত ছাড়া তাকে দুর্নীতিবাজ বলা যাবে না। এটা দেখবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সরকার।
‘জয় হিন্দ’ স্লোগান বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও ঢাকায় এসে জয় হিন্দের পর জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছিলেন। যারা জয় বাংলা স্লোগান দিতে পারে না তারাই দেশদ্রোহী। তারাই এর বিরোধিতা করেছে।’#

(Visited ৬০ times, ১ visits today)

আরও পড়ুন

হযরত খাজাবাবা (রঃ) ও জামে আওলিয়া কেরামের পথ পূণরুদ্ধার সম্মেলন অনুষ্ঠিত
মহান জাতীয় শহীদ দিবস শাহাদাতে কারবালা দিবসে ফেনীতে র‍্যালী
মুসলিম মিল্লাতের মহান জাতীয় শহীদ দিবস উপলক্ষে ওয়ার্ল্ড সুন্নী মুভমেন্টের সমাবেশ
মহররম ঈমানী শোক ও ঈমানী শপথের মাস, আনন্দ উদযাপনের নয় – আল্লামা ইমাম হায়াত
করোনায় সারাদেশে আরও ৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৯৯৮
বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
পেপসির সঙ্গে বিষ খাইয়ে খুন, যুবকের যাবজ্জীবন
চাল আমদানির সুযোগ পাচ্ছে ১২৫ প্রতিষ্ঠান