১৩ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

তিস্তা থেকে দিলো না ভারত, কেন বাংলাদেশ ফেনী নদীর পানি দিল?

নিউজ ডেস্ক:

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চলমান ভারত সফরে তিস্তা নদীর জল ভাগাভাগির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনও অগ্রগতি না-হলেও আর একটি অভিন্ন নদী ফেনী থেকে ভারতকে জল দিতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ। দুইদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ফেনী নদী থেকে ১.৮৬ কিউসেক পানি ত্রিপুরার সাব্রুম শহরে সরবরাহ করা হবে, যাতে সেখানে পানীয় জলের প্রয়োজন মেটানো যায়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বিবিসিকে বলেছেন, সম্পূর্ণ মানবিক কারণেই প্রধানমন্ত্রী হাসিনা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভারতের বিতর্কিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জী বা এনআরসি নিয়ে ঘটনাপ্রবাহ কোন দিকে গড়ায়, সে দিকেও বাংলাদেশ সতর্ক নজর রাখছে বলে তিনি জানান।

বস্তুত শনিবার প্রায় দিনভর দিল্লিতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ও প্রতিনিধিস্তরে যে সব বৈঠক হয়েছে, তা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে বলেই দাবি করছে বাংলাদেশ। তিস্তার জল ভাগাভাগি নিয়ে কোনও চুক্তি প্রধানমন্ত্রী হাসিনার এবারের দিল্লি সফরেও হল না, কিন্তু আরও সাতটি অভিন্ন নদীর পানিবন্টনের জন্য দুই দেশ যে একটি ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তুত করতে রাজি হয়েছে সেটাকে যথেষ্ঠ ইতিবাচক লক্ষণ বলে মনে করছে ঢাকা।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব এম শহীদুল হক শনিবার রাতে বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, যেহেতু দুইদেশের যৌথ নদী কমিশন বা জেআরসি বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু করেছে তাই তিস্তা নিয়েও আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ঠ কারণ আছে। তার কথায়, “যেহেতু যৌথ নদী কমিশন প্রায় ছবছর পর বৈঠকে বসেছে, আগামী বছর আবার বসবে – তাই আমরা কিন্তু আশা করতেই পারি। আর তারা সবগুলো কমন রিভার (অভিন্ন নদী) নিয়েই কাজ শুরু করেছে।”

“আর কমিশন শুধু এই অভিন্ন নদীগুলোর পানিবন্টন না, উন্নয়নের বন্টন নিয়েও ভাবছে। কারণ সারা বিশ্বেই জলসম্পদ এখন আলোচনার একেবারে ওপরের দিকে।””সেই পটভূমিতেই আমরা তিস্তা-সহ সব অভিন্ন নদীকেই একটা বৃহত্তর ফ্রেমওয়ার্কে ভাবছি, যেখানে শিপিং থেকে শুরু করে বেসিন ম্যানেজমেন্ট সব কিছু নিয়েই আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।”

এদিকে বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়াতে এর মধ্যেই অনেকে লেখালেখি শুরু করেছেন, “বাংলাদেশ যেখানে এবারেও তিস্তার পানি পেল না, সেখানে কেন আগ বাড়িয়ে ভারতকে ফেনী নদীর পানি দিয়ে আসা হল?”বস্তুত ফেনী নদী থেকে ১.৮৬ কিউসেক পানি দক্ষিণ ত্রিপুরার যে সাব্রুম শহরে বাংলাদেশ পাঠাবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেই অঞ্চলে পানীয় জলের সঙ্কট অতি তীব্র।

সীমান্ত দিয়ে বয়ে চলা ফেনীর পানি পেলে ওই অঞ্চলের মানুষের জলকষ্ট মেটে, ভারতের এই অনুরোধের পটভূমিতেই প্রধানমন্ত্রী হাসিনা সম্পূর্ণ মানবিক কারণে ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন – জানাচ্ছেন শহীদুল হক।তিনি বলছিলেন, “আমার মনে হয় মানবিক ইস্যুর সঙ্গে আর কোনও ইস্যুকে মেশানো কিছুতেই ঠিক নয়।”আর আমরা যদি পানি না-দিতাম, তাহলে কি কারবালার মতো হয়ে যেত না?”, পাল্টা প্রশ্ন করেন তিনি।

সাব্রুমে বাংলাদেশ উদারতার পরিচয় দিলেও বিতর্কিত এনআরসি-র প্রশ্নে ভারতের কাছ থেকে পাল্টা কতটা উদারতার পরিচয় পাওয়া যাবে, সেই আশঙ্কা অবশ্য রয়েই গিয়েছে। বাংলাদেশ জানিয়েছে, এনআরসি-র বিষয়টি দুই প্রধানমন্ত্রীর আলোচনাতেও উঠেছিল, এবং বাদ-পড়াদের প্রায় সবাই যে পর্যায়ক্রমে এই তালিকায় ঢোকার সুযোগ পাবেন সেটাও ভারতের পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়েছে।

কিন্তু শহীদুল হকের স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, একদিকে যখন ভারতের কোনও কোনও মন্ত্রী বলছেন অবৈধ বিদেশিদের বাংলাদেশেই ডিপোর্ট করা হবে – আর অন্যদিকে দিল্লি এটাকে সম্পূর্ণ তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে দাবি করে, এই ‘স্ববিরোধিতা’ তাদের ধন্দে ফেলে। তিনি বলছিলেন, “এই কন্ট্রাডিকশন যেহেতু আমরা তৈরি করিনি, তাই আমি এটাকে অ্যানালাইজ করতে রাজি না।”

“তবে আমি অপেক্ষা করতে রাজি। কী ঘটে দেখাই যাক না! আগে ব্রিজটা আসুক, তারপর আমরা অবশ্যই সেটা পেরেনোর কথা ভাবব”, এনআরসি প্রসঙ্গে মন্তব্য করনে তিনি। এনআরসি নিয়ে ভারতের ঘটনাপ্রবাহ কোন দিকে গড়ায়, সে দিকে তারা সতর্ক নজর রাখছেন বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।তবে এই বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের অস্বস্তি যে শেখ হাসিনার দিল্লি সফরেও পুরোপুরি কাটল না, সেটাও কিন্তু গোপন নেই। সূত্র: বিবিসি বাংলা

(Visited 1 times, 1 visits today)

আরও পড়ুন

মহান জাতীয় শহীদ দিবস শাহাদাতে কারবালা দিবসে ফেনীতে র‍্যালী
মুসলিম মিল্লাতের মহান জাতীয় শহীদ দিবস উপলক্ষে ওয়ার্ল্ড সুন্নী মুভমেন্টের সমাবেশ
মহররম ঈমানী শোক ও ঈমানী শপথের মাস, আনন্দ উদযাপনের নয় – আল্লামা ইমাম হায়াত
করোনায় সারাদেশে আরও ৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৯৯৮
বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
পেপসির সঙ্গে বিষ খাইয়ে খুন, যুবকের যাবজ্জীবন
চাল আমদানির সুযোগ পাচ্ছে ১২৫ প্রতিষ্ঠান
এশিয়ান টিভির ফেনী জেলা প্রতিনিধি হলেন সাংবাদিক সোহাগ