১২ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় সাংবাদিককে ডেকে হেনস্তা করলেন ইউএনও

 

মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও:

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০১৮ সালে জনপ্রশাসন পদক পেয়েছিলেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ উপজেলার ৩ কর্মকর্তা। অথচ সেই বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় প্রথম বারের মত বাল্যবিবাহ নিরোধ দিবস পালিত হলেও উপজেলা প্রশাসনের গুটি কয়েক কর্মকর্তারা ছাড়া বাহিরের  কেউ জানেন না।

শনিবার দুপুর ১টা। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ দিবসের র‌্যালি হবে এমন খবর পেয়ে দৈনিক অধিকারের ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ও বালিয়াডাঙ্গী প্রেস ক্লাবের সভাপতি এন এম নুরুল ইসলাম মোটরসাইকেল নিয়ে  দ্রুত উপজেলা পরিষদের ভিতরে যান।

মাত্র দু-তিন মিনিটেই উপজেলায় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার আয়োজনে বাল্যবিবাহ নিরোধ দিবসের র‌্যালি, সভা ও দিবস উদযাপন শেষ হয়ে গেছে। এমন ঘটনা দেখতে পান কর্মরত দুইজন সাংবাদিক। ব্যানার গুচাচ্ছেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার এক কর্মচারী। এগিয়ে গিয়ে তার নিকট অনুষ্ঠান কি শেষ হয়ে গেল? জানতে চাইলে তিনি উত্তর দেন অনুষ্ঠান শেষ। সবাই চলে গেছে।

তার কাছ থেকে আরও জানা গেলো উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুল আলম সুমন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আবু বেলাল ছিদ্দিক সহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ছবিতোলা শেষে অনুষ্ঠান সমাপ্তি করা হয়েছে। সময় স্বল্প তাই অনুষ্ঠান শেষ।

অথচ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিঃ সচিব) বদরুন নেছার স্বাক্ষরিত ০৯ অক্টোবর দেয়া ২২৫নং স্মারকের একটি পত্রে বলা হয়েছে ১৩ অক্টোবর জাতীয় ভাবে বাল্যবিবাহ নিরোধ দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে সকল জেলা/উপজেলায় সকাল ১১.০০টায় সমাবেশ কর্মসূচী পালিত হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় পূর্বক দিবসটি উদযাপনের জন্য অনুরোধ করা হলো।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নির্দেশনা অমান্য করে প্রায় ২ ঘন্টা দেরিতে র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে তাও আবার ছবি তোলা মধ্য দিয়ে শেষ। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আবু বেলাল ছিদ্দিকের নিকট মুঠোফোনে ১.১৮ মিনিটে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউএনও সাহেবের সময় ছিল নাতো। এজন্যই দ্রæত শেষ করে দিয়েছি। ইউএনও ছাড়া কি র‌্যালি বাহিরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না, প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আপনি ইউএনও সাহেব কে জিজ্ঞাসা করেন বলেই ফোন কেটে দেন।

এ নিয়ে দৈনিক অধিকারের ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি তার নিজস্ব ফেসবুক ওয়ালে ‘ছবি তোলার পরই র‌্যালি শেষ। বালিয়াডাঙ্গীতে উদযাপিত হলো বাল্যবিবাহ নিরোধ দিবস। দায়ভার ইউএনও’র উপর চাপাচ্ছেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা।’ লিখে স্ট্যাটাস দেন।

ফেসবুকের স্ট্যাটাসে ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ধ্যার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল আলম সুমন তার অফিস সহায়ক আব্দুল কুদ্দুসের দ্বারা তার দপ্তরে ডেকে পাঠান সাংবাদিক আল মামুন জীবনকে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে হাজির হলে তিনি তার নিজস্ব ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন সাংবাদিক জীবনের সামনে ক্যামেরার ভিডিও রেকর্ডিং চালু করে বলেন, আপনার একটা বক্তব্য নিতে হবে। বলেন ফেসবুকে যে আপনি স্ট্যাটাস দিয়েছেন, কেন?

পরে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানালে তিনি বলেন আচ্ছা ঠিক আছে। কথার মোড় ঘুরাতে সম্প্রতি তিনি দৈনিক অধিকারে প্রকাশ হওয়া “ঠাকুরগাঁওয়ে ঘর বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ” নিয়ে কি প্রমাণ রয়েছে আপনার নিকট এমন প্রশ্ন তুলেন।

প্রতিটি সংবাদের জন্য নির্ধারিত ভিডিও প্রমাণ রয়েছে এমন কথা বললে তিনি বলেন ঠিক আছে আপনার ভিডিওগুলো আমাকে দিয়েন। আমি বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো।

ঘটনা শোনার পর বালিয়াডাঙ্গী প্রেস ক্লাবের সভাপতি এন এম নুরুল ইসলাম বলেন, সত্য কথা তুলে ধরলেই সাংবাদিকরা খারাপ। গত কয়েকদিন ধরে একটা ভিডিও বক্তব্যের জন্য ইউএনওকে কয়েকবার বলার পরও তিনি বক্তব্য দেননি। তাছাড়া একজন সাংবাদিককে তিনি এভাবে ডেকে হেনস্তা করার কোন অধিকার রাখেন না।

জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় গত ০১ সেপ্টেম্বর নতুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার

মো. খায়রুল ইসলাম সুমন যোগদান করেন। তিনি নংরসিংদি জেলার সন্তান এবং ২৯ বিসিএস ব্যাচের ক্যাডার। তিনি এর আগে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন।

(Visited 1 times, 1 visits today)

আরও পড়ুন

ফজলে রাব্বীর আসনে নৌকার হাল ধরতে চান যারা
মহান জাতীয় শহীদ দিবস শাহাদাতে কারবালা দিবসে ফেনীতে র‍্যালী
মুসলিম মিল্লাতের মহান জাতীয় শহীদ দিবস উপলক্ষে ওয়ার্ল্ড সুন্নী মুভমেন্টের সমাবেশ
মহররম ঈমানী শোক ও ঈমানী শপথের মাস, আনন্দ উদযাপনের নয় – আল্লামা ইমাম হায়াত
এমপির বিরুদ্ধে উপজেলা চেয়ারম্যানকে কিল-ঘুষির অভিযোগ
বঙ্গবন্ধুর সমাধীস্থলে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের শ্রদ্ধাঞ্জলী
অসহায় মানুষের মাঝে মাংস বিতরণ করল ‘জীবন আলো’
নোয়াখালীতে প্রবাসীকে মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ