৯ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

‘সম্রাট’ গ্রেফতার প্রশংসায় ভাসছে প্রধানমন্ত্রী ও র‍্যাব

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশের আলোচিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। রোববার ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুরের ফেনীর সাবেক জাতীয় পার্টির নেতা ও বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের দায়িত্বে থাকা এক প্রভাবশালী নেতার বোনের বাড়ি (চৌধুরী বাড়ি) থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

র‍্যাব সদর দফতরের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সিনিয়র সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান ভুইয়া রোববার সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। র‍্যাবের পাঠানো এক খুদে বার্তাতেও এ তথ্য জানা গেছে। সেখানে জানানো হয়, চলমান ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীতে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েন সম্রাটের ডান হাত হিসেবে পরিচিত যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। এরপর ধরা পড়েন রাজধানীর টেন্ডার কিং আরেক যুবলীগ নেতা জিকে শামীম। এ দুজনই অবৈধ আয়ের ভাগ দিতেন সম্রাটকে। তারা গ্রেফতার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাটের অবৈধ ক্যাসিনো সাম্রাজ্য নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। প্রকাশ্যে চলে আসে সুন্দর অবয়বের আড়ালে সম্রাটের কুৎসিত জগত। এতে করে বেকায়দায় পড়েন সম্রাট। এরপর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট।

বিশেষ সূত্রে জানা যায়, এতোদিন অবৈধভাবে ক্যাসিনো পরিচালনাকারী যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট থেকে ঢাকা ও স্থানীয় পর্যায়ের যে সকল সাংবাদিক তার থেকে আর্থিক ও নানাভাবে সুবিধা নিয়েছে তাদের তালিকা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি তারপক্ষে যে সকল গণমাধ্যম কর্মী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম স্টাটাস দিয়েছেন তাদেরও তালিকা গোয়েন্দা সংস্থার হাতে রয়েছে।

এদিকে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট গ্রেফতার হওয়া দেশের জনগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ধন্যবাদ জানান। তারা লিখেন, জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ সরকার ক্ষমতা থাকায় অবস্থায় নিজ দলের এই প্রভাবশালী নেতাকে গ্রেফতারের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন, তিনি দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদের কাছে চির আপোষহীন নীতি অনুসরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু মুখে নয়, বাস্তবে তা আজ সম্রাট কে গ্রেফতারের মধ্যে দিয়ে আরেকবার নজির স্থাপন করেছেন। তিনি দেশের কল্যাণে নিজ দলের যত প্রভাবশালী নেতা হোক ছাড় দিবেন না বলছেন, তা দেশের জনগণ দেখেছে। তিনি দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। আর এই উন্নয়নের পথে যারা বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে। সে যেই হোক তাকে ছাড় না দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে দেশের মানুষকে দেখিয়ে দিয়েছেন। শুধু বাংলাদেশ না পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দেশনেত্রী শেখ হাসিনা। দল ক্ষমতা থাকা অবস্থায় দলের দুর্নীতিবাজ নেতাদের গ্রেফতার করে সরকার ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রেখেছেন।

এদিকে ক্যাসিনো সম্রাট ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট কে গ্রেফতারের পিছনে বড় ভূমিকা রেখেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে র‌্যাব কে অভিনন্দন জানিয়ে বিভিন্ন আইডিতে পোস্ট শেয়ার করা হয়েছে। মানুষ লিখে, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব কাজ করে যাচ্ছে। র‌্যাব আবারো প্রমাণ করল দেশের স্বার্থে যতবড় ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হোক উন্নয়নের পথে বাঁধা হলে ছাড় দেওয়া হবে না। তারা ক্যাসিনো সম্রাট, খালেদ, জি কে শামীম ও আরমানসহ তাদের গ্রেফতার করায় র‌্যাবের প্রধান বেনজীর আহমেদ কে ধন্যবাদ জানায়।

বাংলাদেশ পৃথিবীর একটি উন্নয়নশীল দেশ উন্নতির পথে যে সকল বাধা বিপত্তি রয়েছে তার মধ্যে, অস্থিতিশীল আইন শৃংখলা পরিস্থিতি অন্যতম। এরকম একটি পরিস্থিতিতে যখন সমাজের প্রত্যেকটা মানুষ অনিশ্চিয়তার মাঝে ভুগছিল, তখন পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমকে আরো গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকার একটি এলিট ফোর্স গঠনের পরিকল্পনা করে। ক্রমান্বয়ে সভা-সমন্বয়, আলোচনা ও গবেষনার পর সরকার, স্বারাষ্ট্র মন্ত্রনালয় বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন সংক্ষেপে র‌্যাব ফোর্সেস নামে একটি এলিট ফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। গত ২৬ মার্চ ২০০৪ তারিখে জাতীয় স্বাধীনতা দিবস প্যারেডে অংশ গ্রহনের মাধ্যমে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) জনসাধারনের সামনে আত্মপ্রকাশ করে। জন্মের পরপরই এই ফোর্সের ব্যাটালিয়নসমূহ সাংগঠনিক কর্মকান্ডে ব্যস্ত থাকে এবং স্ব স্ব এলাকা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। এর মাঝে প্রথম অপারেশনাল দায়িত্ব পায় ১৪ এপ্রিল ২০০৪ তারিখে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান-রমনা বটমুলে নিরাপত্তা বিধান করার জন্য । এর পর আবার র‌্যাব মূলত তথ্য সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত ছিল। গত ২১ জুন ২০০৪ সাল থেকে র‌্যাব ফোর্সেস পূর্ণাঙ্গভাবে অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করে। বলা যায়, র‌্যাব এর যে ধারাবাহিক সফলতা তা যদি অব্যাহত থাকে দেশ থেকে দ্রুই সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চোরাচালান ও নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড মুছে যাবে। বাংলাদেশ পৃথিবীতে একটি শান্তিপ্রিয় ও উন্নত রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হবে, আর এজন্য বড় ভূমিকা রাখবে র‌্যাব এ প্রত্যাশা দেশের সকল স্তরের জনগণের।

(Visited 1 times, 1 visits today)

আরও পড়ুন

মুসলিম মিল্লাতের মহান জাতীয় শহীদ দিবস উপলক্ষে ওয়ার্ল্ড সুন্নী মুভমেন্টের সমাবেশ
মহররম ঈমানী শোক ও ঈমানী শপথের মাস, আনন্দ উদযাপনের নয় – আল্লামা ইমাম হায়াত
এমপির বিরুদ্ধে উপজেলা চেয়ারম্যানকে কিল-ঘুষির অভিযোগ
বঙ্গবন্ধুর সমাধীস্থলে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের শ্রদ্ধাঞ্জলী
অসহায় মানুষের মাঝে মাংস বিতরণ করল ‘জীবন আলো’
নোয়াখালীতে প্রবাসীকে মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ
করোনায় সারাদেশে আরও ৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৯৯৮
বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা