২৬শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

ইসলামী প্রকৃত ধারার গবেষণায়

একুশে পদক পাচ্ছেন আল্লামা সৈয়দ সাইফুর রহমান নিজামী শাহ

ইসলামী প্রকৃত ধারার গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন তাফছিরুল কোরআন মাশাহিদুল ঈমানের প্রণেতা, পবিত্র বোখারী শরীফের বাংলা ব্যখ্যাগ্রন্থ তাফহিমুল বোখারি শরীফের প্রণেতা, ওস্তাজুল ওলামা, শায়খুল হাদিস, ইমামে আহলে সুন্নাত, পীরে হাক্কানী, ওলিয়ে রাব্বানী- হজরত আল্লামা সৈয়দ সাইফুর রহমান নিজামী শাহ (প্রধান উপদেষ্টা:- বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব)।

১৯১৬ ইং সন মোতাবেক ১৩২৩ হিজরী পবিত্র রমজান মাসের কদরের রাতে চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলা এক সম্ভ্রান্ত অলি পরিবারে জম্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা পীরে কামেল আলহাজ্ব হাফেজ ক্বারী সৈয়দ শাহ গোলাম রহমান এছমতী (রহঃ) প্রখ্যাত কামেল অলি ছিলেন। তিনি বড় হেকিমও ছিলেন। এই মহান মনিষী রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ৪০তম আওলাদ। এবং তিনি মায়ের বংশের দিক থেকেও হযরত মা ফাতেমা (রাঃ) এর আওলাদ। তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা তার বাবার নিকট থেকেই, তিনি মাত্র ৭বছর বয়সেই কোরআনে হাফেজ হয়েছিলেন, এবং তিনি তাঁর বাবার নিকট থেকে এলমে ক্বেরাত, ছরফ, নাহু, বালাগাত, আরবী, ফার্সি উর্দ্দু এবং তফসীর, ফিকাহ, হাদীস, হাকিমী বিদ্যাও পড়েন; এবং সাথে সাথে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাও অর্জন করেন। তিনি বিলম্বে মাদ্রাসার পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন, ১৯৬০ সালে ঢাকা সরকারী আলিয়া মাদ্রাসা হতে টাইটেল (কামেল) পরীক্ষায় হাদিস বিভাগে বোর্ডের শীর্ষস্থান (প্রথম শ্রেণিতে প্রথমস্থান) বোর্ড স্ট্যান্ড করেন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে এখনো তাঁর ছবি আছে। এছাড়া তিনি আরবী, ইংরেজী, ফার্সি, উর্দু সহ অনেক ভাষায় পারদর্শী।

আল্লামা সৈয়দ সাইফুর রহমান নিজামী শাহ শাইখুল হাদীস, কর্ম জীবন তিনি শিক্ষকতা দিয়ে শুরু করেন, তিনি বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। বিশেষ করে তিনি চট্টগ্রাম ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া ছুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসায় ১ম প্রধান মুহাদ্দিস হিসাবে শিক্ষকতা করেন। বাইতুল মোকাররমের সাবেক খতিব মাওলানা সালাউদ্দিন, জামেয়া আহমদিয়ার সাবেক প্রিন্সিপাল মাওলানা জালাল উদ্দিন আল কাদেরী সহ তাঁর নিকট হাজার হাজার আলেম দ্বীনের প্রকৃত শিক্ষা লাভ করেছিলেন।

বিশ্ব পরিমন্ডলে: ১৯৯৫ সালে কুয়েতের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইউসুফ হাশেম আল রেফায়ীর আমন্ত্রণে কুয়েত গমণ করেন এবং অনেক সভা সেমিনারে অংশ নেন। ১৯৯৬ সালে লন্ডনে “ওয়ালথাম ফারইস্ট ইসলামী এসোসিয়েশন” কর্তৃক আয়োজিত সুন্নী সম্মেলনে যোগদান করেন এছাড়া লন্ডনে তিনি অসংখ্য মাহফিল সভা সেমিনার করেন।

১৯৯৭ সালে মিশর সরকারের আমন্ত্রনে কায়রো আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্বেরাত প্রতিযোগীতায় বিশ্বের ৬জন বিচারকের অন্যতম বিচারক ছিলেন। ২০০৭ সালে উজবেকিস্থানের বোখারা প্রদেশে মীর আরব মাদ্রাসা কর্তৃক আয়োজিত ‘Strengthening the Spiritual Heritage of Islam’ সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ গ্রহণ করেন। মিশরের আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে আরেক অনুষ্ঠানে সুমধুর সুরে কোরআনুল কারীম তিলাওয়াতের জন্য তিনি স্বর্ণ পদক পেয়েছিলেন। তাঁর অক্লান্ত চেষ্টায় সমগ্র বাংলাদেশ এবং আমেরিকা, ইউরোপ, মধ্য প্রাচ্য, এশিয়ার বিভিন্ন দেশসহ পৃথিবীর প্রায় ৪০টি দেশে ইসলামের চিরন্তন ধারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সঠিক ধারা প্রসারে কাজ চলছে।

তিনি ২৭ বার পবিত্র হজ্ব পালন করেন। তিনি পবিত্র কোরআনুল কারীমের তাফসির “তাফসিরে মাশাহেদুল ঈমান” প্রণয়ন করেন, এবং সহীহ বোখারী শরীফের ব্যাখ্যা গ্রন্থ “তাফহিমুল বোখারী শরীফ” প্রণয়ন করেন। এছাড়া ইসালেম প্রকৃত ধারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের উপর গবেষণায় বিভিন্ন বিষয়ে অনেক বই পুস্তক রচনা করেছেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর চট্টগ্রামে বেতারে দেশ ও মানবতার শান্তি কামনা করে সর্বপ্রথম দোআ করেন যা আজ চট্টগ্রাম বেতারের আর্কাইভে সংরক্ষিত রয়েছে। ইসলামের বিকৃত অপব্যাখ্যাকারী সন্ত্রাসী জংগিবাদি ও বিভিন্ন ধর্মের নামে অধর্ম উগ্রবাদি সন্ত্রাস জংগিবাদ থেকে ইসলামের শাস্তি ও মানবতার ধারা তথা ইসলামের প্রকৃত ধারা সুরক্ষা ও সমুন্নত রাখার জন্যই তিনি তাঁর সমগ্র জীবন নিবেদিত রেখেছেন।

তিনি ১৯৭৩ ইং সালে আঞ্জুমানে ইখওয়াতে মারেফাত ট্রাস্ট (আধ্যাত্মিক ভ্রাতৃসংঘ) নামে মানবতার সেবামূলক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৫ সালে মিরসরাই, মস্তান নগরস্থ শাহ গোলাম রহমান এতিম খানা এবং ১৯৭৮ সালে জামেয়া রহমানিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। দেশ বিদেশে আরও অনেক শিক্ষা ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা।

তাঁর কর্মদক্ষতার কারণে বাংলাদেশে সুন্নী পীর- মাশায়েখ- আলেম- ওলামা- বুদ্ধিজীবিরা তাঁকে ১৯৮৩ইং সালে আশুগঞ্জে অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত করেন। তিনি যেমন মুফতী, মুহাদ্দিস ও মুফাসসীর অন্যদিকে দলিলভিত্তিক সুদক্ষ বক্তা, প্রবীণ শিক্ষক, তরিকত ও তাসাউফের মুর্শীদ, যুগের সংস্কারক, ইসলামী চিন্তাবীদ ও গবেষক। সারা বাংলাদেশে এবং ভারত উপমহাদেশসহ পৃথিবী অনেক দেশে তাঁর লক্ষ-লক্ষ ভক্ত মুরিদ রয়েছে।

তিনি বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রধান উপদেষ্টা। তাঁর ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে। তাঁর তিন ছেলে সবাই দ্বীন দুনিয়ার উভয় জ্ঞানে ভূষীত। তাঁরা পিতার সুযোগ্য সন্তান হিসেবে দ্বীন মিল্লাত মানবতার মুক্তি সাধনায় নিবেদিত আছেন। ১ম জন আল্লামা ইমাম হায়াত একদিকে ফিকাহ ও হাদিস শরীফে কামেল, অন্যদিকে এম.এস.সি ও এল.এল.বি, বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবর প্রবর্তক । ২য় জন সৈয়দ আবুল বারাকাত নিজামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.বি.এ ও এম.বি.এ করেন ও আমেরিকার ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করেন। ছোট ছেলে সৈয়দ মাসুদুর রহমান নিজামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.বি.এ ও এম.বি.এ করেন, পরে অস্ট্রেলিয়া থেকে পূর্ণাঙ্গ বৃত্তিসহ উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন।

আমরা দয়াময় আল্লাহতাআলা ও তাঁর প্রিয়তম মাহবুব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে সুন্নীয়তের সূর্য এই মহান মনিষী ও তাঁর সুযোগ্য আওলাদদের জন্য দোয়া করি যেন তাঁরা দীর্ঘজীবী হোন এবং আমরা যেন তাঁদের দিশায় ইসলামের চিরন্তন ধারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সঠিক ধারায় যুক্ত থাকতে পারি, আমীন।

(Visited 1 times, 1 visits today)

আরও পড়ুন

মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর সাধারণের জন্য উন্মুক্ত হবে পদ্মা সেতু
পদ্মা সেতু সাঁতরে মঞ্চে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলল কিশোরী
মাদারীপুর শিবচরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী
টোল দিয়ে পদ্মা সেতু পার হলেন প্রধানমন্ত্রী
২ পরিবর্তন নিয়ে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
‘পদ্মা সেতু’দেশপ্রেমিক জনগণের আস্থা ও সমর্থনের ফলেই আজকে উন্নয়ন : প্রধানমন্ত্রী
রাত পোহালেই স্বপ্নের মাহেন্দ্রক্ষণ
পদ্মা সেতু উদ্বোধনে দাওয়াত পেলেন প্রধান বিচারপতিসহ সব বিচারপতি