২০শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ |

সৌদি রাজপরিবারের ৩ সদস্য আটক

সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ দেশটির রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ তিন সদস্যকে আটক করেছে। সৌদি আরবে প্রাসাদের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে রাজপরিবারের সদস্যদের আটক করা হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। খবর রয়টার্স ও গার্ডিয়ান।

এ ঘটনায় বাদশাহ সালমানের ছোট ভাই আহমেদ বিন আব্দুল আজিজ ও ভাইপো প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফকে আটক করা হয়েছে। গতকাল সৌদি রাজকীয় বাহিনী রাজপরিবারের সদস্যদের তাদের বাড়ি থেকে আটক করে নিয়ে যায়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হবে বলে জানা গেছে।

এর মধ্যে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ তার পুত্র মোহাম্মদ বিন সালমানকে উত্তরাধিকারী ঘোষণা করেন। আটককৃত দুজন বর্তমান বাদশাহকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ও ভবিষ্যৎ বাদশাহ মোহাম্মদ বিন সালমানকে ক্ষমতায় বসতে না দেয়ার ষড়যন্ত্র করছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। আটককৃত অন্যজন হলেন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফের ছোট ভাই প্রিন্স নওয়াফ বিন নায়েফ। তবে এখন পর্যন্ত সৌদি রাজপরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

মূলত সৌদি আরবের প্রসিদ্ধ আলেম, ব্যবসায়ী ও রাজপরিবারের বাকি সদস্যদের কারাগারে প্রেরণ করে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ক্ষমতাকে সুসংহত করছেন বলে মনে করা হচ্ছে। সৌদি রাজপরিবারের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখার মধ্যে কিছুদিন ধরে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব প্রকট রূপ নিয়েছে। তুর্কিতে কূটনৈতিক হত্যা ও দেশটির তেলক্ষেত্রে হামলার পর রাজপরিবারের মধ্য থেকে বর্তমান বাদশাহর নেতৃত্ব দানের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। কিন্তু বাদশাহ সৌদি রাজপরিবারে তার নিকটস্থদের প্রভাব বাড়াতে চাইছেন।

২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলে সৌদি দূতাবাসে সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাদশাহর পুত্র ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন। ওই সময় রাজপরিবারের সমালোচনা প্রশমনের জন্য আটক হওয়া প্রিন্স আহমেদ লন্ডন থেকে রাজপরিবারে ফিরে এসেছিলেন বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে ২০১৭ সালের জুনে ফিরে এসেই প্রিন্স আহমেদ তার পুত্র নায়েফকে বাদশাহ হওয়ার জন্য মনোনীত করার দাবি তোলেন।

এর মধ্যে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তার বিরোধিতাকারী কিংবা সমালোচকদের শাস্তি দিতে এবং জেলে পুরতে সমর্থ হয়েছেন। এসব ক্ষেত্রে বাদশাহ ও যুবরাজ কোনো রকম চাপের মুখে পড়েননি। মূলত অতীতে তার ক্ষমতাচর্চার সাফল্যই রাজপরিবারের প্রতিপক্ষ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উৎসাহিত করেছে। ৮৪ বছর বয়সী সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ এরই মধ্যে তার দায়িত্ব পুত্রের হাতে অর্পণ করেছেন। মূলত যুবরাজই সব রাষ্ট্রীয় কাজ দেখাশোনা করেন। তবে বাদশাহ এখনো মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

আটক আহমেদ বিন আব্দুল আজিজ এর আগে লন্ডনে অবস্থানের সময় সৌদি বাদশাহর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়েছিলেন। তিনি ২০১৭ সালে বর্তমান বাদশাহর দায়িত্ব নেয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। ওই সময়ের পর থেকেই মোহাম্মদ বিন নায়েফের চলাফেরা সীমিত করে দেয়া হয়।

তবে সৌদি রাজপরিবারে ক্ষমতাকেন্দ্রিক সংঘাতের পাশাপাশি বিশ্বের অন্য সংকটগুলোর দিকেও নজর দিতে হচ্ছে রাজপরিবারকে। এ সময় দেশটি ইয়েমেনে যুদ্ধে লিপ্ত এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামিক রাষ্ট্র ইরানের প্রভাবও মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

(Visited ৪৯ times, ১ visits today)

আরও পড়ুন

মহান জাতীয় শহীদ দিবস শাহাদাতে কারবালা দিবসে ফেনীতে র‍্যালী
মুসলিম মিল্লাতের মহান জাতীয় শহীদ দিবস উপলক্ষে ওয়ার্ল্ড সুন্নী মুভমেন্টের সমাবেশ
মহররম ঈমানী শোক ও ঈমানী শপথের মাস, আনন্দ উদযাপনের নয় – আল্লামা ইমাম হায়াত
করোনায় সারাদেশে আরও ৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৯৯৮
বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
পেপসির সঙ্গে বিষ খাইয়ে খুন, যুবকের যাবজ্জীবন
চাল আমদানির সুযোগ পাচ্ছে ১২৫ প্রতিষ্ঠান
প্রধানমন্ত্রী সন্তানদের সাথে পদ্মা সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ