১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ |

একজন সম্মুখ সারির করোনা যোদ্ধা শেখ রুনা

প্রাত্যহিক জীবনে সুস্থতা যেমন বড়ো একটা নেয়ামত তেমনি অসুস্থতায় নেমে আসে হতাশার দীর্ঘশ্বাস। তাই সঠিকভাবে ভরপুর জীবনের জন্য সুস্থ থাকাটা বাঞ্ছনীয়। কিন্ত এমন একটি সময়েই তাবৎ বিশ্বে চলছে স্মরণকালের ভয়াবহতম প্রাণঘাতী করোনার মহাদুর্যোগের মহারণ।

যেখানে ইতিমধ্যেই সারাবিশ্বে প্রাণ হারিয়েছে ৩ লাখ ৪৪ হাজারের অধিক এবং আক্রান্ত প্রায় ৫৪ লাখ মানুষ।আজকের এই নির্মম বাস্তবতায় নায়কোচিত বীরের ভূমিকায় থেকে সম্মুখ যুদ্ধে করোনাকে ” রুখে দেবার প্রত্যয় নিয়ে মোকাবেলা করে যাচ্ছেন শত শত হৃদয়বান ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মীগণ, সেনাবাহিনী, পুলিশ, সংবাদকর্মীরা। তেমনি এক সম্মুখ করোনা যোদ্ধা রিজেন্ট হাসপাতালের পরিচালক শেখ রুনা।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে মানুষ যেখানে নিজের জিবন বাঁচাতে ব্যাস্ত সেখানে শেখ রুনা নিজেকে উৎসর্গ করলেন করোনা রোগীদের সেবায়।

মানবিকতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ তিনি। পরিবার পরিজন ছেড়ে, জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে, দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ব সচেতন হয়ে দিনরাত করোনা আক্রান্তদের সেবা করে যাচ্ছেন শেখ রুনা। প্রতিদিন খবরের শিরোনামে উঠে আসছে একের পর এক ডাক্তার আক্রান্তের সংবাদ। তাও করোনা আক্রান্তদের পাশে থেকে তিনি কখনোই পিছুপা হননি। বরং নিজে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন কি না তা ১ সপ্তাহ পর পর পরীক্ষা করে যখন ফলাফল নেগেটিভ আসে তখন আবার পূনরায় করোনা রোগীদের সেবায় নেমে পড়েন।
একজন সম্মুখ সারির করোনা যোদ্ধা শেখ রুনা
একজন সম্মুখ সারির করোনা যোদ্ধা শেখ রুনা

আশায় বুক বেঁধে ঘর ছেড়েছেন । পরিবারের পিছুটান উপেক্ষা করেই দেশ সেবায় পা বাড়িয়েছেন তিনি। প্রথমসারিতে দাঁড়িয়ে জীবন বিপন্ন করে মানুষকে বাঁচিয়ে তোলার চেষ্টা করে চলেছেন প্রতিটা মুহূর্তে।

শেখ রুনা ইতিমধ্যেই তার কর্মে স্থান করে নিয়েছে অনেকের হৃদয়ে। স্থান করে নিবেই না কেন। করোনা রোগীদের পাশে তিনি যেখাবে দাড়িয়েছেন তা ইতিহাসে বিরল। করোনা রোগীদের পাশাপাশি তিনি যদি শুনেন সাংবাদিক কিংবা তাদের পরিবারের কেউ আক্রান্ত হয়েছেন তখন তিনি নিজের পরিবারের সদস্য মনে করে তাদের সেবা প্রদান করেন।

করোনার এই ঝড় কবে থামবে কে জানে। গবেষকরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ভেক্সিন আবিষ্কারের। এখনো ট্রায়াল চলছে, বাজারে আসতে আরও পাঁচ থেকে ছয় মাস লাগবে ধারনা করা হচ্ছে। আর ততদিনে পৃথিবীর বুক থেকে বিদায় নেবে অনেক প্রাণ। অনেকে আবার ফিরে আসবে তার আপনজনের কাছে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে মানুষ জীবন–মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে,আর সেবা দিয়ে যাচ্ছেন শেখ রুনার মত মানবতার ফেরিওয়ালারা । শেখ রুনার মত মানুষ আছে বলেই হয়তো করোনায় জিবন মৃত্যুর সানিধ্যেও মানুষ বুক ভরে বাঁচার শ্বপ্ন দেখে। তাদের এ অবদানের কথা মানুষ কখনোই ভুলবে না। স্যালুট শেখ রুনা।

সাজ্জাত চিশতী/মানব বার্তা

(Visited ১৩৬ times, ১ visits today)

আরও পড়ুন

হযরত খাজাবাবা (রঃ) ও জামে আওলিয়া কেরামের পথ পূণরুদ্ধার সম্মেলন অনুষ্ঠিত
বীর মুক্তিযুদ্ধা আব্দুল আলিম এর সহধর্মীনি নুরজাহান বেগম আর নেই
ফজলে রাব্বীর আসনে নৌকার হাল ধরতে চান যারা
মহান জাতীয় শহীদ দিবস শাহাদাতে কারবালা দিবসে ফেনীতে র‍্যালী
মুসলিম মিল্লাতের মহান জাতীয় শহীদ দিবস উপলক্ষে ওয়ার্ল্ড সুন্নী মুভমেন্টের সমাবেশ
মহররম ঈমানী শোক ও ঈমানী শপথের মাস, আনন্দ উদযাপনের নয় – আল্লামা ইমাম হায়াত
এমপির বিরুদ্ধে উপজেলা চেয়ারম্যানকে কিল-ঘুষির অভিযোগ
বঙ্গবন্ধুর সমাধীস্থলে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের শ্রদ্ধাঞ্জলী