২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ |

অস্তিত্ব টিকানোর যুদ্ধে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকরা

বেঁচে থাকার যুদ্ধে হেরে যেতে বসেছে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকরা। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আশির অধিক কিন্ডারগার্টেনের অধিকাংশ শিক্ষকের একই অবস্থা। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন আজ হাতছাড়া। শুধুমাত্র শিক্ষকই সংকটাপন্ন নয়,সংকটাপন্ন কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠানগুলোও। বেশিরভাগ কিন্ডারগার্টেন ভাড়া দিয়ে চলতে হয়। সেই ভাড়া আদায়ের একমাত্র পথ শিক্ষার্থীদের বেতন। চারমাস ধরে বেতন আদায় বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানের ভাড়া পরিশোধ সম্ভব হচ্ছে না। তাই লকডাউন শেষ হলে হয়তো দেখা মিলবেনা বেশ কিছু কিন্ডারগার্টেনের। যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো অস্তিত্ব সংকটে, সেখানে শিক্ষকদের অবস্থা আবারও কপালে ভাঁজ সৃষ্টি করে।

ঈশ্বরগঞ্জের কিন্ডারগার্টেন গুলোর বেশিরভাগ শিক্ষক শুধুমাত্র এই পেশার সাথেই যুক্ত। প্রথম সারির কিন্ডারগার্টেন থেকে শুরু করে শেষ সারির কিন্ডারগার্টেন গুলোর প্রদত্ত সম্মানিও যতসামান্য। এক হাজার থেকে শুরু করে অনধিক পাঁচ হাজার। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই সম্মানি দিয়ে খেয়ে পড়ে জীবনযাপন প্রায় অসম্ভবের সামিল। তার জন্য বাধ্য হয়েই শিক্ষকদের টিউশন দিতে হয়। কিন্তু ” মরার উপর খাড়ার ঘাঁ ” এর মত, সেই রাস্তাও বন্ধ।

বেশ কিছু শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা যায়,তারা চরম কষ্টে দিনযাপন করছেন।কেউ কেউ মনে করছেন, শিক্ষকতা পেশায় আসাই বড় অপরাধ। এই পেশার সিল কপালে লাগানোকে জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল বলে মনে করছেন অনেকেই। তাদের অযৌক্তিক কথাগুলো হয়তো আপাত দৃষ্টিতে ভুল মনে হবে, কিন্তু সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে হয়তো এর চেয়ে যৌক্তিক কথা আর হয় না! না পারছেন মানুষের কাছে মুখ ফুটে বলতে,না পারছেন রাস্তায় দাঁড়াতে,না পারছেন সরকারের নিষেধ ভাঙতে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন, তাদের সংসারে তিন বেলা রান্না বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই। যাই খাচ্ছেন সব ধারকর্জ করে। কিন্তু ধার চাইতেও তাদের খুব অসহায় বোধ হয়। সে অসহায় বোধ নিজেকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। বাংলাদেশের মত দরিদ্র দেশের পক্ষে সবাইকে প্রণোদনা দেওয়া হয়তো সম্ভব না,তাই তাদের জন্য কিছু একটা ভাবতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁরা।

ঈশ্বরগঞ্জ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক মো: আমজাদ হোসেন সোহেল বলেন, তাদের নিয়ন্ত্রণে চল্লিশটি কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। প্রায় সবগুলোই নাজেহাল। কেউই ঠিকমত শিক্ষক, কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছেন না। বাকি পড়ে আছে প্রতিষ্ঠানের ভাড়া। তাদের অস্তিত্ব টিকানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় সঠিক দিকনির্দেশনা না পেলে ঝড়ে পড়বে অনেক প্রতিষ্ঠান,সেই সাথে রোজগার হারাবে বহু শিক্ষক। তিনি আরও বলেন,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আর্থিক সহায়তার আবেদন করা হয়েছিল। তখন ইউএনও মহোদয় তাদেরকে ৬০ প্যাকেট খাবার বরাদ্দ দিয়েছিলেন। সেগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আয়া, দপ্তরির মাঝে বিতরণ করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জাকির হোসেন মুঠোফোনে জানান, “ঈশ্বরগঞ্জ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন” এর লিখিত আবেদন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে সরকার কোন সিদ্ধান্ত নিলে তা আমরা কার্যকর করবো। এছাড়াও কোন শিক্ষক অথবা কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে সমস্যার কথা জানালে, তাকে সহায়তা করা হবে বলে জানান তিনি।

মো: জাহিদ হাসান
০১৯৮৪১৫০৮৪৫

(Visited ২৮ times, ১ visits today)

আরও পড়ুন

হযরত খাজাবাবা (রঃ) ও জামে আওলিয়া কেরামের পথ পূণরুদ্ধার সম্মেলন অনুষ্ঠিত
বীর মুক্তিযুদ্ধা আব্দুল আলিম এর সহধর্মীনি নুরজাহান বেগম আর নেই
ফজলে রাব্বীর আসনে নৌকার হাল ধরতে চান যারা
মহান জাতীয় শহীদ দিবস শাহাদাতে কারবালা দিবসে ফেনীতে র‍্যালী
এমপির বিরুদ্ধে উপজেলা চেয়ারম্যানকে কিল-ঘুষির অভিযোগ
বঙ্গবন্ধুর সমাধীস্থলে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের শ্রদ্ধাঞ্জলী
অসহায় মানুষের মাঝে মাংস বিতরণ করল ‘জীবন আলো’
নোয়াখালীতে প্রবাসীকে মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ