২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ |

চায়নার বাংলাদেশ কুটনীতিতে ভারতের কপালে চিন্তার ভাজ

লাদাখ সিমান্তে চলমান উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিন এশিয়া ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন অনেকটাই স্পষ্ট। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় থেকে প্রতিবেশী ভারত আমাদের পরক্ষিত বন্ধু। কিন্তু চলমান উওেজনায় চীনা সমরাস্ত্রের পাশাপাশী কূটনীতিক ভাবেও ব্যপক তৎপরতায় কোনঠাসা করে ফেলছে ভারতকে। তারই অংশ হিসাবে হঠাৎই বাংলাদেশ ৫১১৬ টি পণ্য শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশের সুযোগ অথবা কোভিট১৯ এর ভেকসিন আবিষ্কার পর সর্ব প্রথম বাংলাদেশেকে সরবারাহের ঘোষণা কূটনৈতিক ভাবে বাংলাদেশকে চিনের পাশে রাখারই একটি কৌশল ( উল্লেখ্য চিন করণা ভেকসিন তৃতীয় ধাপে মেডিকেল ট্রায়েল শুরু করেছে)।

বাংলাদেশের বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশিদার ভারতের কাছ থেকে দখলে নিয়েছে চীন প্রায় এক যুগ ধরে। কক্সবাজারে বিলিয়ন ডলারের সাবমেরিন ঘাঁটি নির্মাণ, বৈদেশিক বিনিয়োগে চীনের অবদান বৃদ্ধি, মেগা প্রজেক্টে চীনের কাছে ভারতের পরাজয়, স্টক এক্সচেঞ্জ দখলেও চীনের কাছে হেরে যাওয়া ভারত ভাল ভাবে মেনে নিতে পারছে না।

সম্প্রতি ভারতের গণমাধ্যমে আরেকটি আশঙ্কা প্রকাশ পাচ্ছে সেটি হল চীনের সাথে সিস্টার সিটি ডিপ্লোম্যাসি। সব মিলিয়ে “বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক ভাল” কথাটির উপর আস্থা রাখতে পারছেনা ভারতীয় বিশ্লেষকগণ। বাংলাদেশ যখম চীন থেকে মিং ক্লাস সাবমেরিন সংগ্রহ করে তখন থেকেই ভারত আরো জোরেশোরে নড়ে বসেছে। ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর এবং ৪০ বিলিয়ান ডলারের বিশাল বিনিয়োগ ভারতকে বাংলাদেশের কাছে আরো দূর্বল করে দিয়েছে চীন।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সাথে কোন প্রতিবেশির সম্পর্ক ভাল যাচ্ছে না।দৈঘ্যদিন ভারতে পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণে থাকা নেপালের সাথে সীমান্ত উওেজনা সম্প্রতি নেপালের-ভারত একটি অঞ্চলকে ভারতের অংশ হিসাবে দাবী পর থেকে সিমান্ত এলাকায় নেপাল সেনা মোতায়ন করে এছাড়াও ভুটান তাদের সিমান্ত ওয়াচ টাওয়ার গুলো চীনকে ব্যবহারের অনুমতি দেয়া দক্ষিন এশিয়ায় ভূরাজনৈতিতে ভারতের জন্য মোটেও ভাল লক্ষন নয়। এর ভেতর করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলায় চীন বাংলাদেশের পাশে থাকতে ৯৭% পণ্যে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার দিতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের আট হাজার ২৫৬টি পণ্য শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে চীনে।

তিনটি পণ্য ক্যাটাগরিতে ৮,২৫৬টি পণ্যের ওপর চীন এই সুবিধা দিবে। প্রথম ক্যাটাগরি হচ্ছে ‘সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ স্বল্পোন্নত’, যার অধীনে ৫,১৬১টি পণ্য, দ্বিতীয় ক্যাটাগরি ‘সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ স্বল্পোন্নত-১’, যার অধীনে ২,৯১১টি পণ্য এবং ‘সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ স্বল্পোন্নত-২’, যার অধীনে ১৮৪টি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।

চীনের এই সিদ্ধান্তে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি ৭০ কোটি ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। সেই সাথে চীনের অনেক কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছে কারখানা স্থানান্তর এর অংশ হিসাবে। মিরসরাই ইকোনমিক জোনে গাড়ি নির্মাণ, স্টিল খাতে বিনিয়োগ সহ অনেক খাতে চীন বড় রকমের প্রভাবশালী হয়ে উঠবে নিকট ভবিষ্যতে।

কূটনীতি বিভিন্ন ভাবে হয়। কোন দেশকে শত্রু ভেবে প্রকাশ্যে বিরোধীতা করাও হতে পারে যেমনটা করছে পাকিস্তান। আবার নিরবে হাসিমুখে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার ও হতে পারে। এক্ষেত্রে সুবিধা হল সরাসরি বাধা এড়িয়ে নিজেদের লক্ষ্যে পৌছানো যায়। অর্থনীতিকে কোন নেতিবাচক প্রভাবের সম্মুখীন হতে হয়না। আবার সরাসরি বৃহৎ শক্তির প্রভাবের বাইরে থেকে ভারসাম্য বজায় রেখে চলা যায়। ভারত চায় না বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বাড়ুক। কিন্তু সুসম্পর্কের চাদরে চীনের প্রভাব কমাতেও ভারত ব্যার্থ।তাছাড়া বিভিন্ন সময় ভারতীয় সিমান্তরক্ষী অবৈধ সীমান্তে হত্যাকান্ড বিভিন্ন পানি চুক্তি অথবা বৈষম্যমূলক বানিজ্যের কারণে বাংলাদেশের বড় একটি অংশের মানুষের মাঝে চলমান ভারত বিরোধী অসোন্তসকে কী ভাবে বন্ধু ভারত রাজনৈতিক ভাবে সামাল দিবে তাও ভাবার বিষয়। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের চাইনিজ ডিপ্লোম্যাসি যে ভারতের ভীতি আরো বাড়াবে সেটি সহজেই অনুমেয়।বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্র নৈতিই ভবিষ্যৎ বলে দেবে

(Visited ২৫ times, ১ visits today)

আরও পড়ুন

বঙ্গবন্ধু হত্যার মাধ্যমে এ জাতি কলঙ্কিত হয়েছে বিশ্ব দরবারে
বেসরকারি চাকরিজীবীদের বোবা কান্না
গৌরব, আত্মমর্যাদা, আত্মবিশ্বাসের পদ্মা সেতু
দল ক্ষমতায় থেকেও কেন অসহায় যুবায়েররা?
মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব হোক বাঙালি জাতির অনুপ্রেরণা
একজন মানবিক মানুষের সত্যি গল্প
শপথ নিন সাংবাদিক নিপীড়কদের সাথে কোন আপোষ করবোনা
প্রাকৃতিক দুর্ভিক্ষ নয় রাজনৈতিক দুর্ভিক্ষই বিশ্বব্যাপী জীবন মানবতার মহা সংকট