২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ |

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃতের ব্যক্তির লাশ দাফন করলো উপজেলা প্রশাসন

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে প্রথম করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া মজিবুর রহমান আকন (৪৬) এর লাশ দাফন দিতে এগিয়ে আসেনি কেউ। এমনকি পরিবারের লোকজন লাশের কাছে যায়নি বলে জানা যায়। মির্জাগঞ্জের কিসমতপুর গ্রামের ঢাকা থেকে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দিকাশি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসা মজিবুর বৃহস্পতিবার রাত ০৯.০০ সময় নিজ বাড়িতে মারা যান। এরপর থেকে লাশটি পড়ে থাকে। এমনকি ওই ইউনিয়নের করোনায় মারা যাওয়া ব্যাক্তিদের লাশ দাফনের চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি থাকলেও মজিবর আকন মারা যাওয়ার পরেই অজ্ঞাত কারনে তাদের মোবইল ফোনগুলো বন্ধ থাকে। পরে তাদের মধ্যে ২-১ জনকে দেখা গেলেও লাশ দাফনের সময়ে তাদরে আর খুজেঁ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় এলাকাবাসী তো নয়ই, লাশের কাছে আসেনি মজিবরের স্বজনরাও। কিন্তু লাশ দাফনে কেউ এগিয়ে না এলে এ খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে আসেন মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মো: সরোয়ার হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন জোমাদ্দার ও সাধারন সম্পাদক মোঃ রাকিব মৃধা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার মৃতব্যাক্তিসহ তাদের নমুনা সংগ্রহ করে চলে যাবার পরে। ইউএনও’র নেতৃত্বে মৃত্যু মজিবরের ঘর থেকে তাঁর লাশ দাফনের জন্য বের করে আনেন ইসলামী ফাউন্ডেশনের মসিজিদ ভিত্তিক শিক্ষক ও হাসপাতালের প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত ইমাম মাওলানা মোঃ ইউসুফ আলী, উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন জোমাদ্দার ও সাধারন সম্পাদক মোঃ রাকিব মৃধা। জানাজায় ইমামতি করেন মাওলানা মোঃ ইউসুফ আলী। জানাজায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়রা বলেন, মজিবর বাড়িতে আসার পর থেকে তার ঘরে কেউ যাও আশা করত না। তারা নিজেরাই ঘরের ভিতরে থাকতো। খাবার দাবার ও পানি বাইরে লোকজন সরবরাহ করতো। ঢাকা থেকে শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও সর্দিকাশি নিয়ে আসার পরে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় এবং তিনি অসুস্থ্য হয়ে রাত ০৯.০০টার দিকে মারা যান। তিনি ভালো মানুষ ছিলেন। ঢাকাতে গ্রাম থেকে কেউ বেড়াতে গেলে অকে যত্ন করতেন। ঘুমানোর জায়গা না থাকলেও সে নিজের ঘর ছেড়ে দিয়ে অন্যের বাসায় গিয়ে থাকতো। নিহতের ছেলে আশিক আকন জানান, ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে গাড়ি চালাতো আমার পিতা। আমি সাভারে পুলিশে চাকুরি করি। মা ও এক বোন নিয়ে আমার পিতা ঢাকার মহাখালীতে থাকতেন। এক সপ্তাহ যাবত তাঁর জ্বর, সর্দি, কাশিতে ভুগছিলেন। মারা যাওয়ার দু‘দিন আগে পরিবারের মা-বাবা ও বোন মির্জাগঞ্জের নিজ বাড়িতে আসেন। ঢাকা থেকে আসার পরে আমার পিতাকে বাড়িতে এসে আর পাইনি। করোনায় মৃতব্যাক্তির মারা যাওয়ার সময় অনেক ঝটপট করেছে। লাশ দাফনের জন্য নিয়ে আসার সময়ে দেখা যায়, খাট থেকে নিচে মৃতব্যাক্তির পা ঝুলে আছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তর দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা জানান, শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দিকাশি নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির উপসর্গগুলো করোনার লক্ষন ধারনা করা হচ্ছে। মারা যাওয়া ব্যক্তি ও তাঁর সংস্পর্শে আসা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ৪জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার ফলাফল না আসা পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মো: সরোয়ার হোসেন বলেন, মির্জাগঞ্জে করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির লাশ দাফনে বিলম্ব হচ্ছে। এমনিকি কেউ তাঁর কাছে যেতে অনিহা প্রকাশ করেন। পরে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতারা ও মসজিদের ইমাম এর সহ-যোগীতায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে লাশের জানানা ও দাফন দেয়া হয়। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পজেটিভ হলে ওই বাড়ি লকডাউন করা হবে।

(Visited ৭ times, ১ visits today)

আরও পড়ুন

হযরত খাজাবাবা (রঃ) ও জামে আওলিয়া কেরামের পথ পূণরুদ্ধার সম্মেলন অনুষ্ঠিত
বীর মুক্তিযুদ্ধা আব্দুল আলিম এর সহধর্মীনি নুরজাহান বেগম আর নেই
ফজলে রাব্বীর আসনে নৌকার হাল ধরতে চান যারা
মহান জাতীয় শহীদ দিবস শাহাদাতে কারবালা দিবসে ফেনীতে র‍্যালী
এমপির বিরুদ্ধে উপজেলা চেয়ারম্যানকে কিল-ঘুষির অভিযোগ
বঙ্গবন্ধুর সমাধীস্থলে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের শ্রদ্ধাঞ্জলী
অসহায় মানুষের মাঝে মাংস বিতরণ করল ‘জীবন আলো’
নোয়াখালীতে প্রবাসীকে মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ