২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ |

বাতাসে উড়ন্ত টাকা গুলো ধরতে চলে এলাম বিদেশে

👉 আমি একজন প্রবাসী প্রবাস কথাটা শুনলেই কলিজার পাশ কাটিয়ে একটা দাগ কেটে যায়। যখন দেশে ছিলাম তখন আমার বাবা ছিলেন একজন প্রবাসী। বাবার কাছে কত চাহিদা ছিল, সব চাহিদা বাবা হাসিমুখে পূরণ করতেন।

যেদিন এসেছিলাম তার পর দিন থেকেই কাজ শুরু করেছিলাম। ভালো প্যান্ট-শার্ট পরে যখন গাড়িতে করে কাজের স্থানে নিয়ে গিয়েছিল, তখন মনের সব স্বপ্ন চোখ দিয়ে বের হয়ে ওড়ে গেল ওই নীল আকাশে- যেখানে স্বপ্ন দেখতাম চেয়ার-টেবিলে বসে অফিস করব।

এভাবেই প্রতিটা প্রবাসী একদিন তার নিজ স্বপ্নগুলোর কথা নিজের অজান্তেই ভুলে যায়। যতই দিন যায় ততই চাহিদা বাড়ে; কিন্তু বেতন বাড়ে চাহিদার ১ শতাংশ।

একটা প্রবাসীর কাঁধের ওপর ভর করে কয়েকটা জীবন স্বপ্ন সাজায় ভালো থাকার। প্রবাসী ছেলেটা হাজারো কষ্টের বিনিময়ে পরিবারের জন্য মাস শেষে টাকা পাঠায়, বসের কাছে প্রতিদিন কত কথা শুনতে হয় তা শুধু যারা প্রবাসে থাকেন তারাই জানেন।

সারা দিন কাজ করে বাসায় ফিরে কাপড় পরিষ্কার করতে হয়, রান্না করতে হয়, গোসল করে বাড়িতে ফোন দিয়ে সবার খোঁজখবর নিতে হয়- তাও হাসিমুখে।

কিন্তু বাড়ি থেকে শুনতে হয় শুধু চাহিদার কথা। এই মাসে এত লাগবে, এই খরচ ওই খরচ শুধু খরচ আর খরচ। আর সেই চাহিদার বোঝা মাথায় নিয়ে যখন ছেলেটা ঘুমাতে যায়, তখন আর ঘুম আসে না চিন্তায়।

রাত শেষ হয়ে ভোর হয়। আবার কাজ শুরু সকাল ৮ থেকে রাত ৯টা-১০টা। এভাবেই চলতে থাকে একজন প্রবাসী জীবনের গল্প
সুজন ভাইয়ের কথা গুলো মনে পড়লে আজ ও চোখ ছলছল করে
মানুষ টার মনে অনেক অভিমান, সেগুলো এখানে নাইবা বললাম। প্রতি মাসে ওর ফ্যামিলি বেতন পাওয়ার আগেই চাপে রাখে টাকার জন্য।
সুজন ভাই আমার সঙ্গেই থাকে। ওকে আমার অনেক ভালো লাগে। দেখতে সুন্দর, খোঁচা খোঁচা দাড়িগোঁফ। মাস ধরে সুজন ভাই মনমরা হয়ে থাকত। বেতন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব টাকা দিয়ে দিতে হয়।

কয়েক দিন হল সুজন চুপচাপ হয়ে গেছে; কিছু জিজ্ঞেস করলেই চোখ ছলছল করে ওঠে আর বলে ভাই- স্যালারি দেবে কবে?

প্রতি মাসের ৬-৭ তারিখ বেতন আসে; কিন্তু আজ ১০ তারিখ বেতন আসেনি। বাড়ি থেকে একটু পর পর ফোন দিচ্ছে টাকার জন্য।

ওর খাবার টাকাও শেষ। কাজে আসার জন্য প্রতিদিন বাস ভাড়ার টাকা তাও শেষ এক সপ্তাহ আগেই। এক সপ্তাহ আগে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে দেখি রেডি হয়ে বসে আছে, কিন্তু রুম থেকে বের হচ্ছে না।

কাছে যেতেই বলল ভাই কাজে যেতে পারব না। পরে ২০০ রিয়াল দিয়ে কাজে যেতে বললাম।

আজকে ১০ তারিখ হয়ে গেছে কিন্তু বেতন আসেনি, টাকাও নাই। লজ্জায় বা যে কোনো কারণে আমাকেও কিছু বলেনি। একা একাই রুম থেকে চুপ করে বের হয়ে গেল।

ট্রেন স্টেশন এসে সুজন ভাই আশায় আছে যদি কোনো পরিচিত কেউ আসে তার কাছ থেকে ২০ রিয়াল নিয়ে টিকিট কেটে আসবে। কিন্তু পরিচিত কাউকে পায়নি, তাই অপরিচিত কয়েকজন বাংলাদেশি ভাইয়ের কাছে হাত পেতেও ২০ রিয়াল পায়নি। কিন্তু সে মাস শেষে ঠিকই ৮০ হাজার টাকা বেতন পায়।
সুজন ভাই তখন নিরুপায় হয়ে এক আরবি মহিলার কাছে ২০ রিয়াল চায়। লিখতে গিয়ে আমার চোখের জল ফোনের ডিসপ্লেতে পড়ছে।

কি বলব ভাই বিশ্বাস করেন সঙ্গে সঙ্গে ওই ভদ্রমহিলা ১০০ রিয়াল দিয়ে বলল ‘অলাদ ইনতা মজুদ আক্কেল?’

এই কথা বলার পর সুজন ভাই সঙ্গে সঙ্গে কান্না শুরু করল। ভদ্রমহিলা আবারও বলল- ‘মাফি মুসকিল কাল্লাম আনা ইয়া অলাদ ? সুজন ভাই আবেগে থ্যাংকস ছাড়া আর কিছুই বলতে পারেনি।

একজন প্রবাসী পরিবারের চাহিদা মেটাতে গিয়ে অনবরত নিজের জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে বাঁচে প্রবাসের একেকটা প্রবাসী একেকটা সুজনের

(Visited ১৮ times, ১ visits today)

আরও পড়ুন

বঙ্গবন্ধু হত্যার মাধ্যমে এ জাতি কলঙ্কিত হয়েছে বিশ্ব দরবারে
বেসরকারি চাকরিজীবীদের বোবা কান্না
গৌরব, আত্মমর্যাদা, আত্মবিশ্বাসের পদ্মা সেতু
৪ বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক প্রেরণ প্রক্রিয়া শুরু
দল ক্ষমতায় থেকেও কেন অসহায় যুবায়েররা?
বৈদেশিক কর্মসংস্থানের নতুন রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ
মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব হোক বাঙালি জাতির অনুপ্রেরণা
আরব আমিরাত বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী উদযাপন