২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ |

সোনাগাজীতে করোনার উপসর্গ নিয়ে বাবার মৃত্যু-দাফনে পাশে যায়নি সন্তানরাও !

সোনাগাজীতে করোনার উপসর্গ নিয়ে সাহাব উদ্দিন (৫৫) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে বাড়িতে অসুস্থ্য অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জ্বর, কাশি, হাঁচি, শ্বাসকষ্ট রোগে ভুগছিলেন।তার মৃত্যু ও দাফনে পাশে যায়নি পরিবারের সদস্যরা। তিনি উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাদাদিয়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

স্থানীয়রা জানায়, গত কিছুৃদিন আগে তার শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। একই সঙ্গে জ্বর ও কাশিও ছিল।স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হয়ে যান। গত শনিবার রাত থেকে হঠাৎ জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় রোববার সকালে তিনি নিজে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে নমুনা দিয়ে আসেন। পরে রাতেই তার মৃত্যু হয়। একই দিন রাতে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় তার লাশ জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

মতিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রবিউজ্জামান বলেন, সাহাব উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে একটি পেট্টোল পাম্পে চাকরি করতেন। হঠাৎ তিনি অসুস্থ্য হয়ে গত বুধবার রাতে বাড়িতে আসেন। শনিবার রাত থেকে তার শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও কাশি বেড়ে যায়।পরদিন সকালে তিনি হাসপাতালে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত কিনা তা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়ে আসেন। দুপুরে বাড়িতে আসলে পরিবারের লোকজন তার সঙ্গে রুঢ় আচরন করে তাকে এক ঘরে করে রাখেন। ইউপি চেয়ারম্যান রবিউজ্জামান বলেন, সাহাব উদ্দিনের ছোট ছেলে তাকে জানায়, রোববার হাসপাতাল থেকে আসার পর থেকে পরিবারের কেউ তার বাবার সঙ্গে কথা বলেনি।

বিকেলে তার শ্বাসকষ্ট ও কাশি বেড়ে যায়। এসময় তিনি চিৎকার করতে থাকলে কেউ একজন তার শয়ন কক্ষে ছিটকারী দিয়ে সবই অন্যত্র চলে যায়। ছোট ছেলে এগিয়ে যেতে চাইলে তাকে বোনেরা বাধা দেয়। এভাবে চিৎকার করতে করতে রাত দশটার দিকে তার বাবার মৃত্যু হয়। রাতে সাড়া শব্দ না শোনে পরিবারের লোকজন জানালা দিয়ে উকি দিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে সবাই যার যার ঘরের দরজা বন্ধ করে ভেতরে ঢুকে যান।

পরে ছোট ছেলে তার বাবা মারা গেছে বলে চিৎকার শুরু করে। বাড়ির অন্য লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে চেয়ারম্যান গ্রামপুলিশ নিয়ে ওই বাড়িতে ছুটে যান। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পর পরিবারের একজন দরজা খুলে দিয়ে তার কক্ষে চলে যান। এরপর তিনি লাশ দাফন করার জন্য স্থানীয় মসজিদ থেকে খাট আনতে লোক পাঠালে কিছু লোক খাট ও কবর দিতে বাধা দেয়। পরে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় গভীর রাতে পরিবারের লোকজনের অনুপস্থিতিতে জানাযা শেষে লাশ দাফন সম্পন্ন করেন। ইউপি চেয়ারম্যান মো. রবিউজ্জামান বলেন, লোকটির মৃত্যুর পর তার পরিবারের কোন সদস্য সহায়তা ও লাশ দাফনে এগিয়ে আসেনি। এনিয়ে তার ইউনিয়নে করোনার উপসর্গ নিয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

তবে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন,বাড়ীর বেশিরভাগ পুরুষই বাইরে থাকেন। তাছাড়া প্রয়াত সাহাব উদ্দিনের বাড়ীতে থাকা ছেলেটিও ছোট।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা উৎপল দাস মানব বার্তা কে বলেন, করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া সাহাব উদ্দিন রোববার সকালে হাসপাতালে এসে নিজেই নমুনা দিয়ে গেছেন। তার দাফন কাজে অংশ গ্রহনকারীদের পিপিই ও সুরক্ষা সরঞ্জাম দিয়ে তিনি সহায়তা করেন। সোনাগাজী উপজেলায় এ পর্যন্ত দুই চিকিৎসকসহ ২১জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

(Visited ১৫ times, ১ visits today)

আরও পড়ুন

হযরত খাজাবাবা (রঃ) ও জামে আওলিয়া কেরামের পথ পূণরুদ্ধার সম্মেলন অনুষ্ঠিত
বীর মুক্তিযুদ্ধা আব্দুল আলিম এর সহধর্মীনি নুরজাহান বেগম আর নেই
ফজলে রাব্বীর আসনে নৌকার হাল ধরতে চান যারা
মহান জাতীয় শহীদ দিবস শাহাদাতে কারবালা দিবসে ফেনীতে র‍্যালী
এমপির বিরুদ্ধে উপজেলা চেয়ারম্যানকে কিল-ঘুষির অভিযোগ
বঙ্গবন্ধুর সমাধীস্থলে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের শ্রদ্ধাঞ্জলী
অসহায় মানুষের মাঝে মাংস বিতরণ করল ‘জীবন আলো’
নোয়াখালীতে প্রবাসীকে মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ