১২ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

মহামারি করোনার কারণে মাগুরার শ্রীপুরে গরুর খামারীরা পড়েছেন চরম বিপাকে!

মাগুরার শ্রীপুরে মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে চরম বিপাকে পড়েছেন গরুর খামারীরা। উপজেলায় ছোট বড় মিলে প্রায় এক হাজার গরুর খামার আছে। খামারিরা এক বছর ধরে এ সব খামারে গরু লালন পালন করে আসছেন পবিত্র ঈদুল আযহায় বেশী দামে বিক্রির জন্য। কিন্তু মহামারি করোনার ভাইরাসের কারনে গরু বিক্রি করা নিয়ে সকল খামারীরায় পড়েছেন চরম দুঃশ্চিন্তায়।

শ্রীপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে , উপজেলায় অধিকাংশ গ্রামে ছোট, বড় এবং মাঝারি মিলে প্রায় ৪ শত গরুর খামারে প্রায় ৮ হাজার পশু আছে। এ সব খামারে বছরের পুরো সময় জুড়ে কম বেশি গরু লালন পালন করলেও পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে খামারীরা বেশি গরু লালন পালন করে থাকেন। এ বছরও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। উপজেলা সদর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে গরুর খামার তৈরী হয়েছে। প্রতিটি খামারে ২ থেকে ২৫ টি পর্যন্ত গরু পালন করা হয়েছে। গরু পালন অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় এ জনপদের মানুষ দিন দিন গরুর খামারে মনোযোগী হয়ে উঠেছেন বলে অনেকে মনে করছেন।

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার খামার পাড়া গ্রামে তিন সহোদর মমিন খোন্দকার, মনির খোন্দকার ও রবি খোন্দকার সকলেই পেশায় কৃষক। কিন্তু কৃষিকাজের পাশাপাশি তারা বাড়িতে উপর পরিকল্পিত ভাবে গরুর খামার গড়ে তুলেছেন। ২০১০ সালে তাদের খামারের যাত্রা শুুুরু। এ পর্যন্ত প্রতি ঈদেই গরু বিক্রি করেছেন। তাদের খামারে বর্তমানে কমপক্ষে ১৩ টি গরু ঈদুল আযহায় বিক্রয় করা যাবে। যার এক একটির দাম ১ লাখ ৩০ হাজার হতে ৪ লাখ টাকার উপরে। সামনে পবিত্র ঈদুল আযহা তাই শেষ সময়ে এসে গরুকে খাওয়ানো গোসলসহ সব ধরনের কাজ চলছে খুব যত্নসহকারে। কিন্তু যখনই করোনার কথা মনে হচ্ছে তখনই যেন চরম হতাশা নেমে আসছে খামার মালিকদের মাঝে।

সরেজমিনে গরুর খামারে গিয়ে দেখা যায়, দায়িত্বরত ২ ব্যক্তি গরু পরিচর্চায় বেশ ব্যস্ত। তারা দুইজনই ওই খামারে বেতনভুক্ত কর্মচারী। খামার মালিক মনির খোন্দকার সব কিছু দেখাশুনা করছেন। এ সময় কথা হয় খামার মালিকের সাথে।

গরুর খামারী মনির খোন্দকার জানান, এ বছর গরুর খামারে ব্যাপক ব্যয় হয়েছে। কারন গো-খাদ্যের দাম আকাশ ছোয়া। ১ বস্তা ভুষির দাম ২ হাজার টাকা, অনরুপ ভাবে বিচেলী, খোল, পালিস, কুড়া এমনকি গরুর চিকিৎসার খরচ ও বৃদ্ধি। এত ব্যয়ে গরু পালন করে যদি কাঙ্খিত দামে গরু বিক্রি না করতে পারি তাহলে কষ্টের শেষ থাকবেনা। করোনা ভাইরাসের কারনে কুরবানি ঈদের হাট কেমন হবে এখন সেই চিন্তায় আছি।

গরুর খামারী মমিন খোন্দকার জানান, খামারে এবারের ঈদে ১৩ টি গরু বিক্রয় করা যাবে, কুরবানি ঈদে সব গরু বিক্রি করতেই হবে। তা না হলে এই গরুতে লোকসান গুনতে হবে বলে তিনি মনে করছেন। ৩ ভাইয়ের মত উপজেলার অধিকাংশ গরুর খামারীরা মহা দুঃশ্চিন্তায় দিনঃ পাত করছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অন্য বছরের মত এ বছরও দেশের প্রতিটি স্থানে গরু হাট বসানোর দাবি করেছেন গরু খামারীরা।

গরু ব্যবসায়ী খবির মুন্সি জানান, করোনা পরিস্থিতিতে আমরা ব্যাবসায়ীরা গরু ক্রয়ের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। যেখানে আমরা প্রতি বছর প্রায় ২০ গাড়ি গরু এলাকা থেকে সংগ্রহ করে বাংলাদেশের বিভিন্ন গরুর হাটে নিয়ে যেতাম, এ বছর বেশি হলে ও ৩-৪ গাড়ি গরু সংগ্রহ করতে পারি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ জয়দেব কুমার সিংহ বলেন, গরু পালন লাভজনক হওয়ায় উপজেলাতে দিন দিন গরুর খামার বৃদ্ধি পাচ্ছে । মহামারি করোনার কারনে গরু বিক্রি নিয়ে খামারীরা কিছুটা চিন্তায় আছেন। তবে আমি বিশ্বাস করি শেষ পর্যন্ত খামারিরা তাদের পশু সঠিক দামেই বিক্রি করতে পারবে।

(Visited 1 times, 1 visits today)

আরও পড়ুন

ফজলে রাব্বীর আসনে নৌকার হাল ধরতে চান যারা
মহান জাতীয় শহীদ দিবস শাহাদাতে কারবালা দিবসে ফেনীতে র‍্যালী
এমপির বিরুদ্ধে উপজেলা চেয়ারম্যানকে কিল-ঘুষির অভিযোগ
বঙ্গবন্ধুর সমাধীস্থলে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের শ্রদ্ধাঞ্জলী
অসহায় মানুষের মাঝে মাংস বিতরণ করল ‘জীবন আলো’
নোয়াখালীতে প্রবাসীকে মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ
পেপসির সঙ্গে বিষ খাইয়ে খুন, যুবকের যাবজ্জীবন
এশিয়ান টিভির ফেনী জেলা প্রতিনিধি হলেন সাংবাদিক সোহাগ