২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

কক্সবাজার-কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল

শীত নামছে ধীরে ধীরে। উত্তরাঞ্চলে শীত পড়লেও দেশের উপকূলীয় এলাকায় এখনো উষ্ণতার আবেশ। তাই পর্যটন স্পট কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় ঢল নেমেছে ভ্রমণপিপাসুদের। এদিকে ইংরেজি নববর্ষের শেষ সূর্যদয় ও চলতি বছরের শেষ সূর্যাস্ত দেখতে মানুষের ঢল নামে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যে সেখানে স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই দেখা যাচ্ছে না। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় কক্সবাজার-কুয়াকাটাসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলো এই সময়টায় বেশ পরিপূর্ণ থাকে। বিশেষ করে সমুদ্র সৈকতগুলো পর্যটকের কোলাহলে মুখরিত হয়। তবে করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে এবার চিত্রটা ভিন্ন হওয়ার কথা ছিল। কলাতলী, সুগন্ধা, ইনানী এমন কোনো স্পট নেই যেখানে পর্যটকরা ভিড় করছেন না।

করোনায় সচেতনতার অংশ হিসেবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হলেও তা মানা হচ্ছে না এসব পর্যটনকেন্দ্রে। কেউ মানছেন না সামাজিক দূরত্বও। এক কথায় কক্সবাজার কিংবা কুয়াকাটা কোথাও স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য মানুষ এসব পর্যটন কেন্দ্রে ভিড় করছেন। এসব জায়গার পর্যটকদের জন্য গড়ে ওঠা হোটেল- মোটেলগুলোতেও নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাভাইরাস প্রথমধাপে বড়সড় ধাক্কা দিয়ে গেছে। এরই মধ্যে দ্বিতীয় ধাপেও বহু মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। দ্বিতীয় জোয়ারের মাঝেই কক্সবাজারসহ পর্যটন কেন্দ্রগুলো যে হারে জনসমাগম হচ্ছে তাতে ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।

কক্সবাজার হোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির তথ্যানুযায়ী, কক্সবাজারের প্রায় সাড়ে চার শতাধিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজে রয়েছে, যেখানে লক্ষাধিক পর্যটক অবস্থান করতে পারেন। সাপ্তাহিক ছুটিতেও প্রায় লাখো পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। শতভাগ বুকিংয়ে জমজমাট ব্যবসা করছে তারকা হোটেলগুলো। নামকরা হোটেল ছাড়া বেশির ভাগ হোটেলে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

কক্সবাজার বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি সূত্র জানায়, আগত পর্যটকদের সেবা নিশ্চিতে সর্তক অবস্থায় দায়িত্বপালন করছে ট্যুরিস্ট ও জেলা পুলিশ। সাপ্তাহিক ছুটিতে পর্যটক সমাগম বাড়ে দেখে মোতায়েন রাখা হয় অতিরিক্ত পুলিশও। পর্যটক হয়রানি রোধে পর্যটন স্পটগুলোকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত সাধারণ চিকিৎসা ও খাবার পানির ব্যবস্থা রয়েছে সমুদ্র সৈকতে। গোসলকরাকালীন বিপদাপন্ন পর্যটকদের রক্ষার্থে সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন লাইফগার্ড কর্মীরা।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মোরাদ ইসলাম জানান, পর্যটক হয়রানি বন্ধে হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁয় মূল্য তালিকা টাঙানোর নির্দেশনা আগেই দেয়া ছিল। সমুদ্র সৈকতের লাবনী, সুগন্ধা, কলাতলীসহ ১১টি পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে তথ্য কেন্দ্র (ইনবক্স)। পাশাপাশি দেয়া হয়েছে একটি হটলাইন নম্বর। যে কোনো অভিযোগ এখানে করতে পারবে পর্যটকরা। হটলাইনের সেবা নিয়ে ইতিপূর্বে অগণিত পর্যটক হয়রানির বিচার পেয়েছেন। জরিমানা করা হয়েছে কয়েকটি রেস্তোরাঁ ও হোটেলকে। এখন করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মানতে সর্বদা সচেতনতামূলক মাইকিং ও প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সবসময় সর্তকাবস্থায় রয়েছে পুলিশ। পর্যটকরা যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানির শিকার না হন, পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেএবং পর্যটক বেশে পুরুষ-মহিলা পুলিশের সংখ্যাও সৈকতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সৈকত এলাকায় পোশাকধারী পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের বিশেষ রেসকিউ টিম, ইভটিজিং কন্ট্রোল টিম, ড্রিংকিং জোন, দ্রুত চিকিৎসাসহ নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে পর্যটকদের নিরাপত্তায়। সৈকতে বিচ বাইক নিয়ে টহল অব্যাহত রেখেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। রয়েছে ৩টি বেসরকারি লাইফ গার্ড সংস্থার অর্ধশতাধিক প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড কর্মী। কন্ট্রোল রুম, পর্যবেক্ষণ টাওয়াসহ পুরো সৈকতে পুলিশের নজরদারির আওতায় রয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা চিন্তা মাথায় রেখে অগাস্টের মাঝামাঝি সময়ে হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ‘পরীক্ষামূলক খুলে দেয়া’ হয়। সামনে পর্যটন মৌসুম আসছে। আবার করোনার দ্বিতীয় ফ্লো’র শঙ্কার কথাও ঘোষণা এসেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনা রোধের পাশাপাশি পর্যটনটাও এগিয়ে নিতে হবে। সেভাবেই পর্যটন সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত দেয়া রয়েছে। সবাই আন্তরিক হলে পর্যটন ব্যবসা ঠিক রেখে করোনা রোধ সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক।

(Visited 1 times, 1 visits today)

আরও পড়ুন

ককটেল বিস্ফোরণ কাদের মির্জার সাজানো নাটকঃ কোম্পানীগঞ্জ আ’লীগ
এবার কাদের মির্জার ছোট ভাইয়ের নেতৃত্বে বাস ভাংচুর
রফিকুল ইসলাম মাদানীকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ
সেতুমন্ত্রীর পক্ষে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ বিতরণ
করোনার স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে মাইক হাতে ছুটছেন বন্দর ইউএনও
রুপসী বাংলা ব্লাড ডোনেট ক্লাবের ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং নির্নয় ক্যাম্প
কাদের মির্জার ‘নেতৃত্বে’ হোটেল ভাংচুর, আহত ৬
সেনা কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর জন্ম দিবস ও জাতীয় শিশুদিবস উদযাপিত