৪ঠা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

করোনা কালে কর্মী থেকে যন্ত্রে ঝুঁকছে ব্যাংকগুলো

যন্ত্রই টাকা গুনে জমা নিচ্ছে এবং দিচ্ছেও। হ্যাঁ, করোনা কালে কর্মী থেকে যন্ত্রে ঝুঁকছে আমাদের ব্যাংকগুলো।
এতে যেমন জাল টাকাও ধরা পড়ছে সাথে গ্রহক সেবার মানও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই সাম্প্রতিককালে এমন যন্ত্র স্থাপনের হার বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ।

করোনা কালে ব্যাংকের গ্রাহকেরা এখন বেশ সতর্ক। তাঁদের অনেকেই আজকাল ব্যাংকে লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দিতে বা ওঠাতে চাইছেন না। এ কারণে ব্যাংকগুলো যন্ত্রনির্ভর সেবায় বিনিয়োগে ঝুঁকছে। টাকা জমার জন্য এটিএম তো আগে থেকেই রয়েছে। এখন তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহকদের টাকা জমা নেওয়া ও উত্তোলন-সুবিধা দেওয়ার যন্ত্র ক্যাশ রি-সাইকেলার মেশিন (সিআরএম) স্থাপন করে চলেছে। সম্প্রতি এই যন্ত্র স্থাপন বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এই যন্ত্রে লেনদেনের পরিমাণও চার গুণের বেশি বেড়েছে।

ব্যাংকগুলোর সিআরএম স্থাপন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে গ্রাহকদের ব্যাংকে টাকা জমা করতে এখন আর ব্যাংকিং সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। দিন কিংবা রাত, যেকোনো সময়ই টাকা লেনদেন করা যাচ্ছে।

দেশের আটটি ব্যাংক ইতিমধ্যে ক্যাশ রি-সাইকেলার মেশিন (সিআরএম) চালু করেছে। যন্ত্রটি প্রতি সেকেন্ডে ৮-১০টি নোট গুনতে সক্ষম। জানা গেছে, বর্তমানে একটি সিআরএমের মেশিনের দাম ১৪-১৫ লাখ টাকা। আর একটি এটিএম মেশিনের দাম ৪-৫ লাখ টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে দেখা যায়, গত বছরের সেপ্টেম্বরে দেশে ব্যাংকগুলোর মোট সিআরএম মেশিন ছিল ২২৯টি। এ বছরের সেপ্টেম্বরে যা বেড়ে হয়েছে ৪৪৪টি। আর অক্টোবরে সিআরএম মেশিন বেড়ে হয়েছে ৫৪৫টি। এক মাসেই শতাধিক যন্ত্র স্থাপন করেছে ব্যাংকগুলো। গত বছরের সেপ্টেম্বরে যেখানে সিআরএমের মাধ্যমে জমা হয়েছিল ১৭০ কোটি টাকা, সেখানে এবার একই মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০০ কোটি টাকা। অক্টোবরে লেনদেন বেড়ে হয়েছে ৮৮৫ কোটি টাকা। যেসব শাখায় বেশি ভিড় হয় সাধারণত সেখানেই সিআরএম মেশিন বসিয়ে দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। একটি যন্ত্র দুজন ক্যাশ কর্মকর্তার কাজ করছে কোনো ঝুঁকি ছাড়া। এ কারণেই এই যন্ত্রে বিনিয়োগ দিন-দিন বাড়ছে।

দেশে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত টাকা জমা ও উত্তোলনের জন্য ব্যাংকের শাখাই ছিল একমাত্র ভরসা। ওই বছরে তৎকালীন এএনজেড গ্রিন্ডলেজ (বর্তমানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড) ব্যাংক প্রথম অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) বুথ স্থাপন করে। এ সময় ডেবিট কার্ডের পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ডও চালু করে তারা। এরপর এক-এক করে অন্য ব্যাংকগুলোও এ সেবায় আসতে থাকে।

আগে গ্রাহকদের ব্যাংকে টাকা জমা দিতে লাইনে দীর্ঘ সময় লাগত। ২০১০ সালের দিকে ব্যাংকগুলো ক্যাশ ডিপোজিট মেশিন (সিডিএম) অর্থাৎ টাকা জমা দেওয়ার মেশিন বসানো শুরু করে। তবে এ সেবায় গ্রাহকেরা যন্ত্রে টাকা জমা দিলেও হিসাবে তাৎক্ষণিকভাবেই জমা হতো না। ব্যাংক কর্মকর্তারা দিনে একবার জমা করা টাকা শাখায় নিয়ে জমা করতেন। দুপুরের পর টাকা জমা হলেই তা পরের দিনে হিসাবে চলে যেতো। গত সেপ্টেম্বরে চালু থাকা সিডিএম ছিল ১ হাজার ৪৯৯টি। এ সেবায় শীর্ষে রয়েছে ডাচ্-বাংলা ও ইসলামী ব্যাংক।

সিডিএমে তাৎক্ষণিকভাবে টাকা জমা না হওয়ায় গ্রাহকেরা অনেক সময় সমস্যায় পড়েন। তাই সমস্যার সমাধানে ২০১৭ সাল থেকে সিআরএম যন্ত্র স্থাপন শুরু করা হয়। শুরুর দিকে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ও দি সিটি ব্যাংক এই যন্ত্র স্থাপন করতে থাকে। ধীরে ধীরে এখন আটটি ব্যাংক সিআরএম যন্ত্র স্থাপন করেছে। অন্য ছয়টি ব্যাংক হলো সাউথইস্ট, এনসিসি, ইসলামী, ইস্টার্ণ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ও ন্যাশনাল। শিগগিরই আরও কয়েকটি ব্যাংক এই যন্ত্র স্থাপন শুরু করবে বলে জানা যায়। প্রতিটি সিআরএম ব্যাংকের কোনো না কোনো শাখার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

বাংলাদেশের দুটি প্রতিষ্ঠান এই যন্ত্র আমদানি করে থাকে ও কারিগরি সহায়তা দেয়। কোম্পানি দুটি হচ্ছে জারা জামান টেকনোলজি ও টেকনো মিডিয়া লিমিটেড।
#মোরশেদ আলম/বাবু/টিটু

(Visited 1 times, 1 visits today)

আরও পড়ুন

হালনাগাদের পর দেশে ভোটার ১১ কোটি ১৭ লাখ ২০ হাজার ৬৬৯ জন
করোনায় বন্ধ হল খুলতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পাবে ৫০ কোটি টাকা
ঈদে মেরাজ শরীফ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণার দাবি
ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স এলো ১৭৮ কোটি ডলার
চলছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি
মুজিব বর্ষে সেরা করদাতা কাউছ মিয়া
বাঞ্ছারামপুরে নেশার টাকা না পেয়ে মাকে খুন
কমলা যেসব সমস্যার সমাধান দেয়