২৫শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

পরিবার থেকেই ঘটছে শিশু সহিংসতা

ইতিহাসের পুরো পাতা গুলোতেই “শিশু নির্যাতন” এর সূত্র পাওয়া গেছে। তবে শিশু বিশেষজ্ঞরা এই ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে শুরু করেন ১৯৬০ দশকের শুরুতে। ১৯৬২ সালে শিশু বিশেষজ্ঞ মনোবিজ্ঞানী সি. হেনরি কেম্প প্রকাশিত “বার্টারড শিশু উপসর্গ” লিখাটিতে শিশু দু্র্ব্যবহার সম্পর্কে সর্তকতা ও সচেতনতার প্রতি গুরুত্ব দেবার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে গণনা করা হয়।

বাংলাদেশে অপুষ্টিজনিত কারণে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হিসেবে পরিচিত শিশুরা বিশ্ব ব্যাংকের জরীপে বিশ্বে শীর্ষস্থান দখল করেছে যা মোটেই কাঙ্খিত নয়। মোট জনগোষ্ঠীর ২৬% অপুষ্টিতে ভুগছে, ৪৬% শিশু মাঝারি থেকে গভীরতর পর্যায়ে ওজনজনিত সমস্যায় ভুগছে এবং ৫ বছর বয়সের পূর্বেই ৪৩% শিশু মারা যায়। দারিদ্র্য পরিবারের বাহিরেও দেশের মধ্যবিত্ত বা বিত্তবান পরিবারের শিশুরাও সহিংসতার শিকার হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাষার কটূক্তির মাধ্যমে শিশুরা মানসিক সহিংসতার শিকার হচ্ছে। শিশুর প্রতি শারীরিক ও মানসিক শাস্তি বন্ধে শিশু আইন, ২০১৩-এর প্রস্তাবিত খসড়া সংশোধনী পর্যালোচনার কথা বলছেন শিশু বিশেষজ্ঞরা।

শিশু সহিংসতা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের চেয়ারপার্সন তাওহিদা জাহান বলেন, আমাদের চারপাশে সব শিশুর মানসিক বয়স এক না তাই আমাদের কে শিশুর মানসিক বয়সকে আইনের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হবে।

এ সময় তিনি শিশুর সাথে “ভাষা” ব্যবহারের ক্ষেত্রকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, শিশুর প্রতি শারীরিক নির্যাতন ও মানসিক নির্যাতনের ক্ষেত্রে ভাষার কটূক্তি বা নেতিবাচক ভাষা অন্যতম মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাষার মাধ্যমে যেন শিশুর উপর নির্যাতন না হয় সেদিকটা নজর দিতে হবে। তাই শিশুর প্রতি নেতিবাচক ভাষার ব্যবহার পরিত্যাগ করে শিশুদেরকে ইতিবাচক ভাষায় শাসন করতে হবে। অন্যের সামনে শিশুকে শাসন করা যাবে না, অন্যের সামনে শাস্তি দেওয়া যাবে না।

শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে তিনি জানান, শিশুদের নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করতে হবে। তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার আপনার হাতেই। সমাজের চারপাশের মানুষদের মনের ভিতরের অন্ধকার দূর করে আলোর দিকে প্রতিফলন ঘটাতে হবে। প্রত্যেকে মনস্তাত্ত্বিক ভাবে পজিটিভ হলে শিশু সহিংসতা রোধ সম্ভব।

করোনা প্রাদুর্ভাবের বিশেষ শিশুদের ক্ষেত্রে তাওহিদা বলেন, প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে স্কুলে যাওয়া, স্কুলে শ্রেণীকক্ষে সময় কাটানো বিশেষ শিশুদের একটি নিয়মিত রুটিন। কিন্তু করোনা মহামারীর কারনে দীর্ঘদিন যাবৎ স্কুল বন্ধ থাকায় তারা স্কুলে যেতে পারছেন না, শ্রেণী কক্ষের এক্টিভিটিস না থাকায় বিষয়গুলো তাদের উপর মানসিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই যে নেতিবাচক প্রভাব থেকে পরিত্রাণের জন্য পরিবারগুলোকে শিশুর মানসিক দিকটা খেয়াল করতে হবে। এক্ষেত্রে শিশুদের বোঝানোর কোন বিকল্প নেই।

শিশুদের সুরক্ষায় পারিবারিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম।

তিনি বলেন, শিশুরা ভালো কিছু শিখলে তার প্রভাব বড় হলেও থেকে যায়। শিশুদের কাছ থেকেও শেখার আছে। শিশুদের কথা শুনতে হবে। শিশুরা অনেক অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে নাছিমা বেগম বলেন, পারিবারিক শিক্ষার পাশাপাশি সম্মিলিত প্রয়াস ও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

ব্রাইটার্স সোসাইটি বাংলাদেশের, ন্যাশনাল ব্রাইটার্স কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন সাইদুর রহমান সিয়াম বলেন, দারিদ্র্য শিশুদের ক্ষেত্রে বড় কারন তাদের দারিদ্র্যতা। মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে পেরেন্টিং প্রবলেম। অথ্যাৎ আমাদের অভিভাবকরা শিশুদের কিভাবে নিরাপদ শৈশব দেওয়া যায় এই বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন নয়। এখানে অভিভাবকদের সচেতনতাহীনতার প্রধান কারন হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তন। আমাদের অভিভাবকগন তাদের শৈশবের শিক্ষা অথবা তাদের দশকের পরিবেশ শিশুদের উপর প্রয়োগ করতে চাচ্ছে। যেটা শিশুদের জন্য নির্যাতনের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কারনে ভাষার দিক থেকে কিংবা শাসনের দিক থেকে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে। যেটা বিশেষ শিশুদের ক্ষেত্রে একটা সুস্থ ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেল।

দারিদ্র্য পথ শিশুদের সমস্যার সমাধান নিয়ে তিনি জানান, দারিদ্র্য শিশুদের সমাধানের জন্য সরকারের কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। এছাড়াও আমাদের যার যার অবস্থান থেকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন-সামাজিক সংগঠন গুলোকে এই বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।

(Visited 1 times, 1 visits today)

আরও পড়ুন

শপথ নিন সাংবাদিক নিপীড়কদের সাথে কোন আপোষ করবোনা
প্রাকৃতিক দুর্ভিক্ষ নয় রাজনৈতিক দুর্ভিক্ষই বিশ্বব্যাপী জীবন মানবতার মহা সংকট
নূরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা,ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ভেঙে নতুন কমিটি গঠন
নতুন ঝরনার সন্ধান খাগড়াছড়িতে
রাস্তা সম্প্রসারণে গাছ কাটা, শতবছরের স্বাক্ষী ধ্বংসের অপরাধ
করোনা ভ্যাকসিন পরিস্থিতি
কোভিড ১৯ ও বৈশ্বিক শিক্ষাব্যবস্থা
শেখ হাসিনার কৌশলী নেতৃত্বেই করোনা মোকাবেলায় সফল বাংলাদেশ