২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

মাগুরায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের প্রায় ৩ কোটি টাকার চেক জালিয়াতি

মাগুরায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং ঠিকাদারদের জামানতের প্রায় ৩ কোটি টাকার চেক জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম আতংক।

জালিয়াতির এই প্রক্রিয়াটি জেলা হিসাব রক্ষণ অফিস এবং মাগুরা সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন হলেও ওইসব দপ্তরের কর্মকর্তারা নিজেদের নির্দোষ বলে দাবির পাশাপাশি অন্য দপ্তরকে অভিযুক্ত করেছেন।

মাগুরা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সহ জেলার সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের বেতন ভাতা, বিল ভাউচার সহ যাবতীয় আর্থিক লেনদেনের চেক ইস্যু করা হয় জেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে। গত মাসের (নভেম্বর) ৩০ তারিখে এই দপ্তর থেকে দুটি ব্ল্যাংক চেক হারিয়ে যায়। যেটি ওইদিনই উদ্ধার করা হয় মাগুরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ক্যাশ অর্ডালি হিসেবে কর্মরত কনস্টেবল মশিউর রহমানের কাছ থেকে। এই ঘটনার পর বিগত সময়ে ওই অফিসের নামে বরাদ্দকৃত বিভিন্ন চেক যাচাই বাছাই করতে গিয়ে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।

জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের কর্মকর্তা এবং অডিটরদের দাবি মাগুরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ক্যাশ অর্ডালি হিসেবে কর্মরত কনস্টেবল মশিউর রহমান এই জালিয়াতির মূল হোতা। যার মাধ্যমে একটি চক্র প্রায় তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে তাদের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। এর সাথে সোনালী ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তারা জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছে সংষ্টিল্ট দপ্তর। এদিকে জালিয়াতির সাথে ব্যাংকের কোন কর্মকর্ত জড়িত নেই বলে জানান সোনালী ব্যাংক মাগুরা শাখার এজিএম মো: রশিদুল ইসলাম। তিনি জানান, এজি অফিস থেকে এসপি অফিসের যেসব চেক এসেছে সেগুলো যাচাই বাছাই করে দেখেছি। সেখানে আমাদের পেমেন্টে কোনো ত্রুটি নেই। এবং এ ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো অফিসার ও জড়িত নেই।

এ বিষয়ে জেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা সরকার রফিকুল ইসলাম বলেন,কনস্টেবল মশিউরের কাছ থেকে ব্ল্যাঙ্ক চেক উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকেই সূত্রপাত। বিগত সময়ের কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমাদের এডভাইস এবং চেকের নামের কোনো মিল নেই। আমরা যে এডভাইস পেপার পাঠিয়েছি ব্যাংক তা পায়নি বলে জানা গেছে। এমতবস্থায় ১৫টি চেক উদ্ধার করতে পেরেছি তার টাকার পরিমাণ ২ কোটি ৮৯ লক্ষ টাকার কিছু বেশি । গত ৬ ডিসেম্বর তারিখে জালিয়াতির এই বিষয়টির তদন্তের জন্যে যশোরের দুর্নীতি দমন কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছে বলে জানান এই কর্মকর্ত।

মাগুরার পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজোয়ান বলেন,এজি অফিস এবং ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে এই অর্থ তসরুপ হয়েছে। তারা সিস্টেম ভায়োলেট করে নামে বেনামে চেক ইস্যু করেছে। ২০১৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে এই ঘটনা ঘটে আসছে। বিষয়টির বিস্তারিত প্রতিবেদন আমরা দুদক অফিসে জমা দিয়েছি। জালিয়াতির এ ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসানকে প্রধান করে পুলিশের পক্ষ থেকে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত মশিউর রহমান এবং ফিরোজ হোসেন নামে দুই কনস্টেবলসহ ৪ জনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন। এছাড়া এ বিষয়ে সদর থানাতেও একটি জিডি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ১২ ডিসেম্বর(শুক্রবার)বিকেলে মাগুরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের চেক জালিয়াতির ঘটনার তদন্ত কমিটির প্রধান মাগুরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান মোবাইলে জানান – আমি তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে নিষ্ঠার সাথে যথাযথ ভাবে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করছি, এখন পর্যন্ত ২ কোটি ৮৯ লাখের কিছু বেশি টাকার চেক উদ্ধার হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান – কনেস্টেবল মশিউর রহমান ও ফিরোজসহ ৪জনকে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে, এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

(Visited 1 times, 1 visits today)

আরও পড়ুন

ককটেল বিস্ফোরণ কাদের মির্জার সাজানো নাটকঃ কোম্পানীগঞ্জ আ’লীগ
এবার কাদের মির্জার ছোট ভাইয়ের নেতৃত্বে বাস ভাংচুর
রফিকুল ইসলাম মাদানীকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ
সেতুমন্ত্রীর পক্ষে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ বিতরণ
করোনার স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে মাইক হাতে ছুটছেন বন্দর ইউএনও
রুপসী বাংলা ব্লাড ডোনেট ক্লাবের ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং নির্নয় ক্যাম্প
কাদের মির্জার ‘নেতৃত্বে’ হোটেল ভাংচুর, আহত ৬
সেনা কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর জন্ম দিবস ও জাতীয় শিশুদিবস উদযাপিত