২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

ভবনের নকশা নির্দিষ্ট করতে যাচ্ছে সরকার

আবাসন প্রকল্পের আওতায় ভবনের নকশা নির্দিষ্ট করতে যাচ্ছে সরকার।
প্লটের আকার অনুযায়ী নকশা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। অনুমোদন লাগবে না। এতে দুর্নীতি ও হয়রানিও কমবে।

সরকারি আবাসন প্রকল্পে প্লটের আয়তন অনুযায়ী নকশা নির্দিষ্ট করে দেওয়ার জন্য কাজ করছে সরকার। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আয়তনভেদে প্লটের জন্য একাধিক নকশা থাকবে। সেখান থেকে পছন্দ করা নকশা অনুযায়ী বাড়ি নির্মাণ করবেন প্লটের মালিক।

এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে রাজউকসহ সরকারি সংস্থার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত আবাসন প্রকল্পে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নকশা অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজনই পড়বে না। এতে প্লটমালিকদের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজউক অথবা সংশ্লিষ্ট সংস্থা নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ হচ্ছে কি না, তা তদারকির কাজ করবে।

সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা গড়া, ভোগান্তি ও দুর্নীতি কমাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নকশা নির্দিষ্ট করে দেওয়ার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্তটি হয় গত ২৬ নভেম্বর এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায়। এতে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সূত্র জানিয়েছে, সিদ্ধান্তটি কার্যকর করতে এ সংক্রান্ত বিধিবিধান সংশোধনের কাজ চলছে।

ঢাকায় রাজউকের আওতাধীন এলাকায় এখন ভবন নির্মাণ করা হয় ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুযায়ী। বর্তমানে ভবন নির্মাণের জন্য প্লটের আয়তন অনুযায়ী রাজউকের কাছ থেকে প্রথমে ছাড়পত্র নিতে হয়। পরে নকশা বা নির্মাণ অনুমোদন নিতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনের ৩০ দিনের মধ্যে ছাড়পত্র ও ৪৫ দিনের মধ্যে নকশার অনুমোদন দেওয়ার কথা। কিন্তু তদবির ও দৌড়ঝাঁপ ছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নকশার অনুমোদন পাওয়া যায় না। আবার নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেনের যথেষ্ট অভিযোগও রয়েছে।

সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়িত হলে আবাসিক এলাকার নান্দনিকতা বাড়বে, অপরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। আমাদের দেশের বাস্তবতায় নকশা অনুমোদন সংক্রান্ত হয়রানি থেকে মানুষ মুক্তি পাবে।
দীর্ঘ আলোচনার পর সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে ইতিমধ্যেই সরকারের যেসব আবাসন প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেসব প্রকল্প এলাকায় প্লটের আয়তনভেদে একাধিক নকশা নির্দিষ্ট করে দেওয়া যেতে পারে। ভবিষ্যতে সরকারের আবাসন প্রকল্পে প্লটের সঙ্গেই নকশা নির্দিষ্ট করে দেওয়া থাকবে। এ ক্ষেত্রেও নতুন করে নকশা অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।

বর্তমানে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাগুলোই মূলত সরকারিভাবে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। এর মধ্যে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ও রাজউক যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মতো সংস্থাগুলো। এর বাইরে পৌরসভাও চাইলে আবাসন প্রকল্প নিতে পারে। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন নিয়মটি সবার ক্ষেত্রে কার্যকর করা হবে।

আন্তমন্ত্রণালয় সভার কার্যবিবরণীতে আরও উল্লেখ করা হয় যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প’ কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই এই পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। তাঁরা প্রকল্পে ভবনের জন্য ইউনিট (সিঙ্গেল, ডাবল) অনুযায়ী কয়েকটি নকশা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। এ ছাড়া আবাসন প্রকল্পটিতে সেক্টর অনুযায়ী বাড়ির রংও সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

রাজউকের তথ্য অনুযায়ী, তাদের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ২৫ হাজার ১৬টি ও ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় ১ হাজার ৭৪০টি প্লট রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন হলে এসব প্রকল্প এলাকার প্লটের মালিকেরা নকশা অনুমোদনের হয়রানি থেকে মুক্ত হবেন।

(Visited 1 times, 1 visits today)

আরও পড়ুন

২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন করব: প্রধানমন্ত্রী
শপিংমল-দোকান খোলার সিদ্ধান্ত
সোমবার থেকে এক সপ্তাহের লকডাউন
বাংলাদেশের শতবর্ষ উদযাপন করবে ব্রিটেন: বরিস জনসন
আসুন ভেদাভেদ ভুলে জনগণের জন্য কাজ করি: প্রধানমন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধে ভারত কীভাবে সমর্থন করেছে আমি দেখেছি : রাষ্ট্রপতি
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি মোদির
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আর নেই