৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় ৬ টি সংস্কারের দাবী

এ লেখার উদ্দেশ্য বুঝতে আপনাকে ঠান্ডা মাথায় পুরোটা পড়তে হবে। লেখকের উদ্দেশ্য মাদ্রাসা শিক্ষাকে হেয় করা নয় বরং সংস্কার করা এবং সেটা মাদ্রাসার ছাত্রদের কল্যাণের জন্যই। মাদ্রাসা ব্যবস্থা উন্নত হলে আলেম সম্প্রদায় জাতি গঠনে এগিয়ে আসতে পারবেন। দেশে অনেক আদর্শ মাদ্রাসা শিক্ষক যেমন আছেন তেমনি আছে অনেক ওস্তাদ নামের অমানুষ। তাদের জন্যই আজ মাদ্রাসার এত দুরাবস্থা।

এ সংকটে চুপ থাকা কোনো বিবেকবানের কাজ হতে পারে না। দেশের আলেম সম্প্রদায়ের প্রতি অনুরোধ সমাজ সংস্কারের বক্তব্য দেয়ার আগে কওমী মাদ্রাসায় সংস্কার করেন। বাচ্চাদের যেভাবে নির্যাতন করা হয় সেগুলো বন্ধ করতে কিছু করুন। কয়শো ভিডিও ফুটেজ লাগবে নির্যাতনের? কয়টা যৌন ও শারীরিক নিপীড়নের সংবাদ লাগবে? এগুলো দেখেন না আপনারা? যে ওস্তাদ নিজেই অমানুষ সে কীভাবে শিশুদের শিক্ষা দিবে? এটা তো ইসলাম না। এখন আবার অন্ধের মতো বলতে আসবেন না যে শুধু মাদ্রাসার দোষ ধরেন কেন? আমরা কিছু হলেই এই কাজটা করি, অন্য প্রসঙ্গ টেনে আনি।

একটা প্রশ্ন করি আপনাদেরঃ মাদ্রাসার ছোট শিশুগুলো যারা আগামীর আলেম তাদের ভালোবাসা কি ঈমানী দায়িত্ব না? নাকি ডিগ্রিধারী মৌলভীকে ভালোবাসলেই আল্লাহর পথে থাকা হবে? ইসলাম কি জুলুমের বিপক্ষে দাঁড়াতে বলে না? রাসূল (সঃ) শিশুদের কতটা স্নেহ করতেন আমরা কি ভুলতে বসেছি? আপনারা কিছু হলেই মাদ্রাসার সুন্দর ডিসিপ্লিনের কথা বলেন এই ডিসিপ্লিন কি আদৌ শরীয়তের জ্ঞান থেকে এসেছে নাকি লাঠির আঘাতে তা ভেবে দেখেছেন? মুসলিম বিজ্ঞানীর হাত ধরে এক সময় গোটা বিশ্ব আলোকিত হয়েছিল।

এখন মাদ্রাসার কারিকুলাম আর শিক্ষকদের একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে আপনার মনে হয় এরা উচ্চ-মাধ্যমিকের সমমান ডিগ্রি অর্জন করে যদি জেনারেল লাইনে চলে না আসে তাহলে শুধুমাত্র ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়া অন্য বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে পারবে? হ্যাঁ, মাদ্রাসার ছেলেরা প্রচন্ড মেধাবী হয়। বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং এর ভর্তি পরীক্ষায় টপ করে। কিন্তু সেটা তাদের নিজের প্রচেষ্টা আর কোচিংয়ের ভাইদের কল্যাণে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমার দাবী ৬ টিঃ

১। মাদ্রাসায় কোনো প্রকার শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনকে আইনগত শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সেই সাথে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে নজরদারি রাখবেন এবং অভিযোগ পেলে তদন্ত করে অপরাধীকে বরখাস্ত ও প্রয়োজনে পুলিশের হাতে সোপর্দ করবেন।

২। মাদ্রাসার বাচ্চাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা আরো উন্নত হতে হবে। প্রয়োজনে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে ভর্তুকি দিতে হবে এবং সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা হচ্ছে কিনা তার সুষ্ঠু অডিট হতে হবে।

৩। মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষকের বিষয়ভিত্তিক একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করতে হবে। যদি সে বিজ্ঞানের শিক্ষক হয় তবে তার মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ড হতে হবে এমন নীতি অবলম্বন না করে যোগ্য ব্যক্তি এবার যদি সে জেনারেল লাইনে পড়াশুনা করলেও নিয়োগ দিতে হবে। শিক্ষককে নিয়োগের সময়ই মানবিক আচরণ করার নির্দেশ দিতে হবে এবং কোনো প্রকার অনিয়ম করলে তার পরিণতিও বলে দিতে হবে। অবশ্যই নিয়োগের ক্ষেত্রে তার মানবিকতাবোধ কেমন তা যাচাই করে নিতে হবে। প্রয়োজনে শিক্ষকদের মানবিক আচরণের ওপর কর্মশালা করা যেতে পারে।

৪। মাদ্রাসার কারিকুলাম আরো উন্নত ও সময়পোযোগী করে তুলতে বিশেষ বোর্ড গঠন করতে হবে। সেই সাথে মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতনভাতাদি বৃদ্ধি করতে হবে। এতে করে ভালো শিক্ষকরা আবেদন করবেন। একই সাথে যেখানে সেখানে কোনো কেন্দ্রীয় নীতিমালা না মেনে মাদ্রাসা তৈরি করা বন্ধ করতে হবে। শিক্ষা ও সেবার মান নিশ্চিত না করে মাদ্রাসা গড়ে তুললে সেখানে অনিয়ম আর নির্যাতনের ঘটনা ঘটা স্বাভাবিক।

৫। মাদ্রাসার ছাত্রদের মাঝে ধর্মীয় চেতনার নামে যেন কোনো উগ্র রাজনৈতিক মতাদর্শ ছড়িয়ে দেয়া না হয় সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।

৬। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। মাদ্রাসার অনিয়মের ব্যাপারে অনেক অভিভাবক উদাসীন। এই মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। আলেমগণ এ বিষয়ে বক্তব্য রাখলে সহায়ক হবে কারন সাধারণ পেশার কেউ এসব বললে একদল লোক তাকে ইসলামের শত্রু বলে আখ্যায়িত করতে পারে। পরিশেষে বলতে চাই, মাদ্রাসার শিশুরা আমাদের সম্পদ। ওদের চোখে ভয় নয় মুখে হাসি দেখতে চাই।

লেখকঃ সামি হোসেন চিশতী শিক্ষাগবেষক ও কলামিস্ট।

(Visited 1 times, 1 visits today)

আরও পড়ুন

অল্প সময়ে মানুষের মন জয় : ওসি ইমতিয়াজের
নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ।
হার্ট অ্যাটাক !!!
সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ
ঈদে মেরাজুন্নবী উদযাপনে ফেনীতে বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের সমাবেশ ও আনন্দ শোভাযাত্রা
মহান ঈদে মেরাজ শরীফ রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষনার দাবিতে ওয়ার্ল্ড সুন্নী মুভমেন্টের মানববন্ধন
ফেনীতে মোয়াবিয়াবাদ খারেজিবাদ প্রতিরোধ দিবস
হালনাগাদের পর দেশে ভোটার ১১ কোটি ১৭ লাখ ২০ হাজার ৬৬৯ জন