১লা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ |

করোনার থাবায় গোলাপের উৎপাদন ও চাহিদায় ভাটা

পৃথিবী ব্যাপী মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে থমকে গেছে বিশ্ব অর্থনীতির চাকা। ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে এসেছে স্থবিরতা।

করোনার থাবা থেকে রক্ষা পায়নি প্রিয় গোলাপ। করোনার কারণে গোলাপের উৎপাদন এবং চাহিদায় পড়েছে ভাটা।

সম্প্রতি সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের গোলাপ চাষিসহ দেশের অন্যান্য স্থানের ফুলচাষিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

সারাবছর বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কমবেশি গোলাপ ফুলের চাহিদা থাকলেও, গোলাপসহ অন্যান্য ফুলের সব থেকে বেশি চাহিদা থাকে ভালোবাসা দিবস, পহেলা ফাল্গুন, ২১ ফেব্রুয়ারি, পহেলা বৈশাখ, বিজয় দিবস এবং স্বাধীনতা দিবসে।

গোলাপ চাষিরা জানান, করোনায় লকডাউনের সময়ে কাজের লোকের অভাবে তারা ঠিকমত বাগানের পরিচর্যা করতে পারেননি। পাশাপাশি সে সময় সবকিছু বন্ধ থাকায় গোলাপ ফুলের চাহিদাও ছিল না। এ সময় অনেক বাগানে ফুল ফুটে আবার গাছেই পচে গিয়েছে। এতে বাগানে গোলাপ গাছের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে বর্তমানে অন্যান্য বছরের তুলনায় গোলাপের উৎপাদন কম।

চাষিরা আরও জানান, সারাবছরের মধ্যে গোলাপের চাহিদা সব থেকে বেশি থাকে ভালোবাসা দিবসে। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাস শুরু হলেই ব্যবসায়ীরা গোলাপ চাষিদের ফুল কেনার জন্য আগাম অর্ডার দিতেন। অনেক সময় ফুল কেনার জন্য অগ্রিম টাকাও দিতেন ফুল ব্যবসায়ীরা। তবে এবার ব্যবসায়ীদের ফুল কেনায় আগ্রহের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।

শ্যামপুর গ্রামের গোলাপ চাষি আবুল হোসেন জানান, ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে এবছর গোলাপের উৎপাদন কম। করোনার কারণে গোলাপের বাজারে গ্রাহকও কম, তাই গোলাপের দামও কম। ভালোবাসা দিবস এবং ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে যদি গোলাপের দাম আর না বাড়ে তাহলে এবছর আমাদের অনেক টাকা লোকসান হবে। আর যদি গোলাপের দাম বাড়ে তাহলে হয়তো কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পাবো।

শ্যামপুর গ্রামের আরেকজন গোলাপ চাষি মনির হোসেন। গত বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে তিনি স্থানীয় গোলাপের বাজারে আট হাজার টাকার গোলাপ বিক্রি করেছেন।

এবছর গোলাপের দাম কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বাজারে তিনশত পিসে এক বান্ডিল গোলাপ এক হাজার ৭০০ টাকা থেকে দুই হাজার ১০০ টাকা (তিনশত পিস) দামে বিক্রি হইছে। গতবছর ভালোবাসা দিবসের আগে তিন হাজার টাকায় এক বান্ডিল গোলাপ বিক্রি হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

গোলাপ চাষিরা আশা করছেন শিগগিরই দেশ থেকে করোনা বিদায় হবে। সবকিছু স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে, বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং স্কুল-কলেজ আবারও শুরু হলে গোলাপের চাহিদাও বাড়বে, চাহিদার সঙ্গে বাড়বে গোলাপের দামও।

(Visited ১৬ times, ১ visits today)

আরও পড়ুন

হযরত খাজাবাবা (রঃ) ও জামে আওলিয়া কেরামের পথ পূণরুদ্ধার সম্মেলন অনুষ্ঠিত
বীর মুক্তিযুদ্ধা আব্দুল আলিম এর সহধর্মীনি নুরজাহান বেগম আর নেই
ফজলে রাব্বীর আসনে নৌকার হাল ধরতে চান যারা
মহান জাতীয় শহীদ দিবস শাহাদাতে কারবালা দিবসে ফেনীতে র‍্যালী
এমপির বিরুদ্ধে উপজেলা চেয়ারম্যানকে কিল-ঘুষির অভিযোগ
বঙ্গবন্ধুর সমাধীস্থলে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের শ্রদ্ধাঞ্জলী
অসহায় মানুষের মাঝে মাংস বিতরণ করল ‘জীবন আলো’
নোয়াখালীতে প্রবাসীকে মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ