২৮শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

জাল নথি দিয়ে হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির রায় হাসিল

হাইকোর্টে ধরা পড়লো জালিয়াত চক্র, ট্রাইব্যুনালের দুই রায় বাতিল

পরিচয় দিয়েছিলেন বীরেশ চন্দ্র সাহার সন্তান হিসেবে। দাখিল করেছিলেন জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মসনদ ও সিটি করপোরেশনের নাগরিক সনদপত্র। এসব জাল কাগজপত্র দিয়েই সাভারের গান্ধারীয়া মৌজার কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি অবমুক্তির রায় হাসিল করে নেন এক জালিয়াত চক্র।

ভয়াবহ এই জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়েছে উচ্চ আদালতে। জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে হাসিল করা ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সম্পত্তি অবমুক্তির দুটি রায় বাতিল করে দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে জালিয়াতকারি চক্রের হোতা মাধব চন্দ্র সাহাকে এক কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

হাইকোর্ট বলেছে, আবেদনকারীদ্বয় (মাধব ও রোহী) বীরেশ চন্দ্র সাহা পোদ্দারের সন্তান হলে বাবা-মায়ের সঙ্গে তাদের পারিবারিক ছবি আদালতে দাখিল করতেন। বাবা-মায়ের নামের ভোটার তালিকা উপস্থাপন করতেন। বাবা-মা কবে মারা গেছেন, কোথায় দাহ করা হয়েছে বলতে পারতেন। তাদের অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের নাম, ঠিকানা বলতে পারতেন। নথি পর্যালোচনায় এটা দিবালোকের মত স্পষ্ট যে, আবেদনকারীদ্বয় বীরেশ চন্দ্র সাহা পোদ্দারের সন্তান হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। জাল কাগজ দাখিল করে এরা আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এই জালিয়াতি ও প্রতারক চক্র জাতির শত্রু।

বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দেন। গত বছর দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে নথিপত্র সঠিকভাবে যাচাই না করে কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি অবমুক্তির রায় জালিয়াত চক্রের অনুকূলে দেওয়ায় অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ এবং আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারকের সমালোচনা করেছে হাইকোর্ট।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, এটা স্বতঃসিদ্ধ যেকোনো মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার কারণসমূহ যথেষ্ট যুক্তিসম্পন্ন হতে হবে। যুক্তিহীন রায় বিচার বিভাগকে জনগণের নিকট প্রশ্নবিদ্ধ করে। সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার কারণগুলো যুক্তিসম্মত না হলে সে সিদ্ধান্ত বা রায় জনমনে আস্তাহীনতার সৃষ্টি করে। আর বিচারকের প্রজ্ঞা ও সততা ছাড়া মানসম্মত বিচার ব্যবস্থা কল্পনা করা যায় না।

আদালত বলেছে, মাধব ও রোহী চন্দ্র সাহা নিজেদেরকে ক্ষেত্র মোহনের নাতি ও বীরেশ চন্দ্র সাহার সন্তান দাবি করে মূল মালিকের উত্তরাধিকারী হিসাবে সম্পত্তি ফেরত পেতে মামলা করেন। কিন্তু এদের মালিকানার বিষয়টি যাচাইয়ের সুযোগ ছিল ট্রাইব্যুনালের। কিন্তু সেটা না করে শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মসনদ ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের নাগরিকত্ব সনদ বিবেচনা করে কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি জালিয়াত চক্রকে দিয়ে দেন তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

(Visited 1 times, 1 visits today)

আরও পড়ুন

পদ্মা সেতু উদ্বোধনে দাওয়াত পেলেন প্রধান বিচারপতিসহ সব বিচারপতি
পৃথক দুই মামলায় হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিন
স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা: ৩ যুবকের ফাঁসি
তারেকের স্ত্রী জোবায়দাকে পলাতক ঘোষণা করেছেন আপিল বিভাগ
দুদকের মামলায় কাল আত্মসমর্পণ করবেন সম্রাট
সম্রাটের জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন : দুদকের
ল’ ইয়ার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জমকালো এক দশক উদযাপন
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত কর আইনজীবীদের আর্থিক সহায়তা