১৭ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২রা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

রুচিহীন বক্তব্য, ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত কলিমুল্লাহ

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিকে দোষারোপ করে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিকে অনভিপ্রেত, অসত্য, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রুচিবিবর্জিত বলে দাবি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদ।

উল্লেখ্য, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার ৪৫টি অভিযোগ তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সম্প্রতি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ১০তলা ভবন ও একটি স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণকাজে উপাচার্যের অনিয়মের সত্যতা পেয়েছে ইউজিসির আরেকটি সরেজমিন তদন্ত কমিটি। এর জন্য উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ওই কমিটির প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগ ও তদন্ত কমিটির সুপারিশ নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেন উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। সেখানে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন কলিমউল্লাহ।

তিনি বলেন, এসব অভিযোগ ও ইউজিসির ‘এমন তদন্ত’ শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির আশ্রয়–প্রশ্রয় ও আশকারায় হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর আশকারায় পরিস্থিতি এ অবস্থায় এসেছে বলেও অভিযোগ করেন অধ্যাপক কলিমউল্লাহ।

উপাচার্যের ঢাকার সংবাদ সম্মেলনের পর রংপুরে তাৎক্ষণিক এক সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদ। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মশিউর রহমান উপাচার্যের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে বলেন, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদনে তাকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দেয়ায় তিনি ঢাকায় বসে মিথ্যাচার করেছেন।

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপাচার্যের বিরুদ্ধে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে। এতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রীকে আক্রমণ করে কথা বলেছেন উপাচার্য। ইউজিসি নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছেন। সরকারের উন্নয়নসহ সব বিষয়েই তিনি বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য করেছেন। তাই তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো। অতিসত্বর এসব মন্তব্যের জন্য ক্ষমা না চাইলে তার বিরুদ্ধে আন্দোলনসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। একইসঙ্গে উপাচার্যের শাস্তিসহ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে প্রত্যাহারেরও দাবি জানান শিক্ষকেরা।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে নানা ধরনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে অনুরোধ জানানো হয়। ইউজিসি তাদের নিয়ম অনুযায়ী প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তদন্ত সম্পন্ন করে মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠায়। ইউজিসি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তাই এ প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়ে মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এছাড়া অধ্যাপক কলিমউল্লাহ শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে কিছু ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বক্তব্য রেখেছেন, যা নিতান্তই অনভিপ্রেত।

মন্ত্রণালয় বলছে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রকাশনার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর একটি বাণী একবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাওয়া হয়েছিল। সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বড় ধরনের ছাত্র আন্দোলন চলছিল। সেই পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী সেই বাণী দেয়া সমীচীন মনে করেননি। এরপর বিগত এক বছরে ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আর কোনো বাণী চাওয়া হয়নি।

(Visited 1 times, 1 visits today)

আরও পড়ুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মেধাতালিকা প্রকাশ
বন্যার কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা স্থগিত
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের তৃতীয় ধাপের ফল প্রকাশ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন দুই প্রাধ্যক্ষ নিয়োগ
হচ্ছে না জেএসসি-জেডিসি!
সকল স্তরে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধের নির্দেশ রাষ্ট্রপতি
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৪১ হাজার ৮৬২
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির